অর্থনীতি

ডলারের বিপরিতে শক্তিশালী হচ্ছে ‘টাকা’

ডলারের বিপরিতে শক্তিশালী হচ্ছে ‘টাকা’
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

অন্তর্বর্তী সরকারের মাত্র ১১ মাসের মধ্যে প্রবাসী আয়ের প্রবল গতি এবং প্রত্যাশিত রপ্তানি আয়ের ফলে মার্কিন ডলারের তুলনায় বাংলাদেশি টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ক্রমশ কমেছে। আজ দেশের বেশিরভাগ ব্যাংকে প্রতি ডলার ১২০.৩০ টাকা থেকে ১২১.২০ টাকায় লেনদেন হয়েছে, যেখানে গত সপ্তাহের শুরুতে এই হার ছিল ১২২.৮০ থেকে ১২২.৯০ টাকা।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স— যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার। ফলস্বরূপ, রেমিট্যান্স প্রবাহে ২৬.৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১.০৭ বিলিয়ন (১ হাজার ৭১ মিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স। গড় হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৮৯.২৫ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯৪৮ মিলিয়ন ডলার।

এদিকে রপ্তানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৫৮ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি টাকার মান শক্তিশালী হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর পরও ডলারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে, এবং এতে টাকার মান স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।

তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার একাদশ মাসে পদক্ষেপ নিয়েই অর্থনীতি ও প্রশাসনে সংস্কার শুরু করে। এতে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে ডলারের বিনিময় হার কমে এসেছে প্রায় ১২০ টাকায়— এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।”

তিনি আরও জানান, ডলারের দাম পতনের মূল কারণ হলো সরবরাহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত দুই বছরে এই পর্যায়ের সরবরাহ আর দেখা যায়নি।

রেমিট্যান্স প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি। সরকার মূলধনী বাজারে মূল্য কারসাজি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও এই প্রবণতায় বড় অবদান রেখেছে।

প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি’র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা বিনিময় হারের চাপ সামাল দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বস্তি দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে চাপ থাকলেও এই রেমিট্যান্স প্রবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।”

বিষয়:টাকা ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…