ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের দখলমুক্ত অংশ ন্যাটোভুক্ত করে যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করা উচিত। স্কাই নিউজের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এ মন্তব্য করেছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কিকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি ন্যাটোর সদস্যপদ গ্রহণ করবেন কিনা? এর জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি ন্যাটোর সদস্য হতে তখনই রাজি হবেন, যদি পুরো ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেয়া হয়। এরপর ইউক্রেন ‘কূটনৈতিক উপায়ে’ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল ফেরত নেয়া নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করতে পারে বলেও তিনি জানান।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন কখনোই এ ধরনের প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখার সুযোগ পায়নি, কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ আমাদের প্রস্তাব দেয়নি। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাসহ পুরো দেশকে ন্যাটোর সদস্যপদ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আপনি একটি দেশের শুধুমাত্র একটি অংশকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন না। কারণ এভাবেই আপনি বুঝতে পারবেন ইউক্রেনের সকল এলাকা শুধুমাত্র ইউক্রেনের ভূখণ্ড আর অন্যটি রাশিয়া।
গত তিন বছরের যুদ্ধে দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া এবং খেরসন ইউক্রেনের এই চার প্রদেশের দখল নিয়েছে রুশ বাহিনী। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে চার প্রদেশকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণাও দিয়েছে মস্কো।
দখলের পর মস্কোর পক্ষ থেকে কিয়েভকে প্রস্তাব দেয়া হয়, যদি ইউক্রেন আনুষ্ঠানিক ও সাংবিধানিকভাবে ক্রিমিয়া, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসনকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ করবে রুশ বাহিনী।
এর পাল্টা জবাবে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি এই ৫ অঞ্চল ইউক্রেনকে ফিরিয়ে দেয় এবং নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে তিনি যুদ্ধবিরতির সংলাপ শুরু করতে রাজি আছেন।
জেলেনস্কি আগেই জানিয়েছেন, ইউক্রেনের মিত্ররা যথেষ্ট দৃঢ় সংকল্প দেখালে আগামী বছর যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এদিকে, পশ্চিমা মহলে ‘ওয়েস্ট জার্মান মডেল’ নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে বিভক্ত একটি দেশকেও ন্যাটো সদস্যপদ দেয়া হয়েছিল। তবে এই মডেল নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসেনি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও ইউক্রেনকে পুরোপুরি দখলে আনার ইচ্ছা ত্যাগ করেছেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি।







