ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ফ্লাইটে উঠে পড়া শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোকজন শিশুটিকে মোটা শিকল দিয়ে ঘরে বেঁধে রেখেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে মুকসুদপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, বিমানবন্দর থানা থেকে আমাদের থানায় ফোন করার পর আমরা শিশুটির পরিবারের লোকজনকে খুঁজে বের করে সংবাদ দেই। এরপর তারা বিমানবন্দর থানা থেকে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ী ফেরে। শিশুটি বর্তমানে তার বাবা মায়ের হেফাজতে বাড়িতেই আছে। ১২ বছর বয়সী ওই শিশুটির বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায়।
গত সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে শিশুটি নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে উঠে পড়ে। রাত সোয়া তিনটার দিকে কুয়েত এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইট উড্ডয়নের কথা ছিল। শিশুটিকে ফ্লাইটের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কেবিন ক্রু তাকে তার আসনে বসতে বলেন। তার গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় কেবিন ক্রু তাকে তার মা-বাবার পাশে বসতে বলেন।
তখন শিশুটি জানায়, মা–বাবা তার সঙ্গে নেই। কার সঙ্গে উড়োজাহাজে উঠেছে, সেটাও বলতে পারছিল না। এমনকি তার সঙ্গে পাসপোর্ট, টিকিট ও বোর্ডিং পাসও ছিল না। এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১০ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আর শিশুটিকে
বিমানবন্দর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বর্তমানে শিশুটির পায়ে শিকল দিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার চাচা বলেন, গতকাল বুধবার সকালে আমি তাকে বিমানবন্দর থানা থেকে বাড়ি নিয়ে আসছি। বাড়ির সামনে ইজিবাইক থেকে নেমে চাচা ঘরে ঢুকলেও শিশুটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে বেলা একটার দিকে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে খুঁজে আনা হয়। বাড়িতে আনার পর তার পায়ে শিকল দিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে।
শিশুটির বাবা সবজি বিক্রেতা। বয়স যখন দেড় বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তখন থেকে সে বাবার কাছেই থাকে। বাবা কিছুদিন পর আবার বিয়ে করেন। তার চাচার দাবি, তার ভাতিজা খুবই দুরন্ত। পড়ালেখার ভয়ে সে প্রায়ই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে সে বারবার পালিয়ে আসে বলে তাকে স্থানীয় আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, শিশুটি মাঝেমধ্যেই বাড়ি থেকে চলে যেত, আবার ফিরে আসত। তিন মাস আগে সে বাগেরহাটের মোংলায় যায়। সেখান থেকে লোকজন তাকে মুকসুদপুরে পাঠিয়ে দেয়। সে মুকসুদপুর না এসে ঢাকায় চলে যায়। পরে সেখান থেকে রাজবাড়ী যায়। গত তিন বছরে তার বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার মাত্রা বেড়ে গেছে।
শিশুটি কীভাবে উড়োজাহাজে উঠল সে ব্যাপারে কিছুই বুঝতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।








