বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ (ডায়লগ) প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন: জো বাইডেন যেদিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের (যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট) সঙ্গে ডায়লগ করবে, সেদিন আমিও করব।
মঙ্গলবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে তার সাম্প্রতিক তিন দিনের সরকারি সফরের ফলাফল সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ? বিরোধী দলের সঙ্গে। কোন বিরোধী দল? বিরোধী দলটা কে? সংসদীয় নিয়মে বিরোধী দলের একটা ব্যাখ্যা আছে। বিরোধী দল হচ্ছে, সেই দল যাদের সংসদে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। এর বাইরেরগুলো পরিগণিত হয় না। আমেরিকায়ও হয় না। ট্রাম্পকে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কী বলবে? যদিও আমরা তাদের মতো সরকার ব্যবস্থায় নেই। এটা মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, এই যে মানুষগুলোরে হত্যা করা হলো, তাকে (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) একটা প্রশ্ন করা হলো না কেন- যখন উপনির্বাচনে একটা ঘটনা ঘটেছে, হিরো আলমের ওপর হামলা, বিচার চাইল। এখন পুলিশ হত্যা করল, এতগুলো সাংবাদিককে মারল, তারা এটার বিচার দাবি করল না কেন?
এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করে বলেছেন: বিএনপি একটা সন্ত্রাসী সংগঠন, সন্ত্রাসীদের কিভাবে শিক্ষা দিতে হবে, সেই শিক্ষাটাই এখন আমাদের দেওয়া উচিত। সেটাই আমরা দেবো। এদের জন্য দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে সেটা হতে দেওয়া যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: এদের (বিএনপি) মধ্যে কোন মনুষত্ববোধ নেই। এদের সঙ্গে আমরা যতই ভালো ব্যবহার করি না কেন এদের স্বভাব কখনোই বদলাবে না। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদে এরা বিশ্বাস করে। অস্ত্রহাতে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে এদের জন্ম। কাজেই এরা ওটাই ভালো বোঝে অন্য কিছু না। আমার ধারণা এরা নির্বাচন চায় না, এরা একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়। মানুষকে কষ্ট দেওয়াটাই যেনো এদের চরিত্র।
তিনি আরও বলেন: আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সাংবাদিকদের ওপর তারা (বিএনপি) হামলা চালাচ্ছে। যা করেছে তা তারা প্রকাশ্যে করেছে। গাড়ি পোড়ানো, গতকালও লালমনিরহাটে আমাদের যুবলীগের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। হত্যা করা, মানুষের সম্পদ নষ্ট করা আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এটাই তাদের চরিত্র। বিশেষ করে তারা সাংবাদিকদের ওপর যে হামলাটা করলো এটা আমি বুঝতে পারছি না। সাংবাদিকরা তাদের পক্ষে ভালো ভালো নিউজ করছিলো, টকশোতে তাদের পক্ষে কথা বলা; সাংবাদিকরা সরকারের দোষটাই তো বেশি করে দেখছিল। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর তাদের এ রাগের কারণটা আমার বোধগোম্য হলো না। টেলিভিশন প্রাইভেট সেক্টরে আমিই দিয়েছি। কিন্তু সব জায়গায় তাদের সংবাদটাই সবার আগে। আমার নিউজ যায় অনেক পরে। কোন কোন টেলিভিশনে আমি চার নম্বর-পাঁচ নম্বরেও থাকি। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই।
যোগ করেন: যারা আহত হয়েছেন আমাদের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে হাসপাতালে গেছেন, সকলের খোঁজ খবর নিয়েছেন চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। ২০১৩ সালে ঠিক এ ধরণের অগ্নি সন্ত্রাস তারা করে। ২০১৩-১৪-১৫ পুরো তিন বছর ধরে তাদের এ অগ্নি সন্ত্রাস চলে। ক্ষতিগ্রস্থদের আমরা আর্থিক সহযোগিতা করেছি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনের আমন্ত্রণে গত ২৪ অক্টোবর ব্রাসেলসে যান শেখ হাসিনা। সফরকালে সাইডলাইনে ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন। সফর শেষে ২৭ অক্টোবর ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।








