দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার ২০ এপ্রিল সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উক্ত প্রতিবেদন নির্দিষ্ট মতাদর্শের রুচির বহিঃপ্রকাশ। এর সাথে আমাদের দেশের মৌলিক বিশ্বাস ও বাঙালি নারীর কোন সম্পর্ক নাই ।
শীর্ষ উলামায়ে কেরাম বিবৃতিতে বলেন, নারী সংস্কার কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তার প্রস্তাবনা, ভাষা ,যুক্তি হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি বিজাতীয় ধর্মবিমুখ,পরিবার বিচ্ছিন্ন ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্রবাদের বিকৃত রুচির বিকাশের বহিঃপ্রকাশ। এটি তথাকথিত ফ্যামিনিস্টদের পক্ষ থেকে এদেশের নারীর হাজার বছরের আকিদা-বিশ্বাস, নৈতিকতা, তাহজিব তামাদ্দুন ও সভ্যতা-সংস্কৃতির সাথে সম্পূর্ণরুপে সাংঘর্ষিক। এই বিতর্কিত প্রশ্নবিদ্ধ কমিশন বাংলাদেশের নারীদের সর্বসাধারণের প্রতিনিধিত্ব করে না।
উলামায়ে কেরাম বলেন, প্রতিবেদনে এক জায়গায় উপ-শিরোনাম করা হয়েছে, “পুরুষের ক্ষমতা ভেঙ্গে গড়ো সমতা”। এই ধরণের ভাষা ও প্রতিপাদ্যই নির্ধারিত ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠীর চিন্তা ও সমাজ বিচ্ছিন্নতা প্রমাণ করে। বাঙালি নারী কখনোই পুরুষকে প্রতিপক্ষ ভাবেনি বরং সহযোগী ও সহকর্মী ভেবে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। পুরুষের সাথে নারীর সম্পর্ক ক্ষমতার না বরং মায়া-মমতা ও ভালোবাসার। নারী জাতি আমাদের মা, সহধর্মিনী, বোন, কন্যা ইত্যাদি সুন্দর পরিভাষায় সসম্মানিত। মায়া-মমতা ও ভালোবাসার সম্পর্কের কারণেই বাঙালি পুরুষ নারীর মর্যাদা রক্ষায় সাধ্যমত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকার এদেশের সাধারণ জনগণের ওপরে মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতন জুলুম চালিয়েছে বিশেষ করে আলেম-ওলামাদেরকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়েছে। বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকার আলেমদের এবং ইসলামী মূল্যবোধের যথাযথ মর্যাদা দিবে বলে আমরা আশা করি।
তারা আরও বলেন, ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাশ্রুত পূর্বের সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের ফেরত যাওয়ার আড়ালে দেশকে ইসলাম মুক্তকরণ, শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলাম মুক্ত করে নাস্তিক্যবাদী নারী নীতি জোর করে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।আবারও যদি এখনও ঘৃণা কর্মকাণ্ড করা হয় তাহলে তাদেরকেও ফ্যাসিস্টদের ভাগ্যবরণ করতে হবে।
শীর্ষ উলামায়ে কেরাম প্রধান উপদেষ্টার কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনকে এখনই বাতিল করতে হবে, তাদের বিতর্কিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করতে হবে, বাংলাদেশের নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দেশের হাজার বছরের আকিদা-বিশ্বাস, নৈতিকতা ও তাহজিব তামাদ্দুম সভ্যতা-সংস্কৃতির অনুকুল সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করতে হবে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সংস্কারের নামে সরাসরি কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী প্রস্তাবনা পেশ করার মতো স্পর্ধা যারা দেখিয়েছে এবং তাদের দোসরদেরকে এখনই স্তব্ধ করতে হবে।
শীর্ষ ইসলামিক স্কলারগণ আরও বলেন, অনতিবিলম্বে এ প্রশ্নবিদ্ধ প্রস্তাবনা বাতিল করে এ দেশের আপামর জনতাকে শান্ত করুন। অন্যথায় উদ্বুত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই দায় নিতে হবে।








