প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বেধে দেওয়া নির্ধারিত দাম মানছেন না ব্যবসায়ীরা। উল্টো দাম বেধে দেওয়ার সংবাদ পাওয়ার পর দাম বাড়িয়েছেন তারা। রোববার সকালেও যে ব্রয়লার মুরগি ১৭০টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছিলো বিকালের পর সেটা বিক্রি হয় ১৯০ টাকা। পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছিলো ২৪০ টাকা কেজি। বিকালের পর গিয়ে সেটা ঠেকে ২৬০ টাকায়। ডজনে ১০ টাকা বেড়েছে ডিমেও।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, আফতাবনগরসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
হঠাৎ দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রিতারা বলছেন: দাম বাড়ায় আমাদের কোন ভূমিকা নেই। আমরা কেজিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ করি। সেটা কখনও ১০ টাকা কখনও ৫ টাকা, বাজার বুঝে। দাম বেড়েছে খামারি ও পাইকারী পর্যায়ে। তারা দাম বাড়ালে আমাদেরও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়।
ঠিক কী করণে দাম বেড়েছে, জানতে চাইলে তারা বলেন: ঠিক কী কারণে দাম বেড়েছে আমাদের জানা নেই। বৃষ্টির কারণে অনেক মুরগি মারা গেছে আবার ডিমের উৎপাদনও কমেছে। এ কারণে দাম বেড়ে থাকতে পারে।
নির্ধারিত দামে মুরগি বিক্রি না করার কারণ হিসেবে হাতিপুল বাজারের মুরগি বিক্রেতা আতিক ইসলাম বলেন: আমরা কমে কিনতে পারলে কমে বিক্রি করবো। ব্রয়লার মুরগি ১৭৯-৮০ টাকায় বিক্রি করতে বলা হয়েছে। আমি যদি এ দামে কিনতে না পারি তাহলে বিক্রি করবো কিভাবে? আমাদেরও তো পেট আছে ভাই।
এ বাজারের সোমবার সকালে মুরগি কিনতে এসেছেন বেসরকারি চাকুরিজীবী কবির হোসেন। দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন: রোববারও দেখলাম ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। ওই দিন বিকেলে সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলো আর আজ দাম বেড়ে গেলো। দাম নির্ধারণ করে যদি সেটা মনিটরিং না করা হয় তাহলে সে দাম নির্ধারণ করার দরকার কী।
কবির হোসেনের মতো দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বাজারে মুরগির ডিম কিনতে আসা অধিকাংশ ক্রেতা। বাজারে সরকারের যথাযথ মনিটরিংয়ের দাবি করেন তারা।
বাজারগুলোতে মুরগির নির্দিষ্ট স্থানের মাংস পছন্দ মতো নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে তার জন্য গুণতে হবে ভিন্ন ভিন্ন দাম। ব্রয়লার চিকেন ব্রেস্ট ৩৮০ টাকা, থাই মিট ৩৫০ টাকা, উইংস ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এই বাজারগুলোতে ফার্মের মুরগীর লাল ডিম ১৬০-১৭০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতি ডিমের দাম পড়ছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা এবং ১৪ টাকা ১৬ পয়সা। অন্যদিকে একই বাজারে দেশি ডিম-২৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি প্রতিটি মুরগির ডিম ২০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৮ টাকা ৩৩ পয়সা।
এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দাম বেধে দেওয়ার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়: প্রতি পিস ডিম খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ১১ টাকা ১ পয়সা এবং উৎপাদক পর্যায়ে ১০ টাকা ৫৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সোনালি মুরগি প্রতি কেজি খুচরা পর্যায়ে ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা, পাইকারি পর্যায়ে ২৬৪ টাকা ৫৭ পয়সা এবং উৎপাদক পর্যায়ে ২৬০ টাকা ৭৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি খুচরা পর্যায়ে ১৭৯ টাকা ৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাইকারি পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭২ টাকা ৬১ পয়সা এবং উৎপাদক পর্যায়ে ১৬৮ টাকা ৯১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া নিয়ন্ত্রণ নেই গরুর মাংসের বাজারেও। রাজধানীর মিরপুরে আলোচিত উজ্জ্বল কসাই ৬০০টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি শুরু করলেও রাজধানীর অন্য অংশে সেটা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। ক্রেতাদের স্বার্থ সংরক্ষণে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।








