শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা দেখতে পেলাম, যারা এতদিন আমাদের দেশকে স্বীকৃতি দেয়নি তারাও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে থাকল।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জাফর ইকবাল বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে জয় বাংলা স্লোগানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নির্মম হত্যার পর পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগানের আলোকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ স্লোগানের আর্বিভাব হলো এ দেশে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা দেখতে পেলাম, যারা এতদিন আমাদের দেশকে স্বীকৃতি দেয়নি তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে থাকল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, চীন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যতম। এরপর আমরা কী দেখতে পেলাম, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারাই দেশের মন্ত্রিত্বের চেয়ারে। এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয়।
১৫ আগস্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন খবর কাগজ ছাপা হয়, আমি এখনো সেই লেখা পড়তে পারি না৷ চিন্তা করা যায়? বঙ্গবন্ধুর মত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে! তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে! তাঁর তিনজন ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তার মধ্যে একজনের বয়স দশ বছর। দু’জন বিবাহিত ছেলের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে, এর মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা! এতো বিভৎস হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে হতে পারে কিনা আমি জানি না৷
পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, আমি অপেক্ষা করছি কবে শুনতে পাবো পাকিস্তান দেউলিয়া হয়ে গেছে। পাকিস্তানের অবস্থা এখন খুবই নাজেহাল। ইতোমধ্যে তারা নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে, এখন শুধু বাকি অর্থনৈতিক ভাবে দেউলিয়া হতে৷
সম্প্রতি ভারতের চাঁদে অবতরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা দেখে আমার হিংসা হয়েছে। আমার দুঃখ লাগে আমরা এখনো টেকনোলজির দিক থেকে অগ্রসর হতে পারিনি। আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য ইলন মাস্কের কাছে নির্ভর করতে হয়েছে। আমার বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে এটা হতে দিতেন না। টেকনোলজির দিকে বঙ্গবন্ধুর একটা বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। সে বিষয়ে তার লেখা ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বইতে আলোকপাত করেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ছিল তারা কিন্তু অত্যন্ত শক্তভাবে ঐক্যবদ্ধ৷ আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ বিশ্বাস করি আমাদের মধ্যেই নানা ধরনের বিভাজন। এই বিভাজন যদি না যায় তাহলে আমাদের কপালে আরও দুর্গতি আছে। তাই সেই বিভাজন কীভাবে দূর করা যায় আসুন সবাই ঐকবদ্ধ হয়ে সেই চেষ্টা করি৷
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আমাদের দেশকে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যেন ক্ষমতায় থাকতে না পারে সেজন্য দেশি বিদেশি নানা চক্রান্ত চলছেই। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা ছাড়া অন্য কোন বিকল্প নেই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের সভাপতি অধ্যাপক ড. হোসেন আরা বেগমের সভাপতিত্বে ও সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মোস্তাসির হাসান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা, অধ্যাপক লাইসা আহমদ লিসা ও স্বাধীনতা শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক কাজী মো নাসির উদ্দীন।







