ট্রাম্পের ইরান সমঝোতা, দূরত্ব বাড়ছে কি নেতানিয়াহুর সঙ্গে?

সমুদ্রের মধ্যে একটি বড় সামরিক জাহাজ এবং দুটি হেলিকপ্টার দেখা যাচ্ছে, আকাশে কিছু মেঘ রয়েছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐকমত্যে ফাটল দেখা যাচ্ছে। জনমতের পরিবর্তন, নির্বাচনী ফলাফল এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান-সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ইসরায়েল ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ ও ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে এই পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা, লেবানন ও ইরান ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে। ফলে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের পরিবর্তে মানবিক সংকট, যুদ্ধের নৈতিকতা এবং করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।
এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী রাজনীতিতেও। নিউ জার্সি, ইলিনয় ও ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে প্রগতিশীল প্রার্থীরা ইসরায়েলপন্থী অর্থায়ন ও প্রচারণার বিরুদ্ধে জয় পেয়েছেন। এতে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং নেটওয়ার্কগুলোর প্রভাব আগের তুলনায় কম কার্যকর হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইপ্যাকসহ ইসরায়েলপন্থী সংগঠনগুলো এখনো মার্কিন রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু তাদের প্রভাব আর অপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে।
এদিকে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু, পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন আলোচনা এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই ধরনের হিসাব কাজ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করে।
একই সঙ্গে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সামঞ্জস্য নেই বলেও মনে করা হচ্ছে। ফলে তিনি সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে সমঝোতার পথে হাঁটছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কৌশলগত লক্ষ্যও এক নয়। যেখানে ইসরায়েল ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ বজায় রাখতে চায়, সেখানে ট্রাম্প দ্রুত সমঝোতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক এখনো ঘনিষ্ঠ থাকলেও জনমতের স্তরে পরিবর্তন শুরু হয়েছে। একসময় ইসরায়েলের সমালোচনা করা রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হলেও এখন কিছু নির্বাচনী এলাকায় ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থন করাও রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, ট্রাম্পের ইরান-সমঝোতা কেবল একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়; এটি মার্কিন ভোটারদের মনোভাব, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতির পরিবর্তিত রাজনৈতিক অঙ্কেরও প্রতিফলন।






