চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Group

রায় কার্যকরই সমাজে স্থিতি আনবে

৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

Nagod
Bkash July

ঢাকার পাশে আমিনবাজারে ডাকাত সন্দেহে ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২৫ জনকে খালাস দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৪৪ জন আসামী উপস্থিত ছিলেন। এই রায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা এই মর্মান্তিক ঘটনার দিকে তাকালে দেখতে পাই কী নৃশংসভাবে এই ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে সাত বন্ধু ঘুরতে গিয়েছিলেন ঢাকার অদূরে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে। দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সাত ছাত্রকে ডাকাত বলে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এতে ছয় ছাত্র মারা যান। একজন প্রাণে বেঁচে যান। ১০ বছর আগের এই হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছেন ঢাকা জেলার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ। সেদিনের ঘটনায় শামস রহিম, তৌহিদুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল, কামরুজ্জামান, টিপু সুলতান ও সিতাব জাবির প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান আল-আমিন। ২০১৬ সালে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেন। আদালতে আল-আমিনের দেওয়া সাক্ষ্য ও সেদিনের ঘটনার বিবরণ পাওয়া যায়।

আল-আমিন ২০১৬ সালের মে মাসে বলেছিলেন: ২০১১ সালের ১৭ জুলাই পবিত্র শবে বরাতের রাতে তিনিসহ সাত বন্ধু দারুস সালাম এলাকার একটি মসজিদে নামাজ পড়তে যান। নামাজ পড়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা মসজিদ থেকে বের হন। দিবাগত রাত ১২টার দিকে তারা বিরিয়ানি খেতে গাবতলীর দিকে যান। কিন্তু বিরিয়ানি না পেয়ে তারা হাঁটতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা হাঁটতে হাঁটতে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে পৌঁছান। রাত সোয়া একটার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তারা এলাকাটির একটি কুঁড়েঘরে আশ্রয় নেন। আচমকা একদল লোক ডাকাত বলে তাদের ওপর হামলা চালায়।

আল-আমিন বলেছিল: হঠাৎ একদল লোক আমাদের চোখে টর্চলাইট ধরে জানতে চায়, আমরা কোথা থেকে এসেছি। আমরা ছাত্র পরিচয় দিয়ে দারুস সালাম থেকে ঘুরতে এসেছি জানালে তারা আমাদের বলে, “তোরা ডাকাত”। এরপর সবাই আমাদের মারতে শুরু করে। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে আল-আমিন বলেছিলেন, বাঁচার আকুতি জানালেও আসামিরা তাদের মারধর করেই যাচ্ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ডাকাত নই, আমরা ছাত্র—এটা বলার পরও আসামিরা আমাদের ছাড়েনি। আমাদের মারধর করেছে।

আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার একটি প্রবণতা আছে এই সমাজের লোকদের মধ্যে। তার ওপর তৎক্ষণাৎ বিচার আরেকটি অপরাধ প্রবণ মনস্তত্ত্ব। ছয়জন ছাত্রকে কয়েক ব্যক্তি বললো তারা ডাকাতি করতে এসেছে আর তাতেই তাদের অমানুষের মত মারতে শুরু করেছে উম্মত্ত জনতা। এই ধরণের ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। বাড্ডায় একজন মাকে ছেলেধরা বলে পিটিয়ে মেরেছে শিক্ষিত ভদ্র সমাজের লোকজন। ছয় ছাত্র হত্যাকাণ্ডের এই বিচারিক রায় যেন বদল না হয় এবং অপরাধীরা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় আমরা এটাই প্রত্যাশা করি। আমরা মনে করি, এ ধরণের রায় বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।

BSH
Bellow Post-Green View
Bkash Cash Back