শেষ হলো ‘ঐতিহাসিক ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’, ভাঙলো মিলনমেলা। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকার ২৬ টি নৃ-জাতি গোষ্ঠী তাদের জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে একমঞ্চে হাজির ছিল গত তিনদিন।
আজ রোববার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উৎসব প্রাঙ্গণে শ্রীমঙ্গলের প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ নেসার আহমদ বলেন, ঐতিহাসিক এই মেলবন্ধন যেন তিনদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে যায়। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও আয়োজকদের ২৬টি নৃ-গোষ্ঠী নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। এমন মিলনমেলা বিরল! এ থেকে আমাদের নতুন পরিকল্পনা করতে পারলে ক্ষুদ্র নৃ-জাতি গোষ্ঠীর কাজে আসবে, উৎসবের ধারাবাহিকতা সার্থক হবে।
গত ১০ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলেছে উৎসব। এখানে স্থানীয় বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন উপকরণের মেলাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পর্যটন শিল্পকে বিকাশিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিনদিনের ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করা হয়। উৎসবে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে বসবাসরত ২৬টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ও জীবনচর্যার বিষয়সমূহ উৎসবে উপস্থাপন করেছে।
পরিবেশনার ক্রমানুসারে, খাসিয়া, গারো, মণিপুরী, ত্রিপুরা, শবর, খাড়িয়া, রিকিয়াসন, বারাইক, কন্দ, রাজবল্বব, ভূঁইয়া, সাঁওতাল, ওরাও, গড়াইত, মুন্ডা, কুর্মী, ভুমিজ, বুনারাজি, লোহার, গঞ্জু, কড়া জনগোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। এ অঞ্চলের সবর জনগোষ্ঠী পত্র সওরা নৃত্য ও চড়ইয়া নৃত্য, খাড়িয়াদের খাড়ি নৃত্য, রিকিয়াসনদের লাঠিনৃত্য, বাড়াইকদের ঝুমুর নৃত্য, কন্দদের কুই নৃত্য, রাজবল্ববদের উড়িয়া নৃত্য, ভূঁইয়াদের ভূঁইয়া গীত, সাঁওতালদের লাগড়ে নৃত্য, ওরাওদের ওরাও নৃত্য, গড়াইতদের গড়াইত নৃত্য, মুন্ডদের মুন্ডারি নৃত্য, কুর্মীদের কুরমালি নৃত্য, ভূমিজদের ভূমিজ নৃত্য, বুনারাজিদের উড়িয়া ভজন, লোহারদের ভুজপুরি রামায়ন কীর্তন, গঞ্জুদের গঞ্জু নৃত্য, কড়াদের কড়া নৃত্য, খাসিয়দের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ডিয়া কেরছা ও মালা পরিধানের মাধ্যমে নাচ-গান, তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা, সীয়াট বাটু (গুলতি দিয়ে খেলা), কিউ থেনেং ( তৈলাক্ত বাঁশে উঠার প্রতিযোগিতা), ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাথারক নৃত্য, বেসু নৃত্য, জুম নৃত্য, গ্যারি পুজা, নক থাপেং মা পুজা, কাদং (রনপা), গারো জনগোষ্ঠীর জুম নৃত্য, আমোয়দেব (পুজা), গ্রীক্কা নাচ (মল্লযুদ্ধ ), চাওয়ারী সিক্কা (জামাই-বৌ নির্বাচন), চাম্বিল নাচ (বানর নৃত্য), মান্দি নাচ, রে রে গান, সেরেনজিং (প্রেমকাহিনীর গান), মণিপুরী জনগোষ্ঠীর রাসলীলা নৃত্য, পুং চলোম নৃত্য (ঢোল নৃত্য), রাধাকৃষ্ণ নৃত্য, এবং সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল নৃত্য একে একে প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়াও, খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান নিয়ে লাইভ পরিবেশনা, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মনিপুরীদের লাইভ তাঁত, চা ও রাবার প্রসেসিং, হোমস্টে, কুমারদের লাইভ মাটির জিনিসপত্র প্রস্তুত করা সরাসরি দেখেছেন উৎসবে আগত দর্শনার্থীরা।
উৎসবের শেষদিন চা-জনগোষ্ঠীর মুন্ডা অধিবাসীর মুন্ডারী নৃত্য, এরপর দুপুরে বুনার্জীদের উড়িয়া ভজন, গড়াইত নৃত্য, রাজবল্ববদের উড়িয়া নৃত্য, শবরদের পত্র সওরা নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য, কুই নৃত্য, লাগরে নৃত্য, ওড়াও নৃত্য, জুম নৃত্য, গারোদের সেরেনজিং নৃত্য, বৈশ্য নৃত্য, খাসি দলীয় নৃত্য, ধামাইল নৃত্য, গারোদের মান্দি নৃত্য এবং সবশেষে মনিপুরীদের রাধাকৃষ্ণ নৃত্য দিয়ে উৎসব শেষ হয়।







