মহান বিজয় দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের ঢল নেমেছে। হোটেল, মোটেল ও গেষ্ট হাউজগুলোতে কোনো কক্ষ খালি নেই। অনেক পর্যটককে রাস্তায় রাত পার করতে হচ্ছে বলেও জানা গেছে। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের।
অতিরিক্ত মানুষের চাপে পুরো শহর জুড়ে যানজট লেগে থাকলেও পর্যটকদের আগমনে খুশি ব্যবসায়ীসহ পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
আগত পর্যটকদের মুখে কোন মাস্ক দেখা যায় নি খুব একটা। অন্যদিকে পর্যটকদের অভিযোগ ছিল হোটেল ও মোটেলের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে। অনেকেই পছন্দসই আবাসন ব্যবস্থা করতে পারেনি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশ জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
বৃহস্প্রতিবারে মহান বিজয় দিবসের ছুটির সাথে যুক্ত হয়েছে শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দলে দলে পর্যটকরা কক্সবাজার আসতে শুরু করেছে বলে জানান হোটেল মালিকরা।
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশাল যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট দেখা গেছে। যানজটের কারণে ঢাকা থেকে দৈনিক পত্রিকা কক্সবাজারে এসে পৌঁছেছে সন্ধ্যায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সমুদ্র সৈকতসহ বিভিন্ন পয়েন্ট পর্যটকদের ভিড় দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড়ও বাড়তে থাকে।
ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে আসা পর্যটক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করতে বন্ধুদের গ্রুপ নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। তবে হোটেল ভাড়া অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে।
সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে আসা পর্যটক মহিমা বলেন, বিজয় দিবসের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কক্সবাজার এসেছি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এখানে অনেক মানুষের ভিড় দেখে ভাল লাগলে ও কারো মুখে মাস্ক না থাকায় ভয়ও লাগছে।
কক্সবাজারের বিচ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, করোনার কারণে আমাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হয়েছে, এখন পর্যটকরা আসতে শুরু করায় আমরা খুব খুশি। আশা করি এবার কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউসগুলোতে কোথাও কোন কক্ষ খালি নেই। অনেক আগে থেকে এসব রুমগুলো বুকিং হয়ে গেছিল। তাই রুম না পেয়ে অনেক পর্যটককে রাস্তায় রাত পার করতে হচ্ছে।
কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে আসা পর্যটক সামিউল ও রফিকুল ইসলাম জানান, তারা সকাল থেকে চেষ্টা করেও কোন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সৈকতে তাদের রাত কাটাতে হবে বলে জানান তারা। হোটেলে রুম না পেয়ে অনেক পর্যটককে সমুদ্র সৈকত ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কৈয়ুম চৌধুরী বলেন, স্টার মানের হোটেলগুলো অনেক আগে থেকে বুকিং হয়ে গেছে।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, কক্সবাজারে অনেক পর্যটক এসেছে। এসব পর্যটকদের সন্ধ্যার পর বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও আশপাশের স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে পর্যটকরা।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ। এমনকি যেসব পর্যটক রাতে সৈকতে ও আশপাশের এলাকায় ঘুরাঘুরি করবে তাদের নিরাপত্তার জন্যও কাজ করবে টুরিস্ট পুলিশ।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটকরা যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য প্রশাসন পর্যটন স্থানগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। হোটেলে বেশি ভাড়া বা যে কোন বিষয়ে অতিরিক্ত ভাড়া বা মূল্য আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মাঠে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।








