জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বল হাতে চেনাছন্দে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। প্রতিপক্ষের ৮ উইকেট ঝুলিতে ভরেন সিরিজে। সর্বাধিক উইকেট শিকারি বোলার হয়ে সিরিজসেরা পেসারের আকস্মিক চোটে পড়া বাড়িয়েছে দুশ্চিন্তা। দুদিন পিছিয়ে যায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণাও। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তাসকিনকে সহ-অধিনায়ক করে দেয়া হয় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দল।
গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে খেলার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে টিম টাইগার্স। তাসকিন দেশ ছাড়ার আগে বিসিবিকে দিয়ে গেছেন সাক্ষাৎকার। চোটজনিত সমস্যা থাকলেও দলে অন্তর্ভুক্ত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্মরণ করেছেন অতীতে বাদ পড়ায় তাকে নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী।
‘নিশ্চিতভাবেই (ফিরে আসা) এতো সহজ ছিল না। অনেক ঝুঁকি নিয়েছি। কারণ কোভিডের সময় ছিল। কঠোর অনুশীলন করেছি। ওই সময় অনেক মানুষ মারা গেছেন। আমি আসলে বাংলাদেশ দলে একটা ম্যাচ খেলার জন্য মরিয়া ছিলাম। কারণ সবাই বলছিল যে আমি শেষ হয়ে গিয়েছি। নিজের সাথে জেদ করে একটা ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলাম। আমি আরেকটা বার হলেও লাল-সবুজ জার্সিটা পরবো। আল্লাহর রহমতে আপনাদের দোয়ায় ৩ বছর ধরে খেলছি। ইনশাআল্লাহ সামনে আরও খেলবো।’
‘ফিরে আসার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। ওই সময় কোভিড ছিল, অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। শারীরিক ও মানসিক, সবদিক দিয়েই ফিট হওয়ার চেষ্টা করেছি। আগের থেকে একটু উন্নতি হয়েছে, তবে এখনো উন্নতির অনেক জায়গা আছে।’
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে চোটের কারণে সুযোগ না পেয়ে মিরপুর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনে আবেগ সামলাতে পারেননি তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারের চোখে ঝরছিল জল। এবারো ছিল শঙ্কা। যদিও বিসিবির নির্বাচক কমিটি যেকোনো মূল্যে তাকে দলে নিতে মরিয়া ছিল। শেষপর্যন্ত দলে থাকা নিয়ে স্বস্তির কথাই জানালেন ২৯ বর্ষী তারকা।
‘অনেক ভালো অনুভব করেছি। আলহামদুলিল্লাহ আমি দলেও আছি, সহ-অধিনায়কও হয়েছি। দল ঘোষণাটা যখন পিছিয়েছে, আমার মনে পড়েছে ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে মন খারাপ করে মিরপুর স্টেডিয়াম থেকে চলে গিয়েছিলাম। আরেকটা বিশ্বকাপে আমার জন্য দল দুইদিন পরে দিয়েছে। এটা আসলে একজন খেলোয়াড়ের জন্য গর্বের মুহূর্ত। চেষ্টা করবো সম্মানটার মূল্য দেয়ার।’








