১ হাজার ৮৫০টি গুমের অভিযোগের মধ্যে বহু ঘটনার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। সেবিষয়ে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে। বিগত আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী সরকারের আমলে বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত দমননীতির অংশ হিসেবে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সকালে গুলশানে গুম সংক্রান্ত কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে একথা জানায় কমিশন।
কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে আড়াই শতাধিক গুম হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত দমননীতির অংশ হিসেবে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া, ভারতে পাঠিয়ে দিয়ে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেফতারও দেখানো হতো। মেধাবী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও তা থেকে রেহাই পায়নি।

কমিশনে দাখিলকৃত অভিযোগসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গুমের শিকার ভিকটিমের সম্ভাব্য ৪ ধরনের পরিণতি হয়। তাকে হত্যা করা হয়, বিচারের আগেই মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করে সাধারণত জঙ্গি তকমা দিয়ে বাংলাদেশেই বিচারাধীন বা নতুন ফৌজদারী মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দিয়ে ভারতের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হয় অথবা ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রে মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে স্পষ্ট হয় যে, বিগত সরকারের শাসনামলে গুম একটি সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের ছায়াতলে ইসলামী উগ্রবাদের হুমকিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন এবং শাসন দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। যার ভিকটিম ছিল মেধাবী শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি পেশাজীবি তথা সাধারণ জনগণ।








