তাও ইউয়ান মিং বা তাও চিয়েন

তাও ইউয়ান মিং বা তাও চিয়েনের ঐতিহাসিক চিত্র, একজন ব্যক্তি ধূমপান করছেন, পটভূমিতে লেখনী ও প্রাচীন উপকরণ দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
তাও চিয়েন (৩৬৫-৪২৭ খ্রিস্টাব্দ)। জন্মেছিলেন চীনের কিয়াংসি অঞ্চলে। দরিদ্র কৃষক হিসেবেই দিন কেটেছে। জাগতিক কষ্ট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তিনি যে তার জীবনে এক বিষাদময় তৃপ্তির সন্ধান পেয়েছিলেন, তার কবিতা সেই কথা বলে দৃশ্য তুলে ধরে।
প্রকৃতির সাথে তার গভীর সংযোগ টের পাওয়া যায় তার লেখায়। তার কবিতা পরবর্তীকালে চীনের মহান প্রকৃতি-কবিদের প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে চন্দ্রমল্লিকার জন্য সবচেয়ে বিখ্যাত চীনা কবি তিনি। এই ফুলের কথা বারবার তার কবিতায় এসেছে। প্রকৃতি ছাড়াও দ্রাক্ষারস বা ওয়াইন বিষয়ক কবিতার জন্য তিনি বিশেষ পরিচিত। তাও চিয়েন এর কবিতা এক গভীর দার্শনিক প্রকৃতি তুলে ধরে। কনফুসিয়ান, তাওবাদী ও বৌদ্ধদর্শনের দিকে চিয়েনের ঝোঁক ছিল। চান বা ধ্যান বৌদ্ধদর্শনের আদি গোষ্ঠী ‘হোয়াইট লোটাস সোসাইটি’র কিছু সন্ন্যাসী তার বন্ধু ছিল।
- আমার দরজা আর উঠানের চারপাশে
নেই কোনো ধুলা, নেই কোলাহল
শুন্য ঘরে চঞ্চলতা নেই।
খাঁচায় বন্দি থেকে বহুদিন
ফিরে এলাম তাদের কাছে, তারা প্রকৃত যেমন। - আমি আমার কুঁড়েঘর গড়েছি আর সবার মাঝেই
কিন্তু সেখানে কোনো গাড়ি-ঘোড়ার আওয়াজ নেই।
যদি তুমি জিজ্ঞেস করো, কীভাবে এ সম্ভব?
বলব, যখন হৃদয় দূরে থাকে, নির্জনতা আসে।
পূবের বেড়া দিয়ে আমি তুলে এনেছি চন্দ্রমল্লিকা
আর দেখি দূরের উত্তরের পাহাড়কে,
সন্ধ্যায় পাহাড়ের বাতাস সতেজ।
উড়ন্ত পাখিরা ফিরে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে।
এ সবের মাঝে এক বিরাট সত্য নিহিত আছে
কিন্তু আমি যখন তা প্রকাশ করতে যাই
পাই না খুঁজে শব্দ। - হেমন্ত ধীরে শেষ হয়ে আসে
বেদনাদায়ক ঠাণ্ডা ভোরের বাতাস ঘন করে তোলে শিশির
এখানের ঘাস আর হবে না সবুজ,
গাছ ও পাতাগুলো বিষন্ন, জীর্ণ।
স্বচ্ছ বাতাস পরিস্কার ও শুদ্ধ
আর ওপরে রহস্যমাখা এক সাদা আকাশ। - হেমন্তের চন্দ্রমল্লিকার রঙ অপরূপ
শিশির মাখানো কাপড়ে আমি তুলি সেই ফুল।
আর দুঃখ ভুলতে দ্রাক্ষাসুরায় ভাসিয়ে দিয়েছি সব
জগতের সব চিন্তা পেছনে ফেলে দিতে।
একা, আমি নিজেকে ঢেলেছি পানপাত্রে।
পাত্র যখন শূন্য, তখন সে নিজেই নিজের জন্য ঢালে
আর সূর্য ডুবে যায়, সব কাজ মুছে দিয়ে।
হামিংবার্ড গাইতে গাইতে ফিরে যায় বনে,
গর্বিত মুখে, আমি পুবের বারান্দায় শিস বাজাই
আর ফিরে পাই আবার জীবনের মানে। - কি চমৎকার এই স্থির মেঘ!
কি অদ্ভুত এই মৌসুমী বৃষ্টি!
অন্ধকার ভরে তুলেছে সমস্ত চরাচর
ঝাপসা করে দিয়েছে সব পথ-
পুবের বারন্দায় একাকি বসে
পান করি বসন্তের ওয়াইন।



