বন্যার কবলে রয়েছে দেশের ১১ জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই পরিস্থিতে মৌসুমী বন্যা এবং বৃষ্টিপাতের জরুরি তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থাসমূহ।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ (২৭ আগস্ট) মঙ্গলবার দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে।
আজ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত একটি স্টেশন রয়েছে। কুমিল্লার গোমতী নদী ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফেনীর পরশুরামের মুহুরি নদীর পরিস্থিতি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে জানা না গেলেও, উজানের তথ্যের ভিত্তিতে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ ত্রিপুরার বাগাফায় ১০ মিলিমিটার, ত্রিপুরার কুমারঘাটে ৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার, সুনামুরায় ৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার, সিপাহীজলায় ৪ দশমিক ৫ মিলিমিটার, অমরপুরে ৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং গন্ধছড়ায় ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে উল্লেখযোগ্য হারে টেকনাফে ১০, পটুয়াখালীতে ১৫ দশমিক ৫, সাতক্ষীরায় ২১ দশমিক ৬, বরিশাল ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং টেকনাফে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বিগত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী জেলার ভারতীয় ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং ত্রিপুরা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ অববাহিকাসমূহে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি এবং উজানের নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত আছে। ফলে বর্তমানে পূর্বাঞ্চলীয় জেলাসমূহের নিম্নাঞ্চলের বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত আছে।
মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলার নদীসমূহের পানি সমতল বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘন্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘন্টায় দেশের পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় এ অঞ্চলের কুমিল্লা জেলার গোমতী ও ফেনী জেলার মুহুরী নদীর পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ ঘন্টায় কুমিল্লা জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘন্টায় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ সময় এ অঞ্চলের বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি, কর্ণফুলি, হালদা ও অন্যান্য প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে যার ফলে এই অঞ্চলের প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে, উত্তরাঞ্চলের তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান আছে, যা আগামী ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।








