সিরাজুল ইসলাম সুমন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে প্রক্সি দিয়ে ভর্তি হতে আসা আহসান নামের এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে এক নেতার দাবি, তিনি ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন না।
গত (১৭ আগস্ট) বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা হলে ওই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে তার বাবার কাছে টাকা দাবি করে। ওই দিন সন্ধ্যায় আহসানের বাবা গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় তার ছেলেকে আটকে রেখে মোবাইলে টাকা দাবি করেছেন। এই ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় তন্ময়সহ চার ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে ছাত্রলীগ নেতা তন্ময়ের দাবি, প্রক্সিকাণ্ডে মামলা থাকলেও বৃহস্পতিবারের ঘটনায় সে সম্পৃক্ত ছিল না। সেই সময় হলের বাইরে ছিলেন তিনি। এমনকি যে মোবাইল থেকে তন্ময়ের পরিচয় দিয়ে টাকা চাওয়া হয়েছে সেটিও তার নয়।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগে ভর্তি হতে মায়ের সঙ্গে স্যার জগদীশ চন্দ্র অ্যাকাডেমিক ভবনে আসেন আহসান হাবীব নামের একজন শিক্ষার্থী। ভর্তি হয়ে ভবন থেকে বের হয়ে আসলে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জন ব্যক্তি আহসান হাবীবকে অপহরণ করে শের-ই-বাংলা হলের তৃতীয় তলায় আটকে রাখে। এরপর অপহরণকারীরা মুঠোফোনে তার বাবার কাছে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এদিকে দীর্ঘক্ষণ ছেলের খোঁজ না পেয়ে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান আহসান হাবীবের মা।
পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রক্টরের দপ্তরে নিয়ে আসা হয়। এসময় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আহসান হাবীব স্বীকার করেন, তিনি বাকি আসামিদের সহযোগিতায় প্রক্সির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। এজন্য পলাতক আসামী প্রাঙ্গণের সঙ্গে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুক্তি হয়। ভর্তির পূর্বে তিনি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি ৬০ হাজার টাকা ভর্তির পর দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু ভর্তির পর তিনি সেই টাকা না দেওয়ায় বাকি আসামীরা তাকে অপহরণ করে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় শুক্রবার ভর্তিচ্ছুর মা সন্তানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা মুশফিক তাহমিদ তন্ময়কে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন শেরে বাংলা হল ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক রাজু আহমেদ, ছাত্রলীগ কর্মী সাকোয়ান সিদ্দিক প্রাঙ্গণ ও মহিবুল মমিন সনেট। একই দিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই চার ছাত্রলীগ নেতা ও ভর্তিচ্ছু আহসানকে আসামি করে মতিহার থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন এই চারজনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
মামলা দায়েরের পর এক সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে। যদিও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
হল ছাত্রলীগের একাধিক সূত্র চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছে, ওই দিন শেরে বাংলা হলে আসেনি ছাত্রলীগ নেতা তন্ময়। এছাড়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর বাবাকে যে ফোন নম্বর থেকে কল দিয়ে চাঁদা চাওয়া হয়েছে, সেটিও তন্ময়ের ফোন নম্বর নয় বলে দাবি। শেরে বাংলা ফজলুল হক হলের সেদিনের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষন করলে ঘটনার আসল চিত্র বের হয়ে আসবে বলেও দাবি করেন তারা।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, প্রক্টরিয়াল বডির তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের কাজ করছে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমরা প্রক্সি দিয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মুশফিক তাহমিদ তন্ময়সহ কয়েকজনের নাম পেয়েছি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।








