‘আসলে সত্যি কথা বলতে, এখন আমার দলকে দেয়ার সময় হয়েছে। আমি অভিজ্ঞ হয়েছি, আগের চেয়ে উন্নতি করেছি। এতবছর বাংলাদেশ দলে খেলে এখন যদি আমি উন্নতি না করি, তাহলে দেশের সাথে অপরাধ করছি। আমার উন্নতি করাটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় এবং করতেই হবে। এতবছর যে ক্রিকেট বোর্ড আমাকে বহন করেছে, খেলিয়েছে, সুযোগ দিয়েছে। এখন আমার আসলে সামনের কিছু বছর দেশকে ও দলকে দেয়ার সময়।’
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে টিম টাইগার্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বিসিবিকে সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেন তাসকিন আহমেদ। দলের হয়ে সেরাটা দেয়ার অঙ্গীকার করে দেশ ছেড়েছেন বিশ্বআসরে টাইগারদের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া তারকা পেসার।
জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা নিয়ে আবেগ ও অনুভূতির কথা জানিয়েছেন ডানহাতি পেসার। সময় যতো গড়িয়েছে, দেশের হয়ে খেলার মূল্যটা বোঝেন বলেও জানালেন। অতীতে একাধিকবার বাদ পড়ার কথাও স্মরণ করেছেন।
‘আসলে বাংলাদেশ দলে সবসময় প্রত্যেকটা সিরিজে যখনই সুযোগ পাই, অন্যরকম একটা অনুভূতি হয়। দেশের জন্য খেলাটা অন্যরকম একটা গর্বের অনুভূতি। ব্যাখ্যা করাটা আসলে আমার জন্য কঠিন। বিশেষত আবার যখন ফিরে এসেছি, তারপর থেকে জায়গাটার অনেক মূল্য দেই। কারণ যখন আড়াই থেকে তিন বছর দলের বাইরে ছিলাম, ওই সময়ে বুঝতে পেরেছি যে বাংলাদেশ দলে খেলার শান্তিটা অন্য কোথাও নাই। আমার জন্য ব্যাখ্যা করা কঠিন, এটা আসলে অমূল্য। অন্যরকম এক অনুভূতি বাংলাদেশের জন্য খেলা।’
‘প্রত্যেকবার যখন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়, আমার গা শিউরে ওঠে। এমনও হয়েছে আমার চোখ থেকে পানি পড়েছে। অসাধারণ অনুভূতি। মনে হয় যে দেশের জন্য কিছু করতে নেমেছি। প্রতিপক্ষ যতই কঠিন হোক না কেন, সবসময় নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়।’
গ্রুপপর্বের বাধা পেরিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে খেলা টাইগারদের লক্ষ্য। দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচকের কণ্ঠ থেকে সেই আশার কথাই ঝরেছিল। তাসকিনের কথাতেও থাকল একই সুর।
‘খুব বিশ্বাস করি আমাদের দল অবশ্যই সেকেন্ড রাউন্ডে যাবে। যদিও প্রথম দুইটা ম্যাচই বড় ম্যাচ, শ্রীলঙ্কা ও সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে। টি-টুয়েন্টি খুবই অনিশ্চয়তার খেলা। যেকোনো দল যে কাউকে হারায় দিতে পারে যেকোনো সময়। নেদারল্যান্ডস-নেপালকে হালকাভাবে নেয়ার কিছু নাই। টি-টুয়েন্টিতে যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। অবশ্যই আমরা যাবো সেকেন্ড রাউন্ডে।’
পেস আক্রমণে তাসকিনের সঙ্গে আইপিএল খেলে আসা মোস্তাফিজুর রহমান জুটি বাধবেন। তাদের উপর বিশ্বকাপে দলের সাফল্য অনেকাংশে যে নির্ভর করবে, সেটি ২৯ বর্ষী তারকা নিজেও জানেন। শুধু নিজের নয়, কাটার মাস্টারের কাছ থেকেও উইকেটের প্রত্যাশা করছেন। হাসিমুখে অবশ্য রসিকতায় মাততেও ভুল করেননি।
‘আমি তো চাই মোস্তাফিজ ও আমার দুজনেরই উইকেট অনেক বেড়ে যাক। কিন্তু কেউ যেন কাউকে ছাড়াতে না পারি। তাহলে দুজনেরই উইকেট বাড়বে।’







