ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ এবং সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহসহ ৭ দফা দাবিতে বরগুনায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সোমবার (৩ আগস্ট) বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বরগুনা প্রেসক্লাব চত্বর থেকে সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে ওজোপাডিকোর (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) বরগুনা কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণাঞ্চলের পায়রা ও তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হলেও উৎপাদন এলাকার মানুষই চরম বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছেন। তাদের দাবি, বরগুনার প্রায় ১০ লাখ মানুষ দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাচ্ছেন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছ সংরক্ষণে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় হাজারো জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
আন্দোলনকারীদের ৭ দফা দাবি
১.বরগুনায় সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। ২.অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ বাতিল। ৩.ইউনিট মূল্য পুনর্বিবেচনা। ৪.নিয়মিত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল প্রদান। ৫.অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ। ৬.গ্রাহকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহার বন্ধ। ৭.বরগুনায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস চালু।
বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম. ডি. আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, “আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনের সূচনা হলো। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ অফিস অচল করে দেওয়া হবে।”
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের আহ্বায়ক মুসফিক আরিফ বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বরগুনাবাসীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।”
কর্মসূচি শেষে সাত দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার (অথবা সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রধানের) বরাবর প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও স্মারকলিপির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে বরগুনা শহরে প্রায় ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ৩ মেগাওয়াট। একইভাবে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি এটিকে জাতীয় পর্যায়ের সংকট উল্লেখ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এতে বরগুনার বিদ্যুৎ সংকট ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।







