ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.) ভালো কাজের পর যে দোয়া করেছিলেন

ছবি: সংগৃহীত
মানুষ জীবনে নানা ধরনের ভালো কাজ করে। কেউ নামাজ আদায় করেন, কেউ দান-সদকা করেন, আবার কেউ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তবে ভালো কাজ করার পাশাপাশি সেই কাজ আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করাও গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে এমনই একটি দোয়ার কথা বলা হয়েছে, যা করেছিলেন হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)।
কাবাঘরের ভিত্তি নির্মাণের সময় তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, যেন তাদের এই কাজ কবুল করা হয়। ঘটনাটি উল্লেখ রয়েছে পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারার ১২৭ নম্বর আয়াতে।
দোয়াটি হলো—
আরবি:
رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে (এই কাজ) কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
সূত্র: সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৭।
কাবাঘর নির্মাণের সময় প্রার্থনা
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) কাবাঘরের ভিত্তি উঁচু করার সময় এই দোয়া করেছিলেন। তাঁরা একটি মহান কাজ সম্পন্ন করছিলেন, তবু নিজেদের কাজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ভালো কাজ করার পর আত্মতৃপ্তিতে ভোগা কিংবা নিজের কাজ নিয়ে অহংকার করার পরিবর্তে আল্লাহর কাছে কবুলিয়ত কামনা করা উচিত।
দোয়াটির শিক্ষা কী?
দোয়াটির প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ‘রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না’। অর্থাৎ, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন।’ এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজেদের কাজ গ্রহণযোগ্য হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, ‘ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম’। অর্থাৎ, ‘নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ আল্লাহ মানুষের কথা শোনেন এবং তার মনের অবস্থা ও নিয়ত সম্পর্কে জানেন। তাই শুধু কাজের বাহ্যিক রূপ নয়, কাজের পেছনে আন্তরিকতাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিনের জীবনে এই দোয়া
নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকার করার পর আল্লাহর কাছে কাজটি কবুল হওয়ার দোয়া করা যায়। এ দোয়া মানুষকে বিনয়ী থাকতে এবং নিজের আমল নিয়ে অহংকার না করতে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তবে শুধু দোয়া পড়লেই কোনো কাজ কবুল হয়েছে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। বরং আন্তরিকভাবে ভালো কাজ করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে তা কবুল হওয়ার প্রার্থনা করাই এই দোয়ার মূল শিক্ষা।
হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর এই প্রার্থনা আমাদের শেখায়, ভালো কাজ করার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করাও জরুরি। তাই আমলের পর এই কোরআনিক দোয়াটি পড়া যেতে পারে ‘রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামীউল আলীম।





