রিদুয়ান ইসলাম: মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে উড়ো চিঠি দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক অধ্যাপককে তিনবার হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাসকে আবারও হ্ত্যার হুমকি দিয়ে ডাকযোগে বেনামে এক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের কটাক্ষ করে মিল্টন বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়৷
সোমবার ১২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অফিস কক্ষে বেনামি চিঠিটি রেখে যায় পিওন। পরে অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান।
মিল্টন বিশ্বাস জানান, আজ দুপুরে বিভাগে ডাকপিয়ন এসে চিঠিটি অফিসে দিয়ে যান। এরপর কয়েক পৃষ্ঠার চিঠিটি খুলে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতাদের ছবি বিকৃত করে সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য লেখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২৯ জানুয়ারি ও ১৫ মে যেসব চিঠি এসেছে সবগুলো মিলিয়ে বুঝা যাচ্ছে চিঠির লেখক এক বা একাধিক। তারা মুক্তমনা লেখকদের শত্রু। আমি দীর্ঘদিন যাবত এই বর্তমান সরকার, শেখ হাসিনা সরকারের নানা ইস্যুতে কলাম লিখে আসছি। কয়েক হাজার কলাম কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সরকারের জন্য লিখেছি। এজন্য তারা টার্গেট করে থাকতে পারে।
আইনি পদক্ষেপের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রথম চিঠি পাবার পর আমি থানায় সাধারণ ডায়েরি করে রেখেছিলাম। ডিবি তা তদন্ত করছে। এখনো তদন্ত চলমান। কিন্তু সেরকম কোনো আপডেট আমি পাচ্ছি না৷
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত ও প্রদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জিডির কপি দিয়ে এসেছি। আগেই উপাচার্য মহোদয়ও বিষয়টা জানেন। ওনারা জানিয়েছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারাও বলবেন যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।
এর আগেও চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি, ১৫ মে একই ধরনের চিঠি দিয়ে মিল্টন বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। সেই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তিনি। এই জিডির তদন্তে ছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক হাসান মাতুব্বর। তিনি বলেন, ‘আমরা আইনি যে প্রক্রিয়া তা চালিয়ে যাচ্ছি। এখনও কোনো আপডেট হয়নি, তদন্ত চলমান।’
এর আগেও ২০১৪ সালে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন নিয়ে কলাম লেখার কারণে ড. মিল্টন বিশ্বাসকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।







