আফিফা বেগম। পেশায় গৃহিনী। মনিপুরী পাড়ায় ২ নম্বর রোডে সেবা বোর্ড কৃষি ল্যাবরোটরি মসজিদের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পরিবারের জন্য সাপ্তাহিক সবজি কিনছেন। তিনি বলছেন: গতদিন এখান পরিবারের জন্য সবজি ও ডিম নিয়েছিলেন। অনেক টাকা সাশ্রয় হয়েছিলো। তাই আজ লাইনে দাঁড়িয়েছেন পরিবারের জন্য বাজার করতে। তার মত আরও অনেকে এসেছেন পরিবারের সাপ্তাহিক বাজার করতে।
সবজির সুলভমূল্যের বাজার এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে রাজধানী জুড়ে। ক্রেতারা বলছে: মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর মাছ মাংস, ডিম, দুধ বিক্রি করছে। সরকার স্বল্প মূল্যে চাল-ডাল-তেলসহ আরও কিছু পণ্য বিক্রি করছে কিন্তু সবজির বাজারের দিকে কারও নজর ছিল না। বেশির ভাগ সবজি কিনতে কেজি প্রতি ১শ’ টাকা বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতি এই ‘সুলভ মূল্যের বাজার’ আমাদের মধ্যে স্বস্থি এনে দিয়েছে।
এই বাজারে আসলে কী পাওয়া যাচ্ছে? আমরা জানতে চেষ্টা করেছি সেটা। প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৫৫, আলু ৩০, বেগুন ২০, কাঁচা মরিচ ৫০,শসা ৪০, টমেটো ৪৫, গাজর ২৫, শিম ২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস মিষ্টি কুমড়া ২০, ফুল কপি ২৫, লাউ ২৫, লেবু ৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিম পাওয়া যাচ্ছে এ বাজারে। ১০ টাকা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি স্পটে পাওয়া যাচ্ছে এ সুলভ মূল্যের সবজি ও ডিম। এরমধ্যে মনিপুরী পাড়ায় ২ নম্বর রোডে সেবা বোর্ড কৃষি ল্যাবরোটরি মসজিদের সামনে, পূর্ব রাজাবাজারের নজনিন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে ও পশ্চিম রাজাবাজারের রণদা ফার্মেসির সামনে।
মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এ আয়োজন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান ইরান।
তিনি বলেন: আমাদের অনেকেই আছেন দুর্দশার কথা বলতে পারেন না। বাজারের ব্যাগ ভর্তি করে বাসায় দিয়ে আসা হলেও নিতে চান না। আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করে কুণ্ঠিত হন। সেই সব মানুষের জন্য আমাদের এই আয়োজন। আমি চেয়েছি আমার ওয়ার্ডের মানুষ রোজার এ মাসটায় যেনো কষ্টে না থাকে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এ প্রচেষ্টা। আমার এ প্রচেষ্টায় সার্বিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমার এ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সুলভ মূল্যে সবজি ও ডিম বিক্রি কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তারা বলছেন: এই রমজানে সকল প্রকার পণ্য কিনতে সাধারণ মানুষের নাভিঃশ্বাস উঠে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুলভ মূল্যের বাজার আমাদের স্বস্তি দিয়েছে। অন্তত বাজারেরে থেকে কিছুটা কমদামে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো কিনে রোজা পার করতে পারছি।








