কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ সমুদ্র উপকূলে ফিশিং ট্রলার ডুবির ঘটনায় দু’জন উদ্ধারকারীসহ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। এ পর্যন্ত ১৬ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরের পর এখনও তিনজনের নিখোঁজের সংবাদ জানানো হয়। এর আগে গতকাল বুধবার দুপুর আড়াই টার দিকে টেকনাফ থেকে নিত্য পণ্য ও যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনদ্বীপ যাওয়ার পথে শাহপরীর দ্বীপের অদূরে সাগরের গোলারচর মোহনায় এফবি সাদ্দাম নামের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ১৬ জন উদ্ধার হলেও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে কোস্টগার্ডের চৌকিতে হামলা, ভাংচুর চালিয়েছে দ্বীপবাসী। এ সময় কোস্টগার্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। গুলিতে একজন গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছে।
সেন্টমার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ৬৫ দিন মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেন্টমার্টিনের সাদ্দাম হোসেনের মালিকানাধীন এফবি সাদ্দাম টেকনাফ ঘাটে ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ট্রলারটি সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দেয়। এসময় সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ট্রলারটিতে ১২ জন যাত্রী উঠে। একই সঙ্গে ট্রলারটিতে ছিল ৬ জন জেলে। ট্রলারটি দুপুর আড়াই টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ অতিক্রম করে বঙ্গোপসাগরের গোলারচর মোহনায় পৌঁছলে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায়।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান জানান, ঘটনার পর পরই সেন্টমার্টিন ঘাট থেকে কয়েকটি ফিশিং ট্রলার, কয়েকটি সার্ভিস বোটযোগে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজন নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজ নুর মোহাম্মদ সৈকত (২২) সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা ও টেকনাফ সরকারি কলেজের ছাত্র।
এদিকে ট্রলার ডুবির পর উদ্ধার করতে যাওয়া একটি স্পিড বোট বুধবার সন্ধ্যার দিকে সাগরে ডুবে গেলে উদ্ধারকারী মো. ফাহাদ (২৮) এবং মো. ইসমাইল (২৭) সেন্টমার্টিন পশ্চিম কোনার পাড়ার মৃত আজম আলীর ছেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
এসময় স্পিড বোটে থাকা অপর তিনজন উদ্ধারকারী আব্দুল্লাহ, আরিফ ও উত্মত আলী রাত ১০টার দিকে সাঁতরে শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাং উপকূল দিয়ে তীরে উঠে। এনিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান মো. জাহাঙ্গীর। নিখোঁজ তিনজন হলো ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রী নুর মোহাম্মদ সৈকত ও উদ্ধারকারী ফাহাদ ও ইসমাইল।
অপরদিকে, ট্রলার ডুবির পর উদ্ধার তৎপরতার জের ধরে কোস্টগার্ডের সাথে সেন্টমার্টিনবাসির উত্তেজনা তৈরি হয়।
সেন্টমার্টিন থেকে কয়েকজন বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, ট্রলার ডুবির পর কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হলেও তারা উদ্ধার তৎপরতায় সাগরে নামেননি। দ্বীপবাসি সার্ভিস বোট ও ফিশিং ট্রলারে উদ্ধারে নামেন। এসময় ১৬ জনকে উদ্ধার করে ঘাটে ফিরলে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের সাথে ছবি তোলার চেষ্টা করে। এতে দ্বীপবাসির সাথে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
তারা বলেন, একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কোস্টগার্ডের চৌকিতে হামলা করে ভাংচুর করে এবং একটি যানবাহন পুড়িয়ে দেয়। এসময় ফাঁকা গুলি করে কোস্টগার্ড। এ ঘটনায় হানিফ নামের একজন গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়।







