প্রাইভেটকার কিংবা মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত গাড়িতে লাগানো বিভিন্ন অফিস বা প্রতিষ্ঠানের স্টিকার যাচাই করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইদানিং রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়িতে স্টিকার লাগানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে ভুয়া স্টিকার লাগানোর প্রবণতাও দেখা গেছে। একজন ব্যক্তি নিজের প্রতিষ্ঠানের বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে রাস্তায় বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে এর আড়ালে ভিন্ন কোনও গোষ্ঠী বড় ধরনের অপরাধও করে থাকেন। এ অপরাধ দূর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দেন। ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনার পর ডিএমপির সকল ট্রাফিক বিভাগ একযোগে স্টিকার চেক করার বিষয়ে অভিযানে নেমেছে।
এ বিষয়ে শনিবার ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি অপরাধীরা ভুয়া স্টিকার ব্যবহার করে থাকে। অপরাধীরা পুলিশ কিংবা সাংবাদিকসহ অন্যান্য দপ্তরের বা প্রতিষ্ঠানের স্টিকার লাগিয়ে নিজের পরিচয় লুকিয়ে অপরাধ করে। কেউ যেন ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে রাস্তায় বাড়তি সুবিধা না নিতে পারেন এবং অপরাধীরা ছদ্মবেশ ধারণ না করতে পারে সে জন্য স্টিকার লাগানো গাড়ির বিষয়ে অভিযানে নেমেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
তিনি বলেন, আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষজনকে স্টিকার লাগানোর বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। যাতে করে কোনও অপরাধী বা কোনও ব্যক্তি ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে অপরাধ বা বাড়তি সুবিধা আদায় না করতে পারেন। এই অরাজকতা রোধ করার জন্যই আমাদের মাঠ পর্যায়ের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের প্রধান বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি সেই পরিচয় বহন করেন বা তার পরিচয় বা কর্মস্থল সেটা হয়ে থাকে তিনি স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু কোনও ব্যক্তি যদি সেই পরিচয় বহন না করেন তাহলে তিনি স্টিকার লাগাতে পারবেন না এটা বেআইনি। কেউ যদি সেই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই পেশার স্টিকার লাগাতে পারেন। তবে ইদানিং দেখা যাচ্ছে যেই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না সেই পেশার স্টিকার লাগিয়ে অনেকে বিভিন্ন অবৈধ জিনিসপত্র বহন করছেন এবং পুলিশ পোস্টে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের প্রতিহত করার জন্য স্টিকার চেক করা হচ্ছে।
এরআগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রথম ভুয়া স্টিকার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক উত্তরা বিভাগের উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া স্টিকার ব্যবহারের অভিযোগে ১১টি গাড়ি আটক করা হয়। পরে গাড়িগুলোকে মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার মার্চ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তায় পুলিশের স্টিকার লেখা কোনো গাড়ি দেখলে কর্তব্যরত পুলিশ অবশ্যই যাচাই করবেন। গাড়িতে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে বা ডিএমপির লোগো লাগিয়ে সন্ত্রাসীদের চলাফেরার তথ্য পাওয়া গেছে।যদি যাচাই করে দেখা যায় সেটা পুলিশের গাড়ি নয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিএমপির ক্রাইম ও ট্রাফিক বিভাগ এই বিষয়টি নজর রাখবেন।








