রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগসংক্রান্ত চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বক্তব্য দিতে পারেন।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন স্পিকার। গত ১৯ জুলাই স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি ব্যাংকক সফরে গিয়েছিলেন।
দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানেন না বলে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন বা করবেন না, সেটি আমি জানি না। তিনি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছেই জমা দেওয়া হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
ব্যাংকক সফর নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেশে ফেরার কারণ জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, ব্যক্তিগত কিছু কাজ থাকায় এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তিনি ফিরে এসেছেন।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব স্পিকার গ্রহণ করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং তিন মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে।
গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন স্পিকার। নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তার দেশে ফেরা রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছেই জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, তিনি আজ বা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে পারেন।







