গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সংক্রান্ত ঘটনায় গুলিবর্ষণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের কেন্দ্র ছিল মিনিয়াপলিস। যেখানে এক ফেডারেল ইমিগ্রেশন অফিসার এক বিক্ষোভকারী মহিলাকে এবং পোর্টল্যান্ডে গুলি চালিয়ে দুই বিক্ষোভকারীরকে হত্যা করে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার হাজার হাজার মানুষ এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিনিয়াপলিসের রাজপথে নেমে বিক্ষোভ করেন। তবে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ ছিল, আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মিনিয়াপলিসের দুই সন্তানের মা মেগান মুর বলেছেন, আমরা এখন সবাই ভয়ের মধ্যে বাস করছি। আইসিই এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে কেউ নিরাপদ বোধ করছে না এবং এটি অগ্রহণযোগ্য।
গত সপ্তাহে মিনিয়াপলিসে একজন অভিবাসন অফিসারের হাতে রেনি গুড নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়, যা বিক্ষোভের প্রধান কারণ হিসেবে ওঠে আসে। গুডের মৃত্যুর পর থেকে মিনিয়াপলিসে চলা বিক্ষোভে উত্তেজনা বাড়ে এবং শুক্রবার রাতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে সহিংসতা সৃষ্টি হয়। বরফ ও পাথর ছুঁড়ে পুলিশের উপর আক্রমণ চালানো হয়, যার ফলে এক পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হন।
মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেছেন, বেশিরভাগ বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও যারা সম্পত্তি নষ্ট করছে বা অন্যদের বিপদে ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চান এই ধরনের বিশৃঙ্খলা, কিন্তু আমরা তাকে সেই সুযোগ দেব না।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ট্রাম্প আমাদের রাজ্যে হাজার হাজার সশস্ত্র ফেডারেল অফিসার পাঠিয়েছিলেন এবং তাদের হাতে একজন নিহত হতে সময় লাগে মাত্র একদিন। তিনি এখন আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখতে চান। আমরা তাকে সেই সুযোগ দেব না।
মিনিয়াপলিসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কনর ম্যালোনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আমি তাদের (অভিবাসী) মানুষকে হয়রানি করতে দেখছি, এটা অত্যন্ত বিরক্তিকর। তিনি আরও জানান, বিক্ষোভে তিনি একদিকে তুষারপাত ও শীতের তীব্রতার মধ্যেও অংশ নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে নেন যাতে লেখা ছিল, ‘মিনেসোটা থেকে বরফ সরে গেল!’ এবং ‘মিনেসোটায় বরফ গলে গেল।’
ফেডারেল ইমিগ্রেশন অফিসারের হাতে একজন নাগরিকের মৃত্যুর পর, অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠী এবং সামাজিক আন্দোলন সংগঠন ‘ইনডিভিসিবল’ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একযোগে বিক্ষোভের ডাক দেয়। এই বিক্ষোভগুলোর মধ্যে টেক্সাস, ক্যানসাস, নিউ মেক্সিকো, ওহিও এবং ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলোর নাম উল্লেখযোগ্য।
মিনিয়াপলিসে অভিবাসী অধিকার গোষ্ঠী একটি পার্কে সমাবেশ করে আইসিই-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে এবং নিহত গুড ও অভিবাসীদের সমর্থন জানায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছেন, গুলি চালানো ঘটনাগুলো আত্মরক্ষার জন্য ছিল, যেখানে অফিসাররা দাবি করেছেন, তাদের উপর আক্রমণ করার জন্য যানবাহনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল।
এদিকে, মিনিয়াপলিসের ফেডারেল অফিসে পরিদর্শন করতে গিয়ে কংগ্রেস সদস্যরা বাধার সম্মুখীন হন এবং প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
এই সহিংসতা এবং প্রতিবাদের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন আইন সংস্কারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন এবং তারা জানাচ্ছেন যে, তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে যতদিন না অভিবাসন ব্যবস্থা আরও মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত না হয়।







