”বাবা হাজীর দারুণ খেলা। আমাদের দল বিরতিহীনভাবে ইতালি পৌঁছেছে। আমরা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার মধ্যে ইতালিতে পৌঁছেছি। ট্রিপ এবং খেলাটি দুর্দান্ত ছিল।” এই কথাগুলো সামাজিক মাধ্যমে এক ভিডিওতে বলছেন একজন মানব পাচারকারী, যাকে রোমানিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ‘গেম বা খেলা’ শব্দটি এখানে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার এবং এর জন্য ব্যবহৃত পরিবহনের পদ্ধতি বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।
সংবাদ মাধ্যম ডন জানায়, গত ৩০ এপ্রিল পোস্ট করা ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ২০ লক্ষেরও বেশি ভিউ হয় এবং প্রায় ১৭ হাজার লাইক পড়ে। তার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ৫৩টি ভিডিওর মধ্যে এটি একটি। অ্যাকাউন্টটির ফলোয়ার সংখ্যা ১৯ হাজারের বেশি।
টিকটকে সক্রিয় একজন মানব পাচারকারী অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতেন। যদিও বেশিরভাগ পাচারকারীরা তাদের কাজ গোপন রাখে তবে কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবৈধ কাজ করে চলেছে।
তারা এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে সম্ভাব্য ক্লায়েন্টদের কাছে তাদের পরিষেবার বিজ্ঞাপন দেয়। ভিডিওগুলো তাদের কাজের জন্য একটি প্রশংসাপত্র হিসেবে কাজ করে থাকে। এই পাচারকারীরা মানুষকে অবৈধভাবে ইউরোপ নিয়ে যায় এবং তারপরে তাদের ক্যামেরায় তুলে ধরে যে যাত্রাটি কতটা ঝামেলামুক্ত ছিল। এই দেখে অন্যরা পাচারকারীর সাথে যোগাযোগ করে থাকে।ভিডিওগুলো দেখে অনেকেই মন্তব্যে যাত্রা এবং খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায়। পরে তাদের টিকটক বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
এরকম একটি অ্যাকাউন্টের পরিচালনাকারীর সাথে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে ডন। জানানো হয়, তুর্কি থেকে রোমানিয়ায় ট্যাক্সি গেমের জন্য ৩৫০০ ইউরো খরচ হবে।
ডন তাদের প্রতিবেদনে এক বিশ্লেষণে দেখিয়েছে, এরকম অসংখ্য অ্যাকাউন্ট রয়েছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। ‘রোমানিয়াটুইতালি’ নামক একটি অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায় ২২৮টি এই ধরণের ভিডিও। ‘তুর্কিটুইতালি’ নামক আরেকটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩৮১টি ভিডিও। ভিউ ৩৫ মিলিয়নেরও বেশি। যদিও এই অ্যাকাউন্টগুলোর বেশিরভাগই টিকটকে। তবে ফেসবুক এবং ইউটিউবেও কিছু অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়।
দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এইসব অ্যাকাউন্টের মালিকরা। সাধারণ মানুষরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে হারাচ্ছেন সর্বস্ব। নিহত হচ্ছেন অনেকেই। যদিও অনেক দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই পাচারকারীদের ধরতে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।








