বাজারে যেন আগুন লেগেছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি থেকে সব কিছুর দামই যেন আকাশ ছোঁয়া। এককেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা আর সরু চাল বিক্রি হচ্ছে জাত ভেদে ৮৪ টাকা পর্যন্ত। প্রতি হালি ডিম ৫৫ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্তও সবজির দাম বেড়েছে, ৮০ টাকার নিচে কোন ধরণের সবজিই নেই বলতে গেলে চলে। কমের মধ্যে আছে শুধু ব্রয়লার মুরগি।
রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল, কাটাসুর, হাতিরপুল, রামপুরা, সেগুনবাগিচাসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে, সেখানকার ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে।
কিছুদিন ঝাঁজ ছড়িয়ে সম্প্রতি কিছুটা কমতির পথে থাকলেও ফের বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। দাম কমেছে লেবুর: মাঝারি আকারের লেবুর হালি ২০ টাকা, বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা হালি দরে।
কিছুদিন আগেও পেঁপে ১০০ টাকা বিক্রি হলেও ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে এ দামও যৌক্তিক বলে মনে করছেন না। বেসরকারি চাকরিজীবী কবির হোসেন বলছে: ‘পেঁপে ১২ মাস পাওয়া যায়। কম খরচে উৎপাদনও ভালো। তাহলে এটার দাম এতো কেনো হবে?’ পেঁপের দাম সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সবজির দাম বেশি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক ক্রেতা মতিউর হোসেন। তার বক্তব্য: সব সবজির দামই বেশি। কী রেখে কী কিনবো, সেটা বুঝতে পারছি না। সব সবজির দামই মোটামুটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
হামিদ হোসেন হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রিতা। তিনি বলছেন: গত কিছুদিনে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। ক্রেতারা আসছে দাম শুনে চলে যাচ্ছে। বেচা-বিক্রি নাই বলতে গেলেই চলে। কাঁচা কলার হালি ৫০ টাকা, গাজর ১৮০, টমেটো ১৪০ টাকা, শশার কেজি ৬০ টাকা, কচুর লতির কেজি ৬০-৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৯০ টাকা কেজি। সপ্তাহখানেক আগেও এসব সবজির দাম ছিলো ১০ থেকে ২০ টাকা কম ছিলো।
নতুন বাজারে আসা শাপলা পাতা বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা আটি। পাট শাক ১৫ টাকা, কুমড়া শাক ৩০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা এবং কচুশাক ২০ টাকা আটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ-মাংসের বাজার
মাছের বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের আমিষের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখা পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা, চাষের কই ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাচকি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ট্যাংরা ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, রুই ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, সিলভার কার্প ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৬৮০ থেকে ১০০০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংস প্রতি কেজি ১০০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ব্রয়লার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে।







