ক্ষেত থেকে ফসল তুলে ঈশ্বরের নামে অর্পণ আর উৎসবের নানা আয়োজনে শুরু হয় খাসিয়া পঞ্জিকার নতুন বছর। প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান (খ্রিস্টীয় দিনপঞ্জিকা) ক্যালেন্ডার ২৪ নভেম্বর খাসিয়াদের নতুন বছর গণনা শুরু হয়। বর্ষবরণের এই উৎসবকে তারা বলেন স্ন্যাম থাইমি।
আগের দিন ঐতিহ্যবাহী নাচ খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে খাসিয়ারা সেং কুটস্নেম উৎসবের মধ্যে দিয়ে বিদায় জানান পুরনো বছরকে। বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণে খাসি জনগোষ্ঠীর হাজারো লোকজন মিলিত হন উৎসবে।
আজ শনিবার (২৩ নভেম্বর) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাগুরছড়া পুঞ্জির খেলার মাঠে দিনব্যাপী খাসি সোস্যাল কাউন্সিলের উদ্যোগে সেং কুটস্নেম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
বছরের শেষ দিনে খাসিয়া সম্প্রদায়ের সবাই আনন্দে আত্মহারা থাকেন। উৎসবে যুদ্ধ নাচ আর আনন্দ নৃত্য, ঐতিহ্যগত খেলাধুলা, পোষাক পরিধান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ খাবার খেয়ে তারা আনন্দ ফুর্তি করে নিজেদের সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করেন। খাসিদের নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর অর্ধশতাধিক স্টল সাজিয়ে বসেন উদ্যেক্তারা। এসব স্টলে খাসিদের পোষাক, বিভিন্ন জাতের ফলমূল, জুমচাষের উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হয়। উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিলোথখাসি নৃত্য, তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠা, পানগুছি খেলা। তাদের বিশ্বাস বছরের শেষ দিনে এ আনন্দ থাকবে নতুন বছর জুড়ে।
এ উৎসবের মাধ্যমে খাসিয়াদের বিলুপ্ত প্রায় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে অনেকেই আনন্দের সাথে অংশগ্রহন করেন। প্রকৃতির সানিন্দে এমন বর্ণিল আয়োজনে মুগ্ধ আগত দর্শকরা।
প্রশাসনের কঠোরভাবে নজরদারি ছিল জানান কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শামীম আকনজি।
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান জিডিসন সুচিয়ান জানান, খাসিয়াদের রীতি অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর বছরের শেষ দিন। বর্ষ বিদায় অনুষ্ঠানে খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রার্থনায় থাকে নতুন বছরে প্রতিটি দিন নিজেদের আয় উন্নতি, সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায়।
মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ী অঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজারের অধিক খাসি সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। তাদের নিজস্ব বর্ণিল ঐতিহ্যকে প্রজম্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতেই এমন আয়োজন।








