১৯৯৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের কথা। বাংলাদেশ সরকারের এক বিশেষ ডিক্রি বলে মাত্র এক সপ্তাহের প্রস্তুতির মধ্যেই সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গড়া হাজারেরও অধিক জনবলের এক সম্মিলিত কন্টিনজেন্ট এর অংশ হিসেবে ইউএস আর্মি নেতৃত্বাধীন ‘মাল্টিন্যাশনাল কোয়ালিশন ফোর্স’এ অংশ নেয়ার লক্ষ্যে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র ‘রিপাবলিক অব হাইতি’ যাত্রা করি।
হাইতিতে তখন ইউএস আর্মি নেতৃত্বাধীন ‘অপারেশন আপহোল্ড ডেমোক্রেসি’ চলছিল। কিন্তু বাস্তবতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকলে চলমান অপারেশনকে আরও কার্যকরী ও শক্তিশালী করার প্রয়াসে প্রায় অর্ধশত দেশের বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে একে প্রথমে ‘মাল্টিন্যাশনাল কোয়ালিশন ফোর্স’এ উন্নিত করা হয়। এই বিশাল বাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট। অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা করে সুদূর পশ্চিম ভারতীয় ক্যারিবীয়ান দ্বীপ রাষ্ট্র ‘দি ল্যান্ড অব হিসপানিওয়ালা’ হাইতিতে আসি। যাত্রাটা ছিল যেমন রোমাঞ্চকর তেমনই কষ্টকর।
আমেরিকান বিমান বাহিনীর ‘ওয়েষ্টার্ন এয়ার লিফ্ট কমান্ড’এর দৈত্বাকৃতির পরিবহন বিমান লকহিড সি-৫ গ্যালাক্সি ও সি-১৪১ স্টার লিফটার করে টানা প্রায় ৩২ ঘণ্টা উড়ে আটলান্টিক পারি দিয়ে পৃথিবীর অপর প্রান্তে হাওয়াই দীপপুঞ্জের পার্ল-হারবার আমেরিকান এয়ার বেইসে সামান্য যাত্রাবিরতি শেষে পুয়ের্টো রিকো’য় অবস্থিত আর এক আমেরিকান এয়ার বেইস ’রুসভেল্ট রোড’ এ পৌছাই। টানা প্রায় ৩২ ঘণ্টার আকাশ ভ্রমণের ব্যাপারটি শুনতে রোমাঞ্চকর মনে হলেও বাস্তবতা ছিল ভয়াবহ।
এ সময়ে মাঝ আকাশে দু’বার বিমানের ‘এয়ার টু এয়ার রিফুয়ালিং’ এর যে বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা হয়েছিল তা মনে হলে এখনও শিহড়িত হয়ে পড়ি। এই সময়ে জীবন আর মৃত্যু যে কত কাছাকাছি হয়ে পড়ে তা যারা আমার মত বিমানের ককপিটে বসে দেখার সুযোগ হয়েছে তারাই বুঝবে! যদিও আমাদের কখনো এটা ভাববার অবকাশই হয়না। ‘পোয়ের্টো রিকো’য় প্রায় ৩ সপ্তাহের এক সএশাল অপারেশন এবং ফ্রেঞ্চ ল্যাংগুয়েজ ট্রেইনিং শেষে আবার আমেরিকান এয়ার ফোর্সের বিমানে চড়ে যাত্রা, এবার গন্তব্য হাইতি’র রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স।

পোর্ট-অ-প্রিন্স খুব সুন্দর একটা শহর। পোর্ট সিটি, একসময় দাস বেচা কেনার জন্যে উত্তর আর দক্ষিণ আমেরিকা উভয় মহাদেশের সবচেয়ে বড় আর প্রসিদ্ধ বাজার ছিল এটি। আটলান্টিকের পার থেকে ক্রমান্বয়ে উঠে গেছে উপরের দিকে প্রায় ৮,৮০০ ফিট। নিম্নবিত্তের মানুষদের বাস নীচের দিকে আর উচ্চবিত্তরা থাকে উপরের দিকে। কূটনীতিক আর ভিআইপিদের অবস্থানও উপরের দিকেই। জীবন যাত্রার মান অনুযায়ী মানুষ এখানে দুই ভাগে বিভক্ত I হয় অতি দরিদ্র না হয় অতি ধনী। মাঝামাঝি বলে কিছু নেই। উচ্চবিত্তদের প্রায় সবারই দ্বিতীয় আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে আমেরিকা বা পার্শ্ববর্তী দেশ ডমিনিকান রিপাবলিকে ।
বর্ণ ভেদে হাইতিয়ান’রা সাধারণভাবে দুই ভাগে বিভক্ত বলা যায়। পুরোপুরি কালো আফ্রিকান আর পনেরো শতাংশের মত জনগোষ্ঠি সাদা আর আফ্রিকান এর সংমিশ্রনের। হাইতিয়ান মিশ্র আফ্রিকানদের গায়ের রঙ লালচে, যারা মোলাটো নামে পরিচিত। অফিসিয়াল ভাষা ফ্রেঞ্চ ও হাইতিয়ান ক্রিয়োল | প্রায় সবাই খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বী হলেও কিছু সংখ্যক মানুষ কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয়। এ ছাড়াও ইহুদি, আরব খ্রিস্টান, ভারতীয়, চায়নিজ ব্যবসায়ী সম্প্র্রদায়ের কিছু মানুষও দেখা যায়। কিছু আফ্রিকান মুসলমানও আছে যাদের সংখ্যা খুবই নগন্য। আছে ছোট কয়েকটা মসজিদও। বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট এর আর্থিক সহায়তায় রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স এ একটা নতুন মসজিদ বানিয়ে দেয়া হয়েছিলো। আশা করি এর মাধ্যমে ইসলামের শান্তির বাণী প্রশারে ভূমিকা রাখবে।
হাইতি’র আবহাওয়াও বেশ চমৎকার ও একই সাথে বিচিত্র। নীচের দিকে যথেষ্ট গরম আর সেত সেতে, সারাক্ষণ ঘাম আর বিরক্তিকর মাছির উপদ্রব। অপরদিকে উপরের অংশের আবহাওয়াও ঠাণ্ডা আর নির্মল। জনবসতির আধিক্য নেই, সবুজ পরিপাটিতে সাজানো গোছানো, যেন ছবির মতো। দেখলে মনেই হবে না এ দেশে কোন সমস্যা আছে, হানাহানি আছে কিংবা আছে কোন অভাব। প্রয়োজনের তুলনায় সামান্যই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেও রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খুব একটা ভাল নেই। মানুষের বেচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থাটুকুও নেই। রাজনীতিবিদ, আমলা, সরকারী কর্মচারী বা ব্যাবসায়ীদের অসততার কারণে পাচার হয়ে গেছে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সম্ভাবনাময় একটা দেশ হওয়া সত্বেও প্রায় সবকিছুই কেমন জানি ধ্বংস প্রাপ্ত। পেছনে পরে আছে কিছু অসহায় দরিদ্র মানুষ যাদের কোন স্বপ্ন নেই, জীবন ঢাকা পরে আছে অভাব আর সীমাহীন শোষনের পেষণে। অনেকটা পশুদের মতই এ মানুষগুলোর বেঁচে থাকা।
যাই হোক, রাজধানী ‘পোর্ট-অ-প্রিন্স’এ আমেরিকার সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও শহরের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত করা হয়।
বলাই বাহুল্য হাইতি’তে তখন প্রায় যুদ্ধাবস্থা বিরাজমান। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট এ্যারিসস্টিড দেশ ত্যাগ করে আমেরিকাতে আশ্রয় নিয়েছেন। অস্থায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণ শুধু মাত্র রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ। সেখানে আমেরিকার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীই ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম। শহরের অভিযাত ও উন্নত যোগাযোগ সমৃদ্ধ এবং তুলনামূলক কম ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোর দায়িত্ব আমেরিকান বাহিনী তাদের হাতে রেখে শহরের অর্ধেকেরও বেশি অংশ জুড়ে যে ‘ডাউন টাউন’ বা পুরোনো শহর ও বস্তি এলাকা, সেখানেই আমাদের নিয়োজিত করা হয়। অধিক ঘনবসতি, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর বস্তি এলাকায় দায়িত্ব পড়াতে আমাদের অনেকের কাছেই তা কিছুটা মনোকষ্ট ও অস্থিরতার কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল। ঘিঞ্জী ও বস্তি এলাকার কারণে আমাদের দায়িত্বের পরিধি ও ঝুকি ছিল বেশি। এজন্য আমেরিকানদের চেয়ে আমাদেরই কষ্ট করতে হতো বেশি।
নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য সতর্কতার সর্বোচ্চ দিতে গিয়ে কষ্টের মাত্রাটাও ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।তুলনামূলকভাবে জুনিয়র এবং কমান্ডো যোগ্যতার কারণে ব্যক্তিগতভাবে আমার ওপর যথেষ্ট চাপ যাচ্ছিল। এজন্য এখানে আসার আগে বিদেশ বিভূঁইয়ের রংগিলা যে স্বপ্ন বুনেছিলাম তা ইতিমধ্যেই দুঃস্বপ্নে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছে। অধিকন্তু সদ্য সংসারী হওয়া মাত্রই বিরহের অনলে পরার অস্বস্থি এবং প্রিয়তমা আর সদ্যজাত পুত্রকে ছেড়ে আসার বেদনা তো ছিলোই। তাছাড়া, এখনকার মত তখন তো কোন ইন্টারনেট, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক বলে কিছুই ছিলো না। তার ওপর প্রথম একমাস ছিল না টেলিযোগাযোগেরও কোন ব্যবস্থা। চিঠিই ছিলো একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। চিঠি লেখা আর প্রাপ্তির অপেক্ষায় পার হয়েছে অনেক প্রহর। ৭ থেকে ১০ দিন এর কমে চিঠি পাওয়া যেতো না। প্রিয়জনের কাছে সকাল বিকেল মিলিয়ে প্রতিদিনই এক এর অধিক চিঠি লেখা অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। আমরা যারা বেচমেট ছিলাম তাদের মধ্যে সবাই কে কটা চিঠি লিখলো তা নিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতাও হচ্ছিল। এগুলো এখন মনে হলে হাসি পায়।
মাস খানেকের মধ্যে প্রথম টেলিযোগাযোগের ব্যবস্থা করা হলো। হাজারের অধিক তীর্থের কাক সেনানীর জন্য প্রথমে মাত্র দুটি কার্ডফোন বুথ লাগানো হলো। প্রথম প্রথম দেশে ফোন করার জন্য প্রতি মিনিট দুই ডলারেরও বেশি গুণতে হতো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে গেলেও তখনো আমাদের নিয়মিত পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা শুরু হয়নি। দেশ থেকে নিয়ে আসা যতসামান্য হাতের পাঁচ এর অবশিষ্ট ইতিমধ্যে কমে যাওয়ায় ফোনে কথা বলার জন্য অনেকেরই অবলম্বন করতে হয়েছে কঠিন রেশনিং এর। তার ওপর কথা বলার জন্য খোলা মাঠের মধ্যে এক তাবুতে স্থাপিত ফোন সেট অব্দি পৌছাতে যে দীর্ঘ কিউ হতো, তার বিরাম্বনা ও অপেক্ষমান সকল পদবীর ভুক্তভুগীর সামনেই প্রাইভেসি জলাঞ্জলি দিয়ে প্রিয়জনের সাথে কথা বলার সিষ্টেমের কারণে এক সময় কথা বলার সাধও মিলিয়ে যাবার উপক্রম হতে লাগলো। তার ওপর প্রায়শই লাইন না পাওয়ার বিড়ম্বনা আর পিছন হতে অপেক্ষমানদের মধুর মধুর বাণী শুনার কথা নাইবা বললাম।
এভাবেই কেটে গেল আরও ক’টা মাস। যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতা দিয়ে কোন অঘটন-দুর্ঘটনা ছাড়াই দায়িত্বাধীন রাজধানীর ডাউন টাউন এলাকাসমূহে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হওয়ায়, চারিদিকে আমাদের যথেষ্ঠ সুনাম ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পরে। আর এলাকাবাসির সাথেও ‘বাংলা আর্মি’র (স্থানীয়রা আমাদের এ নামেই ডাকতো) একটা ভাল সম্পর্ক তৈরী হবার সুবাদে পরিস্থিতি ক্রমেই অনুকূলে আসতে থাকে। একই সাথে ভীতি ও শংকার মাত্রাও কমতে শুরু করে। আমেরিকান সেনা নেতৃত্ব ও সদস্যারাও আমাদের এহেন সাফল্য ও যোগ্যতার উপযুক্ত মূল্যায়ন এবং তারিফ করতে কার্পন্য করেনি। এজন্য আমাদের কাজের পরিধিও ক্রমশ আরও বিস্তৃত হতে লাগলো।
উল্যেখ্য, হাইতির তখনকার এই অভিযানিক কার্যক্রম আমেরিকান বাহিনীর নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছিল। তবে আরও মাস কয়েক পরে জাতিসংঘ এর অনুমোদন দিলে তখন সব কার্যক্রম জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছিল। যাহোক, হাইতিতে সেসময় আমেরিকান সশস্ত্রবাহিনী কিংবা ফেডারেল সরকার বা এ্যামিনিস্ট্রেশনের যে ক’জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভিআইপি কিংবা সেক্রেটারী (মন্ত্রী) সফর করেছিল, প্রায় সবাই নূন্যতম একবার আমাদের কন্টিনজেন্ট পরিদর্শনে এসেছিলেন। বলাই বাহুল্য, একটা ভোজনও আমাদের এখানে অবশ্যই করতেন। কারণ আমাদের খাবারের সুনাম ইতিমধ্যে আমেরিকান ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে অতীব এক লোভনীয় মেন্যু হিসেবে যথেষ্ট ক্রেজ সৃষ্টি করে ফেলেছিল।
কন্টিনজেন্টের সুনাম ছড়িয়ে যেতে শুরু হওয়ার সুবাদে সে সময় আমাদের কন্টিনজেন্ট, বিশেষ করে সেনা কর্মকর্তারা আমেরিকান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ কর্মীদের আগ্রহের লক্ষ্য বস্তু হয়ে উঠেছিল। ইতিমধ্যে হাইতি’তে অবস্থানরত অমেরিকান সশস্ত্রবাহিনীর হাজার পনেরো সদস্যদের বিনোদনের জন্য তাদের বাহিনীর নিজস্ব রেডিও-টিভি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ‘এএফআরটিএস’ বা ‘আর্মড ফোর্সেস রেডিও টিভি সার্ভিস’ মোবাইল ষ্টেশন স্থাপন করে তাদের অনুষ্ঠান প্রচার চালু করেছে। বর্তমানে এ সংগঠনটি কে ‘এএফএন’ বা ‘আর্মড ফোর্সেস নেটওয়ার্ক’ বলা হয়। ‘এএফআরটিএস’ চালুর প্রথম দিকে এর সংবাদ কর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই আমাদের কন্টিনজেন্টের পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানিক ও সামাজিক কার্যক্রম নিয়ে রিপোর্ট, ডকুমেন্টারী বানিয়ে তাদের রেডিও এবং টিভিতে প্রচার করছিল যা আমাদের কাজে উৎসাহ বর্ধক টনিক হিসেবেও কাজ করেছিল।
আমেরিকার বিভিন্ন জাতীয় দিবস বা বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে চমক সৃষ্টির লক্ষ্যে ভিন্ন ধারার অনুষ্ঠান প্রচারে ‘এএফআরটিএস’ কর্মীদের সব সময় আগ্রহ লক্ষ্য করা যেত। আমি একবার বেশ কিছুদিনের জন্য হাইতিতে অবস্থিত আমেরিকান ‘ফোর্সেস হেডকোয়ার্টারে সমন্নয়ক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখন আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস আগত প্রায়, সপ্তাহ খানেক হয়ত বাকী। এই উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে অনেক কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। ফোর্সেস হেডকোয়ার্টারে দায়িত্ব পালনের সুবাদে বাড়তি কিছু সুযোগ-সুবিধা তো পেয়েছিলামই। সেই সাথে প্রতিদিনই কোন না কোন ফিষ্ট বা পার্টি থাকতো যেখানে যোগ দিতে পেরে যথেষ্ঠ পুলোকিতই হতাম। আর বয়সে তারুণ্যতা থাকায় খাবারের প্রতি অনীহাও কম ছিল। সেই সাথে মিউজিক আর ফলোড বাই ডান্স উপভোগের সুযোগ ছিলো বাড়তি পাওয়া।
এ সময়ে আমাকে ঘিরে অভুতপূর্ব এক বিরল ঘটনা ঘটে যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আর এ ঘটনাকেই ঘিরেই আমার এই লেখা। স্বাধীনতা দিবসকে উপলক্ষ্য করে সব জায়গায় সবার মাঝেই উৎসবের আমেজ। সে সময় এক দিন সকালে কাজে এসেই মর্নিং ব্রিফ, ফ্রেগো চেক করা, আর অন্য সব রুটিন কাজ/রিপোর্ট শেষ করে ডেস্কটপে আনমনে কি যেন একটা দেখছিলাম যা এখন আর মনে নেই। কিছুক্ষণ বাদেই দেখতে মন্দ না যুবা বয়সী ইউএস আর্মির একজন ফিমেইল প্রাইভেট কি কর্পোরাল তাও মনে করতে পারছি না, আমার নির্ধারিত কিউবিকেল এর ডেস্ক বা টেবিলের ওপর কিছু না বলেই সঠান করে আমার দিকে মুখ করে বসে (আমেরিকান বাহিনীগুলোতে এভাবে বসে পড়াটা তেমন অস্বাভাবিক কিছু মনে করা হয় না) আমার বসা চেয়ারের পাশের খালি চেয়ারটিতে এক পা রেখে আমাকে বললো, এই যে মেজর! আমি সুজানা পেরী ‘এএফআরটিএস’ হতে এসেছি। আমাকে কি একটুু সময় দেয়া যাবে? অনোতি দূরত্বে বসে মুচকি হাসি দিয়ে এই মহিলা সৈনিককের এ আবদার উপেক্ষা করার কোন সুযোগ বা ইচ্ছে কোনটাই আমার তখন হয়নি। বলা যায় একরকম ভালই লেগেছিল। তাই বুঝে, না বুঝেই বলে ফেলিঃ নিশ্চই ম্যাম, এ তো আমার জন্য আনন্দের।
এরপর বেশ কিছুক্ষণ ধরেই কথা চললো সুজানার সাথে। আসলে ‘এএফআরটিএস’ সে সময় হাইতিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের সশস্ত্রবাহিনীর সিলেক্টিব কিছু সদস্যদের ওপর এক ধরনের জরিপ করে নির্বাচিতদের নিয়ে পরে আলাদা একটা অনুষ্ঠান করবে বলেই আমার সাথে কথা বলতে এসেছিল। যাহোক, সব কথোপকথনগুলো সহজ করার জন্য বাংলায় তুলে ধরা যৌক্তিক মনে করে এখন হতে সেভাবেই দিচ্ছি।
সুজানা বললো, আমি তোমাকে ৩টি প্রশ্ন করছি, তেমন কঠিন কিছু না। যা মনে হয় তা ই বলতে পারো। কি না কি প্রশ্ন করে ভেবে একটু অস্থিরতা চেপে বসলো বৈ কি। তার ওপর, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মিডিয়ায় কথা বলার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার ব্যপারটিও মনে এলে অস্থিরতা আরও একটু বেগবান হয়। তবে সব শঙ্কাকে উপেক্ষা করেই তাকে বললাম, ওকে ম্যাম ইউ ক্যান গো এহেড। এরপর, বাইরে এসে অফিসের লাগোয়া মাঠের এক খোলা জায়গায় প্রশ্নপর্ব শুরু হলো। ক্যামেরা অন হবার সাথে সাথেই সুজানা পর পর ৩টি প্রশ্ন ছুড়ে দিলো:
প্রশ্ন-১: তোমাকে ৫০ ডলার এর একটা ফোন কার্ড দেয়া হলে কার সাথে কথা বলবে?
প্রশ্ন-২: তোমাকে এমুহুর্তে ১০০ ডলার দিয়ে দ্রুতই খরচ করতে বলি তাহলে তা দিয়ে কি করবে?
প্রশ্ন-৩: তোমাকে একটা ফ্রি এয়ার টিকেট দেয়া হলে কোথায় ঘুড়তে যাবে?
আমি সব শুনে বলা যায় কোন সময় না নিয়েই সবগুলো প্রশ্নের উত্তরই আমার স্ত্রীকে সংশ্লিষ্ট করে দিয়ে দেই। প্রশ্নোত্তর গুলো শুনে সুজানা’কে কিছুটা গম্ভীরই মনে হলো। এরপর আরও কিছু টুকটাক কথা শেষে এপর্বের যবোনিকা করে সুজানা কাছাকাছি মাঠের গাছ তলার এক স্থায়ী চেয়ার দেখিয়ে সেখানে বসে আরও কথা বলার আগ্রহ জানালে আরও কিছুক্ষণ কথা চলে তার সাথে। বলাই বাহুল্য এ সময় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েই বেশি কথা হয়।
সুজানা প্রথমেই জানতে চাইলো, আমার কবে বিয়ে হয়েছে। যখন জানলো বিয়ের বয়স তখনও বছর গড়ায়নি তখন অনেকটাই আশ্চর্য্য হয়েছিল। এরপর আমার স্ত্রীকে বিয়ের আগে কত দিন ধরে চিনতাম সেই প্রশ্নের উত্তর পেয়েই সুজানাকে যারপর নাই সবচেয়ে বেশি বিস্মিত মনে হয়েছিল। আমি যখন জানালাম, ‘বিয়ের আগে আমার স্ত্রী’কে কখোনও দেখাই হয়নি’ সুজানা বিশ্বাসই করতে পারছিল না। সে তো রিতীমত বলেই ফেললো, কি বলো- এটা কী করে সম্ভব!

এরপর বলতে থাকল, ‘আচ্ছা বলতো একটা মেয়ে যাকে কখনও দেখোইনি, চিনো না, জানো না, তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করার সাহস তোমার হলো কি করে?
‘আমাদের ধর্মীয় অনুশাসন ও দেশের সামাজিকতায় এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশে সাধারণত পরিবারের বড়দের পছন্দ করা কনের সাথে ছেলেদের বা পছন্দ করা বর এর সাথে মেয়েদের বিয়ে হয়ে থাকে’। আমার এ বক্তব্য শুনে সুজানা’র যে প্রতিক্রিয়া ও ভাবভঙ্গী হয়েছিল তা দেখে মনে হলো সে অষ্টমাশ্চর্য্য কিছু একটা শুনতে পেলো। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কিছুক্ষণ চুপ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো যা আমাকে অনেকটাই বিব্রত করে ফেলেছিলো। সে সময় সুজানা যে অনেকটাই ইমোশনাল হয়ে পড়েছে তার সাদা চেহারা অনেকটাই লাল হয়ে যাওয়া দেখে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল না আমার। তার দিকেও আমি তাকাতে অস্বস্থিবোধ করছিলাম।
এরপর সুজানা বলতে লাগলো, তোমার বৌ সত্যিই অনেক ভাগ্যবান, তোমার মত স্বামী পেয়েছে, যে এত অনুগত, এত আস্থাশীল, এত যত্নশীল। এরপর ছবি দেখতে চাইলে নোটবুকে থাকা বৌ-বাচ্চার ছবি এক সাথে দেখেই বলে উঠলো, ওহ আমার ঈশ্বর, সে তো দেখি পরী একটা, তোমার বৌ সত্যিই খুব সুন্দর, তুমিও অনেক সৌভাগ্যবান। সুজানার মুখে বৌ এর উচ্ছসিত প্রশংসা শুনে যুগোপদ আনন্দিত ও শরমিন্দা দুই’ই হয়েছিলাম। এরপর, সে আবারও বলতে লাগলো, জান মেজর, সারাটা জীবন তোমার মত একজন ‘শুধু বিশ্বস্থ’ মানুষ খোঁজ করে আমি এখন ক্লান্ত। শুধুই মরিচিকার পিছনে ছুটেছি। কারো মাঝেই আস্থার বিশ্বাসটা খুঁজে পাইনি, আমি তো সব সময়ই খুব সৎ ছিলাম।
বলতে বলতে সুজানা একসময় ফুঁপিয়ে উঠে। তার চোখের কোনে স্পষ্ট জল দেখতে পেয়ে আমিও একটু ইমোশনাল – সেই সাথে অনেক বিব্রতও হয়ে গিয়েছিলাম বৈকি। আমেরিকার হাই-ফাই সমাজে বেড়ে উঠা একটা সৈনিক মেয়ে আমার সামান্য কিছু কথা শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে এভাবে কেঁদে ফেলবে তা ছিল ধারণাতীত। ইতিমধ্যে তার প্রতি কিছুটা মায়াও জেগে গেছে। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়েই চারদিক তাকালাম এই ভেবে – কখন যে কে না কে আবার দেখে ফেলে। তখন কি না কি ভেবে বসে! কি করে – কি বলে তাকে যে শান্ত করবো বুঝতে পারছিলাম না। যাহোক, কিছুক্ষণের মধ্যেই সুজানা নিজকে সামলে উঠে। সরি বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নেয়ারও চেষ্টা করে। তবে আমারই তখন স্বাভাবিক হতে কষ্ট হচ্ছিলো। বার বারই মনে হয়েছিল কি বাংলাদেশ আর কি আমেরিকা – সব জায়গায়ই সব মেয়েদের আজন্ম আন্তরিক চাওয়ায় কোন পার্থক্য নেই। একটা শক্ত ভরসার ও আস্থার অবলম্বন আমেরিকার মত একটা যান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় বেশিরভাগ অবলাদের জন্যই সোনার হরিণ হয়ে আছে। সেখানে অনেক মেয়েরাই তাদের কাঙ্ক্ষিত সংসার গড়তে না পারার যে হতাশা বয়ে বেড়ায় তারই একটা রূপ হয়তো সেই দিন সুজানা’র মাঝে ফুটে উঠেছিলো যা আমার মনেও দাগ কেটেছিল। আমাদের দেশে অনেকেই এগুলো হয়ত কোন দিন জানবে না।
এরপর এক সময় সুজানাকে শুভ কামনা জানিয়ে বিদায় দিয়ে অফিস ডেস্কে ফিরে এলেও কাজের মাঝে মনো সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে একসময় আমিও ফিরে গিয়েছিলাম নিজের বসতিতে। তারপর এক সময় ফোর্স হেডকোয়ার্টারে আমার দায়িত্বের নির্ধারিত সময়সীমা শেষে ব্যাটালিয়নে ফিরে এলে সুজানার সাথে তেমন আর দেখা হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সুজানার সাথে দু’একবার দেখা হলেও সময় নিয়ে তেমন কথা বলা হয়নি, শুধু হাই, হ্যালো বলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। বরং বলা যায় আমি নিজ থেকেই সংযত থাকার চেষ্টা করেছি।
এদিকে আমাদের মিশনের দায়িত্বকালীন সময় প্রায় শেষ হয়ে আসতে শুরু করলে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাবার আনন্দ কল্পনা করে সময়টা অনেক ধীরেই এগুচ্ছে বলে মনে হতে লাগলো। হাইতি’তে সে সময় কেনা কাটার মত কাংখিত জিনিসপত্র খুব একটা না পাওয়া গেলেও যেখানেই দোকানপাট কিংবা মার্কেটের খোজ পেতাম সেখানেই ঢু মারতে আগ্রহের কমতি ছিল না। অন্যদিকে দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজের এবং অধিনস্থদের সরকারি ও ব্যক্তিগত দ্রব্য সামগ্রী গুছানো, প্যাকিং করা ও তদারকি করতে গিয়ে সময় দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে থাকলো। আমার ফ্লাইট শিডিউল শেষের দিকে নির্ধারিত ছিল বিধায় এসময় কিছুটা অস্থিরতাও চেপে বসেছিল বৈ কি!
যাইহোক, এক সময় আমার নির্ধারিত ফ্লাইট শিডিউল ঠিকই চলে এলো। আগ্রহের কারণেই ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই এয়ারপোর্টে চলে এলাম। তখনও বুঝতে পারিনি যে আমার জন্য এই হাইতি’তে আরও একটা বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে। বেলা পড়ন্ত প্রায়, পোর্ট-অ-প্রিন্স বিমানবন্দরের টারমার্কে দাড়িয়ে ক’জন সহকর্মীসহ আমাদের নির্ধারিত বিমানের লোডিং সুপারভাইজ করছিলাম। এমন সময় ’আমেরিকান এয়ারলাইন্স’ এর একটা ফ্লাইট এসে অদূরে পার্ক করল। বিমানবন্দরে কোন ‘বোর্ডিং ব্রীজ’ ফেসিলিটি না থাকায় যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে হেটে হেটে লাউঞ্জে যাচ্ছিল। অনেকটা অকস্মাৎ একটা পূর্ণবয়স্ক মেয়ে যাত্রী আমাদের দিকে অনেকটা তেড়ে এসেই আমার পিঠ চাপড়ে বলে উঠলো, এই যে মেজর, হাই, কেমন আছো? মাত্রই ছুটি থেকে আসলাম। তাকিয়ে দেখি সুজানা। অকল্পনীয়ভাবে সুজানাকে সামনে দেখে ভালো লাগলো না বিব্রত হলাম, বুঝতে বুঝতেই সুজানা বলে উঠলো, ’কোথায় যাচ্ছো?’ যখন বললাম, ইটস মাই টাইম টু গুড বাই তখন সুজানা’র চেহারা দেখেই মনে হলো সে এরকম একটা কিছু শুনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। মলিন একটা ভাব সুজানার চোখে-মুখে যে ফুটে উঠেছে তা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিলো না। এরই মধ্যে অনেক কথাই হয়ে গেল যার সব গুলোই ছিল তার হতাশা দুঃখের অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। আমি অনেকটা নীরব শ্রোতা হয়েই থাকলাম। সবশেষে বলল,
‘তুমি চলে যাওয়ার আগে তোমাকে একটা ফিস্ট দেবার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সেটা আমার ভাগ্যে নেই।
এরপর সুজানা আবারও বললো, তোমাকে একটা গিফ্ট দিতে চাই, তুমি না করবে না, কীভাবে তোমাকে এটা পৌছাতে পারি’।
আমি যতই বুঝাতে চেষ্টা করালাম এর কোন দরকার নেই, দেখা তো হলোই। কিন্তু নাছোড়বান্দা সুজানার পীড়াপিড়ির কাছে আমাকে সেদিন হার মানতে হয়েছিল। সুজানাকে যখন বললাম, লাস্ট ফ্লাইটের কাউকে দিয়ে দিলে আমি পেয়ে যাবো তখন মনে হয় ও স্বস্থি পেলো। এতক্ষণ ধরে সঙ্গে বা কাছাকাছি অবস্থান করা সহকর্মীরা যারা সবাই ছিল আমার জুনিয়র, তারা এসব বেশ গভীর ভাবেই দেখে যাচ্ছিল আর মিটিমিটি হাসছিল। মনে হলো ভালই এঞ্জয় করেছে ব্যপারটা। এরপর এক সময় হাগ দিয়ে সুজানা বিদায় নিতে চাইলে তাও পরিবেশ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিণয়ের সাথে প্রত্যাক্ষাণ করায় আবারও সুজানা যথেষ্ট হতাশ হয়েছিল বলেই মনে হলো।
এরপর, প্রায় ২৬ ঘণ্টার এক দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে আনন্দে আত্বহারা হয়ে থাকলাম কয়েকদিন। ছুটি কাটাচ্ছি – আত্বীয় বন্ধুদের বাসায় দাওয়াত খেয়ে বেড়াচ্ছি। এরমধ্যে লাষ্ট ফ্লাইট কবে কখন এলো তারও খবর নাই। খবর তখনই হলো যখন এক প্রিয় জুনিয়র সহকর্মী ফোন দিয়ে একটা প্যাকেট পৌছানোর জন্য বাসার ঠিকানা জানতে চাইল। আমারও বুঝতে বাকী রইল না যে এটা সুজানা’র পাঠানো গিফ্ট। ফোন পেয়ে গিফ্টটি নিয়ে কিছুটা আগ্রহ বেড়ে গেল বৈ কি! একসময় গিফ্ট’টি হাতে পেলাম- সাথে একটা আকর্ষণীয় ইনভেলাপও প্যাকের মধ্যে পেলাম। মনে হয় কোন কার্ড-টার্ড হবে। হ্যা, খুলে একটা অতীব সুন্দর কার্ডের দেখাই পেয়েছিলাম। যাতে সুজানা দরদী ভাষায় সুন্দর করে লিখেছিল, তুমি তো কিছুই নিতে চাওনি কিন্তু আমি তোমাকে আমার সব কিছুই দিতে চেয়েছিলাম।
দ্রুতই আশেপাশে তাকালাম এই ভেবে না জানি কার্ডটি কেউ আবার দেখে ফেলে। বৌ এর চোখে পড়লে তো কথাই নাই। ’আম ছালা – দুই’ই যাবে! ভাগ্যিস কেউ কাছে না থাকাতে সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম।
(এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








