আর্সেনালের বিপক্ষে হেরে ঘরের মাঠ ওল্ড ট্রাফোর্ডে টানা নবম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলের আটে থাকা দলটির আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনা আগেই নিভেছে। টেবিলের পাঁচে থেকে ইউরোপা লিগে খেলার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এমন শোচনীয় অবস্থার মাঝে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন কোচ এরিক টেন হাগ।
রেড ডেভিলদের কোচ ইংলিশ জায়ান্টদের দায়িত্ব পালনকে পিঠের পেছনে হাত বেঁধে সাঁতার কাটার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ক্লাবের দুঃসময়ে দলের চোট সমস্যার কথা উল্লেখ করে জানান, তার কাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘যেকোনো ম্যানেজার সবসময় ভালো কিছু করতে পারে। কিন্তু এখানে দুবছর আছি এবং মাত্র একবার খেলোয়াড়দের পুরো গ্রুপটার সঙ্গে ছিলাম। এতো চোট আক্রান্ত একটি দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন না। ব্যাপারটা পিঠের পেছনে হাত বেঁধে দিয়ে সাঁতার কাটার মতো। আপনাকে মাথাটি পানির উপরে রাখতে হবে এবং আমরা সেই চেষ্টা করছি।’
‘আমাদের সকল সমস্যায় ফিরে তাকিয়ে তারপর পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করুন। দেখতে হবে, আমরা প্রতিযোগী ছিলাম। তবে অবশ্যই যেমনটা চেয়েছিলেন, তেমন হয়নি। আমাদের জিততে হবে, প্রতিটি খেলা জিততে হবে। তবে এই মুহূর্তে আমরা এমন অবস্থায় নেই। অবশ্যই চোটজর্জর এমন দল নিয়ে নয়।’
টেন হাগের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম রক্ষণ। মিডফিল্ডার কাসেমিরোকে রক্ষণে খেলাতে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ ব্রুনো ফের্নান্দেস, মার্কাস র্যাশফোর্ড, হ্যারি ম্যাগুয়ের এবং ম্যাসন মাউন্টরা চোটে অনুপস্থিত।
ইউনাইটেড এমাসের শেষদিকে এফএ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারাতে পারলে ইউরোপা লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু এফএ কাপের ফাইনালিস্টরা সব প্রতিযোগিতা মিনিয়ে শেষ ৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জিততে পেরেছে। সেটিও অবনমন হয়ে যাওয়া শেফিল্ড ইউনাইটেডের বিপক্ষে।
এফএ কাপে জিততে না পারলে রেড ডেভিলরা ইউরোপা লিগে খেলতে পারবে না। কারণ ইপিএলের শেষ দুই ম্যাচ জিতলে দলটির পয়েন্ট হবে ৬০। বর্তমানে টেবিলের পঞ্চম স্থানে থাকা টটেনহ্যাম হটস্পার দুই ম্যাচ বাকি থাকতে ৬৩ পয়েন্ট ঝুলিতে ভরেছে।
টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকে ইপিএলে মৌসুম শেষে ব্যর্থ হলে টেন হাগের দলের জুটবে না কনফারেন্স লিগে খেলার টিকিটও। এমন হলে ইউনাইটেড ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবার ইউরোপীয় কোনো আসরে না খেলে আগামী মৌসুম পার করবে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন টেন হাগের ভাষ্য, ‘এটা খুবই ক্ষতিকর। এমন পরিস্থিতিতেই আমরা রয়েছি। সবাই জানে সমস্যাগুলো কতটা ব্যাপক। তবুও আমাদের কাছে লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। সমর্থকরা বোঝে আমরা কোন পরিস্থিতিতে আছি। আজ তারা প্রথম বাঁশি থেকে আমাদের সমর্থন জুগিয়েছে। তারা দেখেছে দলের সমর্থন প্রয়োজন। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং এটা খুবই ভালো দিক।’







