ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এই অঙ্ক ওয়াশিংটনের প্রকাশ্যে দেওয়া হিসাবের তিন গুণেরও বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত ছয়টি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পেন্টাগনের প্রাক্কলন অনুযায়ী যুদ্ধের মোট ব্যয় ৮০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। এতে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় এবং ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানি হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (নাভসেন্ট) ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘাঁটিটি পুনর্নির্মাণে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত এই স্থাপনার ভবন, জেটি, গুদামঘর এবং সামরিক আবাসন মেরামতেও কয়েকশ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এনবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইরান। ফলে যুদ্ধের ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগে অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের পরিচালক রাসেল ভট কংগ্রেসে বলেছিলেন, যুদ্ধের জন্য প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর আগে ১২ মে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জে হার্স্টও একই ধরনের হিসাব দিয়ে জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছিল ২৯ বিলিয়ন ডলার। এনবিসি প্রশ্ন তুলেছে, ছয় সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চললেও সরকারি হিসাব প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কারণ কী। এ বিষয়ে ভট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত মে মাসে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পূরক তহবিল চেয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৭২ বিলিয়ন ডলার ছিল যুদ্ধ-সম্পর্কিত ব্যয়ের জন্য। এনবিসির দাবি, ইরানি হামলায় মার্কিন সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রশাসন প্রকাশ করছে না। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুদ্ধ পরিচালনার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখাচ্ছেন, এমনকি কিছু ব্যয় হিসাবের বাইরে রাখছেন।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস ও ডিজেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে মার্কিন ভোক্তাদের অতিরিক্ত ৬৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।







