এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগরসহ কয়েকটি জেলায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করতে দেখা গেছে।
রাজধানীর গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, শাহবাগ, মতিঝিল, ফার্মগেট, পান্থপথ ও ধানমন্ডিসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, যেসব এলাকায় জনসমাগমের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থানে সকাল থেকেই পুলিশের বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পরিদর্শনে গিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র মহররম মাসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় বিজিবি ও সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি কর্মসূচি, মিছিল বা শোডাউনকে কেন্দ্র করে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি এলাকায় অপতৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির পক্ষ থেকেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। নগরীর ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে বসানো হয়েছে বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট। পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও অন্যান্য গোয়েন্দা ইউনিট সক্রিয় রয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ফোর্স।
ডিএমপি জানায়, জুন মাসে এ যাবৎ রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জুনের শুরু থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত বিগত ২০ দিনে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জন গ্রেপ্তার ও ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, যেকোনো মূল্যে রাজধানীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিএমপি পুলিশ বদ্ধপরিকর।
এর আগে জুলাই ছাত্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১০ মে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১১ মে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে। সংশোধিত ওই আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের আমলে গত ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন পায়। এতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।







