নেপালে সম্প্রতি রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে হিন্দুত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও জমায়েত হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহের সমর্থনে রোববার কাঠমান্ডুর রাজপথে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হন। এ সময় ‘আমরা আবার রাজতন্ত্র চাই’ এবং নেপালকে পুনরায় হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষণার দাবি তোলা হয়।
ভয়েস অফ আমেরিকা জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কাঠমাণ্ডুর এক প্রান্তে সমবেত হয়ে সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্রর সমর্থনে স্লোগান দেয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। তারা শহরের কেন্দ্রস্থলে যাওয়ারও চেষ্টা করে। দাঙ্গা পুলিশ তাদের আটকে দেয়, বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের মারধোর করে, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছোঁড়ে। উভয়পক্ষই অল্প আহত হয়েছে। মিছিলের আগে কর্তৃপক্ষ শহরের প্রধান এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল।
এসময় উত্তেজিত জনতা স্লোগান দেয়, আমরা আমাদের রাজা ও দেশকে আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালবাসি। ফিরিয়ে আনো রাজতন্ত্র। শেষ করো প্রজাতন্ত্র।
এদিকে নেপালের পশ্চিমাঞ্চল সফর শেষে জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হন। জমায়েতে অংশগ্রহণকারীরা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জ্ঞানেন্দ্রকে আবার রাজপ্রাসাদে বসবাসের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়াও নেপালকে পুনরায় হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তোলা হয়। জ্ঞানেন্দ্রের সমর্থনে বাইক মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, রাজতন্ত্রপন্থী এই জমায়েতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে জ্ঞানেন্দ্রের সমর্থক হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি দাবি করেছে, জমায়েতে লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
২০০৮ সালের মে মাসে নেপালের সংবিধান সংশোধন করে ২৪০ বছরের পুরনো রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করা হয় এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে নেপাল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে নতুন সংবিধান অনুমোদন করে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জ্ঞানেন্দ্র শাহ সাধারণ নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন এবং তার কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই। এছাড়াও তাকে রাজপ্রাসাদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তিনি কোনো সরকারি সুবিধাও পান না।
নেপালে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকাকালীন দেশটি হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর নেপালকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং সংবিধানেও এ বিষয়টি স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৭৬৮ সালে নেপালে শাহ রাজবংশের সূচনা হয়। জ্ঞানেন্দ্র শাহের দাদা রাজা বীরেন্দ্র শাহ ছিলেন শাহ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বীনারায়ণ শাহের নবম প্রজন্ম। ২০০১ সালের জুন মাসে রাজপ্রাসাদে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রাজা বীরেন্দ্র ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এ ঘটনার পর জ্ঞানেন্দ্র সিংহাসনে বসেন। তবে ২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।








