শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া গারোলাইনে শেষ হলো দু’দিন দিনব্যাপী ওয়ানগালা উৎসব। ‘ওয়ানগালা’ হচ্ছে গারো সম্প্রদায়ের ‘নবান্ন উৎসব।’
গারোদের বিশ্বাস, শস্য দেবতার ওপর নির্ভর করে ফসলের ভালো ফসল-ফলন। এই শস্য দেবতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির পাশাপাশি সকল পরিবারে সুখ, ভালোবাসা এবং মঙ্গল কামনা করে ওয়ানগালা উৎসব পালন করে গারো সম্প্রদায়।
শ্রীমঙ্গলের আয়োজকরা জানান, এক সময় গারো পাহাড় এলাকায় জুম চাষ হতো এবং বছরে মাত্র একটি ফসল হতো। তখন ওই জুম বা ধান ঘরে ওঠানোর সময় গারোদের শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’ কে উৎসর্গ করে এ উৎসবের আয়োজন করা হতো। জানা গেছে, গারোদের ওই শস্য দেবতা এক সময় পাহাড়ি এলাকার গারোদের হাতে কিছু শস্য দিয়ে বলেছিল, তোমরা এটা রোপন কর, তাতে তোমাদের আহারের সংস্থান হবে এবং তোমরা যে শস্য পাবে তা থেকে সামান্য কিছু শস্য আমার নামে উৎসর্গ করবে। এরপর থেকেই গারোরা তাদের শস্য দেবতাকে এই ফসল উৎসর্গ করে আসছে।
এখন, গারোরা অনেকে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পরেও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রথাটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একসাথে উদযাপন করে। অর্থাৎ এক সময় তারা তাদের শস্য দেবতা মিসি সালজংকে উৎসর্গ করে ওয়ানগালা পালন করলেও এখন তারা নতুন ফসল কেটে যিশু খ্রিষ্ট বা ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে ওয়ানগালা পালন করেন।
এবারও জেলার নানা জাায়গা থেকে খ্রিষ্টভক্ত এবং গারাগানজিং, কতচু, রুগা, মমিন, বাবিল, দোয়াল, মাতচি, মিগাম, চিবক, আচদং, মাতাবেং ও আরেং নামে ১২টি গোত্রের গারো সম্প্রদায়ের লোকজন ওয়ানগালা উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
‘ওয়ানগালা’ গারো জাতিগোষ্ঠীর ঐহিত্যবাহী উৎসব। উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন গারোপল্লী ও পাড়া ছিল আনন্দমুখর। প্রতি বছরের মতো ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবধারায় এবারও ‘ওয়ানগালা’ অনুষ্ঠিত হলো।







