২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণে অংশগ্রহণের প্রশ্নে আরব রাষ্ট্রগুলোর তীব্র আপত্তির পর, গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে নেতৃত্বের পদ থেকে বাদ পড়ছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার।
মঙ্গলবার ৯ ডিসেম্বর ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদন এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনায় স্যার ব্লেয়ার ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকলেও, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের আপত্তির কারণে তাকে শীর্ষ পদে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি পরামর্শক বা সহযোগী হিসেবে কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতে পারেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অক্টোবর মাসে বলেন, তিনি টনি ব্লেয়ারকে পছন্দ করেন, তবে শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশীদার রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন থাকা জরুরি। তিনি বলেন, “আমি জানতে চাই টনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কিনা এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল স্যার ব্লেয়ারকে সমর্থন করলেও আঞ্চলিক আরব নেতৃত্ব ইরাক যুদ্ধের ঘটনাকে এখনও অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার মার্কিন নেতৃত্বাধীন আক্রমণে যুক্তরাজ্যকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্তে ব্লেয়ারের ভূমিকা আরব বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
মিসরের সাবেক মন্ত্রী কামাল আবু এইতা দ্য নিউ আরবকে বলেন, ব্লেয়ার ঔপনিবেশিক শক্তির উত্তরাধিকার বহন করেন। গাজাকে তার নিজস্ব জনগণই শাসন করবে। বাইরের কোনো শক্তির দখল আমরা গ্রহণ করি না।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যারা অতীতে টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে পরামর্শমূলক কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তারা গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীতে ভূমিকা রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর ব্লেয়ারের জনপ্রিয়তা লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্রভাবে কমে যায়। পরে চিলকট রিপোর্টে বলা হয়, তিনি ইরাকে হুমকির মাত্রাকে অতিরঞ্জিত করেছিলেন এবং যুদ্ধকে “শেষ অবলম্বন” হিসেবে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেননি।
২০০৭ সালে রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কোয়ার্টেটের’ বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করেন, যদিও ফিলিস্তিনপন্থী মহল তাকে ইসরায়েলপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছিল। তার প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জ ও সৌদি আরবের সঙ্গে পরামর্শমূলক কাজের অভিযোগে সমালোচিত হয়।
আরব রাষ্ট্রগুলোর আপত্তির মুখে এখন গাজার শান্তি পরিষদে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে টনি ব্লেয়ারকে আর বিবেচনা করা হচ্ছে না এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে প্রতিবেদন।







