হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়ার সময় একের পর এক সাবেক মন্ত্রী-এমপি আটক হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও কেন আটক, এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার মধ্যে এর কারণ জানাল ইমিগ্রেশনের স্পেশাল ব্রাঞ্চ।
তারা বলছে, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ অনেককে ইমিগ্রেশন থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বর্তমানে দেশের সব ইমিগ্রেশন পোস্টে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে পরামর্শক্রমে বিভিন্ন হাই প্রোফাইল ব্যক্তিবর্গ যেমন- সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন না করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সাবেক মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তাকে আটক করা হয়।
জানা গেছে, বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে আটক করেছে। পরে তাকে হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিমানবন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি পাড়ি দেওয়ার জন্য তিনি বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।
এছাড়াও দেশ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
মঙ্গলবার বিকেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। বিমানবন্দর সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিমানবন্দরে দায়িত্বরত বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইনসের এক কর্মকর্তা জানান, এদিন দুপুরের দিকে দেশ ছাড়ার জন্য বিমানবন্দরের যান ড. হাছান। সেখান থেকেই তাকে আটকে দেওয়া হয়।
তিনি জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাছান মাহমুদকে হস্তান্তর করা হয় সেনাবাহিনীর কাছে।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদসহ আরও অনেকে বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, আন্দোলনের মুখে নির্বাহী আদেশে ২০১৮ সালে সরকারি চাকরি থেকে কোটা প্রথা বিলুপ্ত করেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি সংগঠনের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর গত ৬ জুন হাইকোর্ট আবারও কোটা বহাল করে রায় দেয়। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরদিন ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনে’র ব্যানারে সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংগঠিত হতে থাকেন তারা।
এ ব্যাপারে সরকারপ্রধানের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দেওয়া বক্তব্য, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও ছাত্রলীগের হুমকি আন্দোলনে গতি সঞ্চার করে। আন্দোলনকারীদের রাজাকারের নাতি-পুতি হিসেবে ইঙ্গিত করায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও দেশত্যাগ করেন। এর পরপরই মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ভাষণে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।







