আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে আগ্রাসী হয়ে রান তোলা দলগুলোর লক্ষ্য থাকে। টি-টুয়েন্টিতে তো সেটা আরও বেশি করে আবশ্যক। সেসময়েই কিনা বাংলাদেশ উল্টোপথে হাঁটতে প্রস্তুত! শুরুতে পর্যাপ্ত রান আনা যাচ্ছে না, দ্রুত উইকেট হারিয়ে আবার মিডলঅর্ডার ব্যাটারদের বাড়তি চাপের বোঝায় ফেলা হচ্ছে। স্বল্প রানের পুঁজি নিয়ে বোলারদের লড়াই করাটা হয়ে পড়েছে বেশ কঠিন। তাই হিটিং নয়! বিশ্বকাপে সুপার এইটে প্রথম ম্যাচে পাওয়ার প্লেতে টাইগারদের পরিকল্পনা ছিল ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে দেখেশুনে খেলা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ নির্ধারিত সময়ের খানিক পরে শুরু হয়। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা লাল-সবুজের দল ধীরগতির উইকেটে খানিক অস্বস্তিতে ভুগতে থাকে। মিচেল স্টার্কের করা প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে তানজিদ হাসান তামিম বোল্ড হন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩৯ রান আসে। কন্ডিশন শুরুতে ব্যাটিং উপযোগী না থাকলেও এমন রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত সেই প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘আমাদের শুরুর দিকে একটু দেখে খেলারই পরিকল্পনা ছিল। কারণ আমরা আগের ম্যাচগুলোতে ওভাবে ভালো সূচনা পাচ্ছিলাম না। তাই আজকে ৬ ওভারে হাতে উইকেট নিয়ে কীভাবে শেষ করতে পারি, এটা একটা পরিকল্পনা ছিল। আমার মনে হয় না যেভাবে পরিকল্পনা ছিল, সেভাবে শেষ করতে পেরেছি।’
রানখরায় ভুগতে থাকা শান্ত সুপার এইটে এসে খেললেন ৪১ রানের ইনিংস। ৫ চার ও এক ছক্কার মার থাকলেও ৩৬ বল মোকাবিলা করায় স্ট্রাইকরেট সময় উপযোগী ছিল না।
নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকা লিটন ২৫ বলে ১৬ রানে সাজঘরে ফেরেন। তার অতি ধীরগতির ব্যাটিং টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোর পা পাওয়ার আরেকটি কারণ। এ প্রসঙ্গে শান্ত তেমন কোনো উত্তর দিতে পারেননি। নিজের আরও দীর্ঘসময় ক্রিজে থাকা উচিত ছিল, উপলব্ধি শান্তর।
‘আমার কাছে মনে হয়, যে সময় আউট হয়েছি সেসময় আউট না হয়ে যদি ১৭-১৮ পর্যন্ত নিয়ে ইনিংসটা নিতে পারতাম, হয়ত রানটা ১৬০-১৭০’র ভেতর যেতে পারত। সাথে এটাও বলব যে, শুরুর দিকে উইকেটটা একটু ধীর ছিল। খুব যে বলটা ব্যাটে আসছিল এমন না। সেট ব্যাটসম্যান থাকাটা খুব জরুরি ছিল।’
‘আমরা যখন ব্যাটিং করেছি, মনে হচ্ছিল, যে ১৬০-৭০ রানের ভেতরে থাকি তাহলে, অন্তত ১৬০ হলে একটা ভালো সংগ্রহ হতো। কারণ উইকেটটা শুরুর দিকে স্লো ছিল। পরে যদিও ওদের ব্যাটিংয়ের সময় বলব একটু তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।’







