আরব বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী ইসলামি রাজনৈতিক আন্দোলন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে।
আজ ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দ্য ইকনোমিক টাইমস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউজের ফ্যাক্ট শিটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেস্যান্টকে মিশর, লেবানন ও জর্ডানে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন বা বিশেষভাবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার নির্দেশও ওই নির্বাহী আদেশে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে সহিংসতার সমর্থন দিচ্ছে কিংবা তা উৎসাহিত করছে। এছাড়া ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে সহায়তার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২০-এর দশকে সেক্যুলার ও জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের বিরোধিতা করে মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠা হয়। দ্রুত এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বে একটি প্রভাবশালী সংগঠনে পরিণত হলেও, প্রায়শই গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও একে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে। ফ্যাক্ট শিটে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং অস্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা চালায়।







