চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

শবে বরাতের আমল এবং দালিলিক প্রমাণ

চ্যানেল আই অনলাইনচ্যানেল আই অনলাইন
১১:০২ পূর্বাহ্ন ১৪, ফেব্রুয়ারি ২০২৫
- সেমি লিড, ধর্ম ও জীবন
A A

”শবে বরাত” হচ্ছে ফারসি শব্দ, যা আরবি “শাবান” থেকে আগত। লায়লাতুম মুবারাকাহ হল শাবান মাসের মধ্যরাত। যার চারটি নাম পাওয়া যায়, লায়লাতুম মুবারাকাহ (বরকতের রজনী), লায়লাতুল বারাআহ (ভাগ্য/কল্যাণের রজনী), লায়লাতুস সাক্ক (বন্টন/বাজেটের রজনী), লায়লাতুর রাহমাহ (অনুগ্রহের রজনী)। [তাফসীরে কাশশাফ, সুরা দুখান,৪:২৬৯] অনুরূপ বর্ণনা তাফসীরে কবুরতুবীতেও পাওয়া যায়।

আল্লাহ পাক ঘোষণা করেন,
( حم، والكتاب المبين، إنا أنزلناه في ليلة مباركة إنا كنا منذرين- سورة الدخان. آيات: ১-৩)
হা-মিম; যার অর্থ আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালো জানেন। আর ঐ সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ। নিশ্চয়ই আমি ইহাকে (কুরআন) নাযিল করেছি লাইলাতুম মুবারাকা বা শাবানের মধ্যরাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী (সুরা দুখান-১-৩)।

আল্লামা জমখ্শরী তার ‘কাশশাফ’ নামক তাফসীর গ্রন্থে সুরা দুখানের প্রথম তিন আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন-

ثم أن ليلة النصف من شعبان لها أربعة أسماء: الليلة المباركة، وليلة البراءة، وليلة الصك، وليلة الرحمة، وقيل إنما سميت بليلة البراءة، وليلة الصك، لأن البندار إذا استوفى الخراج من أهله كتب لهم البراءة، كذلك الله عزّ وجلّ يكتب لعباده المؤمنين البراءة في هذه الليلة.

অনেক মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণ এ রাতের আরও বিভিন্ন নাম বর্ণনা করেছেন।

আর আয়াতে ليلة مباركة ‘লাইলাতুম মুবারাকা’র ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ লাইলাতুল কদরের পাশাপাশি লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান তথা শবে বরাত উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন- তা হলো শাবানের মধ্যরজনী (ليلة النصف من شعبان) কে বুঝানো হয়েছে। আর এ রাতকে ‘বরকতময় রজনী’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কেননা এ রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ওপর অগণিত বরকত, কল্যাণ ও পূণ্য অবতীর্ণ করে থাকেন।

Reneta

হযরত ইমাম বাগাভী এ আয়াতের তাফসীরে বলেন-

حم والكتاب المبين إنا أنزلناه في ليلة مباركة: قال قتادة وابن زيد : هي ليلة القدر أنزل الله القرآن في ليلة القدر من أم الكتاب إلى السماء الدنيا ، ثم نزل به جبريل عن النبي – صلى الله عليه وسلم – نجوما في عشرين سنة . وقال آخرون : هي ليلة النصف من شعبان .

ইমাম ক্বাতাদাহ্ এবং ইবনে যায়েদ বলেন- এটি হলো ক্বদরের রাত। আল্লাহ্ তা‘আলা তার নিকট সংরক্ষিত উম্মুল কিতাব (মূল কিতাব) থেকে ক্বদরের রাতে পৃথিবীর আকাশে কোরআন নাযিল করেন। অতঃপর হযরত জিব্রাঈল (আ:) তেইশ বছর কাল যাবৎ ধাপে ধাপে তা প্রিয় নবীর নিকট নিয়ে আসেন। আর এটি হলো ‘শাবানের মধ্য রজনী’।

সংশয়ের_নিরসন- অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে লাইলাতুম মুবারাকা যদি শা’বানের মধ্যবর্তী রাত হয় তবে সুরা কদরে আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে রমজানের শেষ দশের কোন বিজোড় রাত তথা শবে কদরে। অথচ সুরা দুখানে আসছে শাবানের মধ্যবর্তী রাতে। মিলতো পাচ্ছি না!

সমাধান হলো, পবিত্র কুরআনের মূল ঠিকানা হলো ‘লাউহে মাহফুজ’। সেখান থেকে আল্লাহ পাক একসাথে তা নাযিল করেন দুনিয়ার আসমানে। পরবর্তীতে আল্লাহ পাক তার হাবিবের (দ.) কাছে প্রকাশ্য নবুয়ত কালব্যাপী বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু আয়াত করে পুরো কুরআন নাযিল করেন।

একবার লাউহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে, আরেকবার সেখান থেকে জিব্রাঈলের (আঃ) মাধ্যমে সর্বপ্রথম নবীজির কাছে ওহি নাযিল। সুতরাং নাযিলে প্রসঙ্গ দুবার আসাটা অবাক হওয়ার নয়। আশা রাখি এই প্রশ্নের অবতারণা আর হবেনা।

শবের বরাতের আলোচনা “সিহাহ সিত্তার সহিহ মুসলিম, সহিহ ইবনে দাউদ, সহিহ নাসাই, শুনানে ইবনে মাজা” সহ অন্যান্য অনেক হাদিসগ্রন্থে পবিত্র শবে বরাতের মহিমা ও ফজিলত এসেছে। এ বিষয়ে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা লেখাটি দীর্ঘায়িত হওয়ার আশংকায় এখানে খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে দলিল পেশ করছি।

তাফসীরের আলোকে শবে বরাতঃ
====================

১. প্রসিদ্ধ তাফসীরে কুরতুবী,
ﻭﻟﻬﺎ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺳﻤﺎﺀ : ﺍﻟﻠﻴﻠﺔ ﺍﻟﻤﺒﺎﺭﻛﺔ , ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺒﺮﺍﺀﺓ , ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺼﻚ , ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ –

অর্থঃ ইমাম কুরতুবী (রহ:) বলেন, এ রাতের ৪টি নাম আছে-

(ক). লাইলাতুম মুবারাকা (খ). লাইলাতুল বারাআত (গ). লাইলাতুছ্ ছাক (ঘ). লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। (তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড-১৬ পৃষ্ঠা-১২৬)

২. তাফসীরে বাগভী শরীফে বর্ণিত আছে,

ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻀﻰ ﺍﻷﻗﻀﻴﺔ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ
ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ , ﻭﻳﺴﻠﻤﻬﺎ ﺇﻟﻰ ﺃﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻘﺪﺭ –

অর্থঃ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শবে বরাতের রাতে সকল বিষয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন এবং শবে ক্বদরের রাতে তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববান ফেরেশতাদের কাছে ন্যস্ত করেন। (তাফসীরে বাগভী, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা ২২৮)

এ রকম ৬৫টি তাফসীর গ্রন্থে লাইলাতুম মোবারাকা বলতে মধ্য শাবান অর্থাৎ ১৪ শাবানের রাতের কথা গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য কিতাবসমূহের নাম-

(১).তাফসীরে ইবনু আবি হাতেম, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-২১৪। (২).তাফসীরে রুহুল মায়ানী, খণ্ড-২৫, পৃষ্ঠা-১১০। (৩).তাফসীরে বাহরুল মুহীত, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-২৪। (৪).তাফসীরে ফাতহুল কাদীর, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-৫৭০। (৫).তাফসীরে যাদুল মাছির, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১২২। (৬).তাফসীরে নাসাফী, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩০২। (৭). তাফসীরে নিসাপুরী, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৪৯০। (৮). তাফসীরে কাশ্শাফ, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-২৭২। (৯).তাফসীরে নুকুত ওয়াল উয়ূন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-৪৯০। (১০).তাফসীরে দুররে মানসূর, খণ্ড-১২, পৃষ্ঠা-৬৯। (১১).তাফসীরে খাজেন, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৪৩। (১২).তাফসীরে আল বোরহান, খণ্ড-২৩, পৃষ্ঠা-১১৬। (১৩).তাফসীরে রাযী, খণ্ড-১৭, পৃষ্ঠা-১৩৩। (১৪).তাফসীরে আলুসী, খণ্ড-১৮, পৃষ্ঠা-৪২৪। (১৫).তাফসীরে হাক্কী, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-৬। (১৬).তাফসীরে কুরতুবী, খণ্ড-১৬, পৃষ্ঠা-১২৭। (১৭).তাফসীরে সাভী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩০২। (১৮).তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২৪৬। (১৯).তাফসীরে জামিউল বায়ান, খণ্ড-২০, পৃষ্ঠা-১৫১। (২০).তাফসীরে নুসূকী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১২০। (২১).তাফসীরে কাদের, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৬৬। (২২).তাফসীরে মাযহারী, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৮। ২৩).তাফসীরে কাসেমী, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৮। (২৪).তাফসীরে কোশাইরী, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৯০, (২৫).তাফসীরে আবু সাউদ, খণ্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৩০। (২৬).তাফসীরে আয়াতুল আহকাম, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৬৬। (২৭).তাফসীরে রুহুল বয়ান, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫৯৮। (২৮).তাফসীরে কাশেফুল আসরার, খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৯৪-৯৮।(২৯).তাফসীরে মাওয়ারদী, খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১০২। (৩০).তাফসীরে সিরাজুম মুনির, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৫৮। (৩১).কান্জুল ঈমান শরীফ।

হাদীসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের দলীল:
===========================

দলীল নং : ১

ﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻣﻮﺳﻰ ﺍﻻﺷﻌﺎﺭﻯ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ
ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻟﻴﻄﻠﻊ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ
ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺍﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ ) ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ )

অর্থ: হযরত আবূ মূসা আশয়ারী (রাদ্বি) রাসূলে কারীম (দঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি ফরমান- মধ্য শাবানের রাত্রিতে আল্লাহ পাক রহমতের তাজাল্লী বষর্ণ করেন এবং তার সমস্ত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু মুশরিক বা শত্রুতাপোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না।

তথ্য সূত্র:

(১).ইবনে মাজাহ শরীফ, পৃষ্ঠা-১০০, হাদীস নং-১৩৮৯, মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা-১১৫। (২). ইমাম বায়হাকী,শুয়াবুল ঈমান, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা- ৩৮২।
(৩).ফাজায়েলুল আওকাত, পৃষ্ঠা-১৩৩, হাদীস নং-২৯।
(৪).মিসবাহুজ জুজাযাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৪২, হাদীস নং-৪৮৭।
(৫).আত তারগীব ওয়াত তারহীব, খণ্ড-৩য়, হাদীস নং-২৭১৮।
(৬).আহলে হাদীস তথা লা- মাযহাবীদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি নাসির উদ্দীন আলবানীর “সিলসিলাতুল আহাদিছে ছহিহা” এর খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৩১ আরও ৫ টি হাদীস রয়েছে।

দলীল: ২

ﻋﻦ ﻣﻌﺎﺫ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ :
ﻳﻄﻠﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻰ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺍﻟﺪﻧﻴﺎ ﻓﻴﻐﻔﺮ
ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺍﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ

অর্থ: হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাদ্বি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (দঃ) বলেন, মধ্য শাবানের রাত্রিতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে জালওয়া রাখেন, অত:পর তার সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু মুশরিক বা শত্রুতাপোষণকারী ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না।

তথ্য সূত্র:

(১). ইমাম বায়হাকী, শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩৮৩৩।
(২).সহীহ ইবন হিব্বান, খণ্ড-১৩, পৃষ্ঠা-৩৫৫, হাদীস নং ১৯৮০।
(৩).আহলে হাদীস তথা লা- মাযহাবীদের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি নাসির উদ্দিন আলবানীর “সিলসিলাতুল আহাদিস আসসাহীহা”এর খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-১৩৫, হাদীস নং-১১৪৪।
(৪).মুজামুল কাবীর, খণ্ড-১৫, পৃষ্ঠা-২২১।
(৫).ফাজায়েলুল আওকাত, পৃষ্ঠা-১১৯, হাদীস নং-২২।
(৬).আত তারগীব ওয়াত তারহীব, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৪১।

দলিল নং-৩

হযরত আয়েশা (রাদ্বি) হতে বর্ণিত; এক রাত্রিতে আমি হুযুর(দঃ) কে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে জান্নাতুল বাকীতে পেলাম, এবং হুযুর ফরমালেন-আয়েশা তুমি কি জানো.? আজ ১৫ শাবানের রাত্রি এবং এই রাত্রিতে আল্লাহ বান্দাদের প্রতি আহবান করতে থাকেন যে, কেউ কি আছো যে আমার থেকে কিছু আশা কর, আমি আজকে তা প্রদান করিব। এবং হুযুর আরও বললেন যে, এই রাত্রিতে আল্লাহ বানু ক্বাল্ব গোত্রের বকরির লোম এর চেয়ে বেশি পরিমান গুনাহগার বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন। (তিরমিজি শরিফ, খন্ড:-০২, হাদিস-৭৩৯)

দলিল নং-০৪

হযরত আলী (রাদিঃ) হতে বর্ণিত, হুযুর (দঃ) ফরমালেন- যখন তোমাদের সামনে শাবান মাসের ১৫ই রাত্রির আগমন করে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত কর, পরদিন রোজা রাখ। কারণ আল্লাহ এই রাতে বিশেষ নজর দিয়ে থাকেন এবং বলে থাকেন কেউ কি আছো যে ক্ষমা চাচ্ছো তাকে আমি ক্ষমা করব, যে রিযিক চাও তার রিজিকে বরকত দান করব, কেউ মসিবতে থাকলে তার মুসিবত দুর করব। (সুনান-ই-ইবনে মাজাহ, খণ্ড-০২,পৃষ্ঠা-১৬০, হাদিস-১৩৮৮ এবং মিশকাত শরিফ-১১৫)

দলিল নং-০৫

হযরত সায়্যিদুনা কাছির বিন মুররাহ্ থেকে বর্ণিত; নবীকুল সুলতান, সরদারে দোজাহান, মাহবুবে রহমান ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ তাআলা শাবানের ১৫তম রাতে সমগ্র যমীনের অধিবাসীদেরকে ক্ষমা করে দেন, (শুধুমাত্র) কাফির ও শত্রুতা পোষণকারীদের ছাড়া। (শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৩৮১ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৮৩০, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত)

দালিল নং-০৬

হযরত আয়েশা (রাদ্বি) হতে বর্ণিত- হুযুর (দঃ) ফরমালেন- আমার কাছে জিবরাইল এসে ফরমালেন শাবান মাসের ১৫ রাতে আল্লাহ বানু কাল্ব এর বকরির লোম এর চেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে শিফা দান করে থাকেন…… (মুসনাদে ইমাম আহমাদ, খণ্ড-০২, পৃষ্ঠা-৫৮৯, হাদিস-৬৬৫৬,/ শুবুল ইমান, খণ্ড-০৩, পৃষ্ঠা-৩৮৩)

দলিল নং- ০৭

হযরত মুররাহ (রাদ্বি) হতে বর্ণিত হুযুর (দঃ) ফরমালেন- আল্লাহ ফরমায়েছেন যে, শাবান মাসের ১৫তারিখের রাতে জমিনে থাকা মানুষদের ক্ষমা করে থাকেন কিন্তু কাফির এবং হিংসা পোষণকারীকে ক্ষমা করেন না….. (আল মুতাজ্জুর রিবাহ, পৃষ্ঠা-৩৭৬, হাদিস-৭৬৯)

দলিল নং-০৮

উম্মুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দিকা (রাদ্বি) বলেন: আমি রাসুলে করীম, রউফুর রহীম, হুযুর পুরনূরকে ইরশাদ করতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা (বিশেষত) চারটি রাতে কল্যাণের দরজা খুলে দেন।

(১) কুরবানীর ঈদের রাত

(২) ঈদুল ফিতরের রাত

(৩)শাবানের ১৫তম রাত

এই রাতে মৃত্যুবরণকারীদের নাম ও মানুষের রিয্ক (জীবিকা) এবং (এ বৎসর) হজ্ব পালনকারীদের নাম লিখা হয়,
(৪) আরাফাহ (অর্থাৎ যিলহজ্জের ৮ ও ৯ তারিখে) এর রাত (ফজরের) আযান পর্যন্ত।(তাফসীরে দূররে মানসুর, ৭ম খণ্ড, ৪০২পৃষ্ঠা)

দলিল নং-০৯

খোদ শবে বরাত অস্বীকারকারী ওহাবী মতবাদের অন্যতম প্রবর্তক ইবনে তাইমিয়ার মতে-

ﻭﻗﺪ ﺳﺌﻞ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻋﻦ ﺻﻼﺓ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﺄﺟﺎﺏ : ﺍﺫﺍ
ﺻﻠﻰ ﺍﻻ ﻧﺴﺎﻥ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻭﺣﺪﻩ ﺍﻭﻓﻰ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﺧﺎﺻﺔ ﻛﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻳﻔﻌﻞ
ﻃﻮﺍﺋﻒ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﻓﻬﻮ ﺣﺴﻦ – ﻭﻗﺎﻝ ﻣﻮﺿﻊ ﺍﺧﺮ : ﻭﺍﻣﺎ ﻟﻴﻠﻪ
ﺍﻟﻨﺼﻒ
ﻓﻘﺪ ﺭﻭﻯ ﻓﻰ
ﻓﻀﻠﻬﺎ ﺍﺣﺎﺩﻳﺚ ﻭﺍﺛﺎﺭ ﻭﻧﻘﻞ ﻋﻦ ﻃﺎﺋﻔﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻧﻬﻢ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻳﺼﻠﻮﻥ
ﻓﻴﻬﺎ ﻓﺼﻼﺓ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﻴﻬﺎ ﻭﺣﺪﻩ ﻗﺪ ﺗﻘﺪﻣﺔ ﻓﻴﻪ ﺳﻠﻒ ﻭﻟﻪ ﻓﻴﻪ ﺣﺠﺔ ﻓﻼ
ﻳﻨﻜﺮ ﻣﺜﻞ ﻫﺬﺍ ﺍﻧﺘﻬﻰ –

অর্থাৎ- ‘‘ইবনে তাইমিয়াকে শবে বরাতের রাতে নফল নামায আদায় বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যদি মানুষ শবে বরাত রাতে একাকী অথবা বিশেষ জামাত সহকারে নফল নামায আদায় করে, যেমনিভাবে সালফে সালেহীনগণের অনেকেই করতেন, তাহলে তা খুবই ভাল কাজ।’’

তিনি অন্যত্র বলেন, শবে বরাতের ফযিলতে অনেক হাদীস ও রিওয়ায়েত বিদ্যমান এবং এটাও প্রমাণিত যে, সালফে সালেহীনগণ এ রাতে বিশেষ নফল নামায আদায় করতেন। সুতরাং একাকীভাবে এরাতে ইবাদতের ক্ষেত্রে সালফে সালেহীনগণ অগ্রগামী এবং এতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণও মিলে। সুতরাং এ ধরনের বিষয়ে অস্বীকার করা যায় না।

হযরত সয়্যিদুনা আনাস বিন মালিক বলেন: শাবান মাসের চাঁদ দৃষ্টি গোচর হতেই সাহাবায়ে কিরাম কুরআনে পাকের তিলাওয়াতের প্রতি খুব বেশী মনোযোগী হতেন, নিজেদের ধন- সম্পদের যাকাত বের করে নিতেন (আদায় করতেন) যাতে অক্ষম ও মিসকীন লোকেরা রমযান মাসে রোযা রাখার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। শাসকগণ বন্দীদের তলব করে যার ওপর শাস্তি কার্যকর করা প্রয়োজন তার ওপর শাস্তি কার্যকর করতেন আর অন্যান্যদেরকে মুক্তি দিয়ে দিতেন। ব্যবসায়ীগণ তাদের কর্জ পরিশোধ করতেন, অন্যান্যদের থেকে বকেয়া টাকা আদায় করে নিতেন (এভাবে রমযান মাসের চাঁদ উদিত হবার পূর্বেই নিজেকে অবসর করে নিতেন) আর রমযান এর চাঁদ দৃষ্টিগোচর হতেই গোসল করে (অনেকে) ইতিকাফে বসে যেতেন।

(গুনইয়াতুত্ব ত্বালিবীন, ১ম খণ্ড, ৩৪১ পৃষ্ঠা) এছাড়া পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কিত হাদিসটি যেসব গ্রন্থে এসেছে। – ইমাম বায়হাকী ‘শুবুল ইমান,৩য় খণ্ড, পৃ-৩৮০, ৩৮২, ৩৭৯, হাদিস-৩৮২২, ৩৮২৭) – মুসনাদে আহমাদ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৮তম খণ্ড-, পৃষ্ঠা- ২৩৮, ১১৪, হাদিস-২৫৯৬, ১৬৮২(২১টি হাদিস রয়েছে) – ‘ফাজায়েলুল আওকাত পৃষ্ঠা-১৩৩, হাদিস- ২৫ – ‘মিসবাহুজ জুজযাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা -৪৪২, হাদিস-৪৮৭, ৪৮৬ – ‘আত তারগীব ওয়াত তারহীব’ তৃতীয় খণ্ড, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৪০ হাদিস-২৭১৮, ২৪, ২৭৬৯ – আহলে হাদিসদের গুরু নাসির উদ্দিন আলবানীর ‘সিলসিলাতুল আহাদিছে ছহিহা’ ৩য় খণ্ড, পৃ-১৩১, ১৩৫ মাছাবাতাবিচ্ছুন্নাহ, পৃ-৩৫৪ – মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, ৮ম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৬৫ – মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা- ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা- ৪৩৮, হাদিস- ৯৯০৭।– শরহুসসুন্নাহ ৪র্থ খন্ড- পৃষ্ঠা-১২৬, হাদিস- ৯৯২, – আল মুনতাখাব মিনাল – ইবনে হিব্বান, খণ্ড-১৩, পৃষ্ঠা-৩৫৫, হাদিস-১৯৮০ – শুয়াবুল ঈমান- ৩য় খণ্ড, পৃ-৩৭৯, ৩৮০ হাদিস- ৩৮২২, ৩৮২৭।

সালফে সালেহীনদের দৃষ্টিতে শবে বরাত:
========================

فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لاَ تَعْلَمُونَ

অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে; [সুরা নাহল- ১৬:৪৩]

যুগশ্রেষ্ট অসংখ্য হাদীছের ইমামগণ স্ব-স্ব কিতাবে শবে-বরাতের ওপর আলাদা অধ্যায় রচনা করে শবে-বরাতের ওপর বর্ণিত হাদিসগুলো সংকলন করেছেন। যেমনঃ

– ইমাম ইবনে মাজাহ্ (জন্ম: ২০৯ হিজরী) তার ‘সুনানে ইবনে মাজাহ্’ শরীফে শবে বরাত নিয়ে আলাদা অধ্যায় করেছেন। অধ্যায়ের নাম باب ما جاء فى ليلة النصف من شعبان [বাবু মা জাআ ফী লাইলাতিন-নিসফে মিন শা’বান অর্থাৎ এই অধ্যায় শাবানের মধ্যবর্তী রাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলোর অধ্যায়]

– ইমাম তিরমিজির ‘সুনানে তিরমিজি’ শরীফে। অধ্যায়ের নাম- باب ما جاء فى ليلة النصف من شعبان [বাবু মা জাআ ফী লাইলাতিন-নিসফে মিন শা’বান অর্থাৎ এই অধ্যায় শাবানের মধ্যবর্তী রাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীছগুলোর অধ্যায়]

– হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম ইমাম ইবনে হিব্বান (জন্ম: ২৭০ হিজরী) উনার ‘সহীহ্ ইবনে হিব্বান’-এ। অধ্যায়ের নাম ذكر مغفرة الله عز وجل لعباده فى ليلة النصف من شعبان الا لمشرك او من كانت بينه وبين اخيه شحناء [মুশরিক এবং অপর মুছলিম ভাইয়ের প্রতি বিদ্ধেষ পোষণকারী বৈ তাবৎ বান্দার প্রতি শাবানের মধ্যবর্তী রজনীতে মহান আল্লাহর ক্ষমা প্রসঙ্গে ]

– ইমাম বায়হাকী (জন্ম: ৩৮৪ হিজরী) উনার ‘সুনানে’, ‘শুয়া’বে’ এবং ‘ফাদায়িলুল আওকাতে’

– ইমাম বাগাভি (জন্ম: ৪৩৩ হিজরী) উনার ‘শরহুছ ছুন্নাহ্’-তে।

– ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (জন্ম: ১২৬ হিজরী) উনার ‘মুসান্নাফে’

– ইমাম ইবনে আবি শায়বা (জন্ম: ১৫৯ হিজরী) উনার ‘মুসান্নাফে’

পূর্ববর্তী যুগেও অনেক বড় বড় ইমামগণ শবে-বরাতের ওপর কিতাব রচনা করেছেন। যেমনঃ

– বিশ্ববরেণ্য ইমাম হাফেজ ইবনে আছাকের আদ-দামেশকি (জন্ম: ৪৯৯ হিজরী) শবে-বরাতের ওপর আলাদা কিতাব রচনা করেছেন এবং নাম দিয়েছেন ليلة النصف من شعبان

– ইমাম ইবনে হাজর মাক্কী (জন্ম: ৯০৯ হিজরী) রচনা করেন শবে-বরাতের ওপর তার অনবদ্য কিতাব الايضاح والبيان فيما جاء ليلة النصف من شعبان

– হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ্ গুমারী আল-মাগরিবী (জন্ম: ১৯১০ সনে) রচনা করেন حسن البيان فيما جاء ليلة النصف من شعبان
মুসলিম আইয়িম্মায়ে কেরামের এই কাজগুলো দিয়ে শবে-বরাতের ফজিলত ও বিশেষত্ব স্পষ্টরূপে প্রতিভাত। এই রাতের ফজিলতের ব্যাপারে কখনো কারো মধ্যে এখতেলাফ ছিলনা।

অর্থাৎ সবাই এই ব্যাপারে একমত যে, এটা বরকতময় রাত, এই রাতে আল্লাহ্ তায়ালা তার শান অনুযায়ী দুনিয়ার আকাশে ‘নুযুল’ করেন এবং তার বান্দাদের ক্ষমা করেন।

কিন্তু কেউ কেউ এই রাতে একত্রিত হয়ে রাত জেগে ইবাদত করার ব্যাপারে এখতিলাফ করেছেন। যেমনঃ ইবনে আবি মুলাইকা ও ইমাম মালেক (রাহঃ)। কিন্তু সলফে সালেহীনের অধিকাংশের মতে এই রাতে মসজিদে একসাথে হয়ে ইবাদত করা শুধু জায়েজ নয় বরং মুস্তাহাব। সলফে সালেহীনের সময় শাম তথা সিরিয়ার অধিবাসীরা এই রাতে মসজিদে জড়ো হয়ে ইবাদত করতেন। তাদের মধ্যে তাবেয়ীনদের অংশগ্রহণ ছিল। যেমনঃ খালেদ ইবনে মা’দান, লুকমান ইবনে আমের, ইমাম মাকহুল, ইমাম আওঝায়ী।

অনুরূপভাবে তখনকার যুগে মক্কার অধিবাসীরাও এই রাতে মসজিদে জড়ো হয়ে ইবাদত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে এই রাত কাটাতেন। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ্ ফাকেহী (মৃত্যুঃ ২৭২ হিজরী) তার কিতাব ‘আখবারু মাক্কা’-তে মক্কাবাসীরা এই রাত কীভাবে পালন করতেন বলতে গিয়ে উল্লেখ করেনঃ كانوا اهل مكة فيما مضى الى زماننا اذا كانت ليلة النصف من شعبان خرجوا الى بيت الله الحرام يصلون ويختمون القران ويدعون …من التقرب والمناجاة ويأخذون من ماء زمزم ويعطونه للمرضى فى هذه الليلة رجاء البركة التى وضعها الله في ليلة النصف من شعبان

অর্থাৎঃ মক্কাবাসীরা অতীতকাল থেকে আমাদের সময়কাল পর্যন্ত শবে-বরাতে মসজিদে হারামে নামাজ আদায় করতেন, কুরআন তেলওয়াত করতেন, আল্লাহ্ তায়ালার নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে দোয়া করতেন, শবে-বরাতের বরকত পাওয়ার আশায় অসুস্থদের যমযমের পানি দিতেন।

ইমাম বায়হাকী (জন্ম:৩৮৪ হিজরী) উনার ‘সুনানুল কুবরা’ মধ্যে ইমাম শাফেয়ী (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন: خمسة اوقات بلغنا أن الدعاء فيها مستجاب: ليلة الجمعة وليلة الاضحى، وليلة الفطر، واول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان

অর্থাৎঃ আমরা শুনেছি পাঁচটি রাতে আল্লাহ্ তায়ালা দোয়া কবুল করেনঃ জুমার রাত, কুরবানির রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, রজবের প্রথম রাত এবং শবে-বরাতের রাত।

এছাড়া রয়েছে আরও অনেক অনেক হাদিস- যেখানে পবিত্র শবে বরাতের মহিমা প্রকাশ পেয়েছে। তাহলে আজকে অসংখ্য হাদিস থাকার পরেও আজ বিভিন্ন ওয়াজে, টিভিতে বসে কথা উড়াচ্ছে যে ইসলামে শবে বরাত বলে কিছু নাই, শবে বরাত পালন একটি বিদাত, হারাম ইত্যাদি..?

পাঠক দেখলেনতো পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে কতগুলো গ্রন্থে, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে..! আমি আগেও বলেছি এখানে লেখা দীর্ঘ করার ইচ্ছা না থাকায় আমি সংক্ষিপ্ত আকারে আপনাদের সামনের তুলে ধরলাম….. তবে শবে বরাত উপলক্ষে আমাদের মাঝে কিছু আজব রীতি দেখা যায়, যেমন পটকা, আতশবাজী ইত্যাদি, এটা নি:সন্ধে এই পবিত্র রাতে ইবাদতে এই আতশবাজী ইবাদতে মারাত্বক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। তাই যারা পটকাবাজী করে তাদের মাঝে সচেতনতা প্রচার প্রয়োজনে আইনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। কারণ পবিত্র দিনের সাথে এই বানানো আতশবাজীর কোন সম্পর্ক নেই।

এ রাতের আমল
========

সাধ্যমত নফল ইবাদতের মাধ্যমে কাটানো, দান- সদকা করা, কবর যিয়ারত (রাতে বা সকালে), দুয়া দরুদ শরীফ পাঠ, অধিক পরিমাণে তওবা ইস্তেগফার করা। সম্ভব হলে সালাতুল তাসবীহ আদায় করা। আর শবে বরাতের রোজা হলো ১৪ ও ১৫ বা ১৫ ও ১৬ শাবান। কারো শারীরিক সমস্যা থাকলে ও রোজা রাখার ইচ্ছা থাকলে শুধু আগামীকাল ১টি রোজা রাখতে পারেন।

হযরত আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (দঃ) ইরশাদ করেন- যখন শাবানের ১৫ তারিখ আসবে তখন তোমরা রাতে সালাত আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। আল্লাহর রহমত এ রাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথে প্রথম আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন কেউ আছো কি? ক্ষমা চাইবে আমি ক্ষমা করে দেবো। কেউ রোগাক্রান্ত আছো কি? (রোগ মুক্তি প্রার্থনা করলে) আমি শেফা দান করবো। কেউ রিযিক চাওয়ার আছো কি? আমি তোমাদেরকে রিযিক (জীবন উপকরণ) দেবো। কেউ আছো কি? কেউ আছো কি? এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা আসতে থাকে। -সুনানে ইবনে মাযাহ, ১/৪৪৪ পৃ. হা/১৩৮৮,খতিব তিবরিযি, মিশকাত, ১/৪০৯ পৃ. হা/১৩০৮, ইমাম মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/৭৪ পৃ. হা/১৫৫০।

‘সুনানে ইবনে মাযাতে হযরত আবু মুসা আশয়ারী থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা শাবানের মধ্য রজনীতে রহমত ভরা দৃষ্টিতে গুনাহগারদের দিকে তাকান, ফলে সকল সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন, একমাত্র মুশরিক ও অন্য মুসলমান ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতিরেকে।

মাজার বা করব যিয়ারতঃ

শবে বরাতের রাতে মাজার বা কবর যিয়ারত করা, রউফুর রহিম, নুরুন আলা নুর, হাজির নাজির, গায়েবে খবর দেনেওয়ালা নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাস সুন্নত।

তিরমিযী শরীফে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দীক্বা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন- ‘এক রজনীতে আমি প্রিয়নবীকে বিছানায় খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ফলে তাকে খোজার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে পড়লাম। হঠাৎ দেখি তিনি জান্নাতুল বক্বীতে আকাশের দিকে দু’হাত তুলে দিয়ে দোয়ারত আছেন। আমাকে দেখে হুযূর করীম বললেন, তুমি কি এ ভয় করছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অন্যায় করবেন? আমি বললাম, এ ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন স্ত্রীর গৃহে প্রবেশ করেছেন। তখন হুযূর করীম বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ্ তা‘আলা শাবানের মধ্য রজনীতে প্রথম আকাশের দিকে বিশেষ কৃপাদৃষ্টি দান করেন এবং ’ বনী কলব’ গোত্রের ছাগলের পশমেরও অধিক পরিমাণ গুনাহগারকে ক্ষমা করেন।

এই রাতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু তায়ালা আনহা শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে তথা শবে বরাত রাতে জান্নাতুল বাকী শরিফে মোনাজাতরত অবস্থায় পেয়েছেন। জামে তিরমিজি ১ খণ্ড ৯২ পৃষ্ঠা, মুসনাদে আহমদ ১৮তম খণ্ড ১১৪ পৃষ্ঠা ২৫৯৬নং হাদিস।

একনিষ্ঠভাবে তাওবাহ না করা পর্যন্ত যারা এই রাতেও আল্লাহ পাকের রহমত থেকে বঞ্চিত থাকবে:

হযরত সায়্যিদাতুনা আয়িশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী, রাসুলে আরবী, হুযুর পুরনূর ﷺ ইরশাদ করেছেনঃ “আমার নিকট জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এসে বললেন; এটা শাবানের ১৫তম (শবে বরাতের) রাত, এ রাতে আল্লাহ তাআলা বনী কালব এর ছাগলের পশম পরিমাণ লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রদান করেন। তবে কাফির ও শত্রুতা পোষণকারী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী, মাতা-পিতার অবাধ্য এবং মদপানে অভ্যস্তদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না।” [ শুয়াবুল ঈমান, ৩য় খণ্ড, ৩৮৪ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩৮৩৭ ]

হাদীসে শরীফে: টাখনুর নিচে কাপড় পরিধানকারী দ্বারা যে বর্ণনা রয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অহংকারবশত টাখনুর নিচে লুঙ্গি বা পায়জামা ইত্যাদি ঝুলানো)। হাম্বলী মতাবলম্বীদের মহান ইমাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে যে বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন, তাতে হত্যাকারীর কথাও উল্লেখ রয়েছে। [ মুসনাদে ইমাম আহমদ, ২য় খণ্ড, ৫৮৯ পৃষ্ঠা, হাদিস নং- ৬৬৫৩, দারুল ফিকর, বৈরুত ]

হযরত সায়্যিদুনা ইমাম বায়হাকী শাফেয়ী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি “ফাযায়েলুল আওকাত” এ বর্ণনা করেন: রাসুলে আকরাম, নূরে মুজাস্সম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষনীয় বাণী হচ্ছে: “ছয় প্রকারের ব্যক্তিদেরকে এ রাতেও ক্ষমা করা হয় না:- (১) মদ্যপানে অভ্যস্ত, (২) মাতা-পিতার অবাধ্য, (৩) ব্যভিচারী, (৪) আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী, (৫) ছবি প্রস্তুতকারী, (৬) চোগলখোর (একজনের দোষ অপরজনকে বলে বেড়ানো ব্যক্তি)।” [ফযায়েলুল আওকাত, ১ম খণ্ড, ১৩০ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৭, মাকতাবাতুল মানারাহ, মক্কাতুল মুকাররমা ]

অনুরূপভাবে গণক, যাদুকর, অহংকার সহকারে পায়জামা অথবা লুঙ্গি গোড়ালীর নিচে ঝুলিয়ে পরিধানকারী, গীবতকারী, কোন মুসলমানের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারী, সুদখোর, ঘুষখোর, জুয়াখোর ও হারামখোররা এ রাতে ক্ষমার সৌভাগ্য লাভ থেকে বঞ্চিত থাকবে।

সুতরাং সমস্ত মুসলমানদের উচিত, উপরোক্ত গুনাহ থেকে যদি (আল্লাহর পানাহ্) কোন একটির মধ্যে লিপ্ত থাকে তবে তারা যেন বিশেষত এই গুনাহ থেকে এবং প্রত্যেক গুনাহ থেকে আজ ও এখন সত্যিকার অর্থে তাওবা করে নেয়, আর যদি কোন বান্দার হক নষ্ট করে তবে তাওবার সাথে সাথে তার থেকে ক্ষমা চাওয়ার তরকীব (ব্যবস্থাও) করে নেয়।

* শা’বান মাসকে রাসূল (দ.) নিজের মাস বলেছেন; তাই উম্মতের উচিত এ মাসে বেশী করে দরূদ শরীফ পড়া।

* অসংখ্য হাদীস শরীফে এ মাসে রোযার ফযিলত বর্ণিত হয়েছে, তাই বেশী করে রোযা পালন করা যা রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর অধিক প্রিয় আমল ছিল।

* বেশী করে দান সদকা করা যা সাহাবা ও বুযুর্গানেদ্বীন (রহ.)-এর আমল ছিল। হাদীস শরীফেও এ ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

* ‘‘লায়লাতুল মোবারাকা’’ বলতে যেহেতু শবে বরাতকে বুঝানো হযেছে তাই এ রাতে অধিক কোরআন তিলাওয়াত করা।

* সূরা ইয়াসিন তিন বার পাঠ করলে রিযিক বৃদ্ধি পায় বলে অভিমত রয়েছে।

* হাদীস শরীফে রাত্রি জাগরণ থেকে ইবাদতের কথা বলা হয়েছে, তাই সারা রাত নফল নামাযের মাধ্যমে রাত্রি যাপন করা।
*সহীহ হাদীস দ্বারা শবে বরাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম জান্নাতুল বাকীতে গিয়ে যিয়ারত করার দলিল রয়েছে বিধায় এ রাতে কবর যিয়ারত করা।

* সন্ধ্যায় সওয়াবের নিয়তে গোসল করা।

* রোযা রেখে ইফতারের সময় নবীর(দ.) ওপর ৩ বার দরূদ শরীফ পড়া।

সংকলনে: মুহাম্মদ শফিক আল মুজাদ্দেদী।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

ট্যাগ: আমলদালিলিক প্রমাণশবে বরাত
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

১২ বছরে চ্যানেল আই অনলাইন

এপ্রিল ২০, ২০২৬

আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পথটা পরিষ্কার করল ম্যানসিটি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা ও হজের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

দারুণ জয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে রোনালদোর আল নাসের

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়ালি চলবে হাইকোর্ট

এপ্রিল ১৯, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT