দিনের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল নেপাল। পরের ম্যাচে ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ফের নিজেদের দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ। চার ম্যাচ শেষে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের ঝুলিতে পয়েন্ট ১২।
ম্যাচের দুটো গোলই এসেছে শ্রীমতি তৃষ্ণা রাণী সরকার। হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসলেও তা করতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। দূরপাল্লার শটে ম্যাচের তৃতীয় গোল করেছেন স্বপ্না রাণী। লেফট উইংয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন গত ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা শান্তি মারডি।
খেলার প্রথম মিনিটে আক্রমণ বাংলাদেশের, কর্নার আদায় করে নিলেও বিপদে পড়েনি ভুটান। ষষ্ঠ মিনিটে রাইট উইং দিয়ে ভুটানের আক্রমণ গোলরক্ষক মিলি আক্তারের বুদ্ধিমত্তায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ১৪ মিনিটে ভুটানের গোলকিপার ভুল করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তৃষ্ণা রাণী।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ, বন্যা খাতুনকে উঠিয়ে স্বপ্না রাণীকে মাঠে নামানো হয়। এ সময় তৃষ্ণা সহজ আরও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মিনিট দুই পর বাংলাদেশের প্রথম গোল, এবার আর ভুল করেননি তৃষ্ণা। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় পিটার জেমস বাটলারের দল।
গোলের ডেডলক ভেঙে এবার আরও আক্রমণাত্মক বাংলাদেশ। তবে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজেরা কিছুটা চাপে পড়ে, পরপর তিনটি কর্নার আদায় করে নেয় ভুটান। ৪৩ মিনিটে ভুটান সুযোগ পেলেও বারের অনেক উপর দিয়ে যায় বল। পরে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকেরা।
বিরতির পর বাংলাদেশের বেশ কিছু আক্রমণ ছিল, তবে গোল আদায়ে অপেক্ষা করতে হয়েছিলে নবীরণ-ঐশীদের। ৬১ মিনিটে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ, স্বপ্না শট নিলে বল চলে যায় বাইরে, গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। পরের মিনিটে নিশ্চিত সুযোগের বল আবারও বাইরে মারেন শিখা।
৬৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তৃষ্ণা। ভুটানের ডিফেন্ডারদের ভুলে ব্যবধান হয় ২-০। ৭৩ মিনিটের সময় দূরপাল্লার শটে পেনাল্টি হাতছাড়ার প্রায়শ্চিত্ত করেন স্বপ্না, ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে থাকলেও সুযোগ হাতছাড়ার মহড়া ছিল বাংলাদেশের। স্বপ্না, তৃষ্ণা, মুনকি আক্তাররা এতগুলো সুযোগ হাতছাড়া না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। শেষ অবধি ৩-০তে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের বাঘিনীরা।








