টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রোমাঞ্চ ছড়ানোর শুরুটা করেছিল নামিবিয়া। এশিয়া কাপজয়ী শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে চমক দেয় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে অবশ্য হারতে হল। নামিবিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা দুই জয়ে সুপার টুয়েলভের আরও কাছাকাছি চলে গেল নেদারল্যান্ডস।
দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে এ-গ্রুপের শীর্ষে এখন ডাচরা। ২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নামিবিয়া। এক ম্যাচ করে খেলা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কা জয়ের মুখ দেখেনি। রানরেটের বিচারে আরব আমিরাত তৃতীয় ও শ্রীলঙ্কা টেবিলের তলানিতে আছে।
মঙ্গলবার জিলংয়ে প্রথম রাউন্ডের গ্রুপ এ’র খেলাটিতে টসে জিতে ব্যাট করা নামিবিয়া ২০ ওভারে বোর্ডে তুলতে পারে ৬ উইকেটে ১২১ রান। জবাবে ৩ বল বাকি থাকতে নেদারল্যান্ডস লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৫ উইকেট অক্ষত রেখে।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল নামিবিয়া। ওপেনার মাইকেল ফন লিনজেন ৩ চারে ২০ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
চতুর্থ উইকেটে স্টিফেন বার্ড ও জান ফ্রেইলিঙ্ক ৩১ রানের জুটি গড়লেও ব্যাটিং ছিল ধীরগতির। বার্ড ১৯ রান করে আউট হলে জুটি ভাঙে।
পঞ্চম উইকেটে ফ্রেইলিঙ্ক ও অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস ৪১ রান যোগ করেন, অবশ্য রানের গতিকে সচল রাখতে পারেননি তারা। ১৮তম ওভারে এসে নামিবিয়া ১০০ রানের গণ্ডি পার হয়। শেষ দুই ওভারে ১৯ রান নিয়ে বোর্ডে তোলে লড়াইয়ের পুঁজি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফ্রেইলিঙ্ক খেলেছিলেন ২৮ বলে ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস। এক চার ও এক ছয়ে ৪৩ রান করলেও এদিন ৪৮ বল খেলে ফেলেন তিনি। এরাসমাস ১৮ বল খেলে করেন ১৬ রান, ছিল না কোনো চার-ছক্কার মার।
ডেভিড ভিসে ৫ বলে এক চারে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। লঙ্কা বধের ম্যাচে স্লগ ওভারে ১৫ বলে ৩১ রানের ক্যামিও খেলা জেজে স্মিটকে আটে নামানো হয়। ৪ বলে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ডাচদের পক্ষে ১৮ রানে ২ উইকেট নেন বাস ডে লেডে। একটি করে উইকেট পকেটে পোরেন টিম প্রিঙ্গল, কলিন অ্যাকারম্যান, পল ফন মিকেরেন, রোয়েলফ ফন ডার মেরওয়ে।
জবাবে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তোলায় মনযোগী হন নেদারল্যান্ডসের দুই ওপেনার। ম্যাক্স ও’ডাউড ও বিক্রমজিৎ সিং পাওয়ার প্লেতে ৫১ রান জমা করেন।
৫৯ রানের মাথায় ভাঙে ওপেনিং জুটি। বার্নার্ড স্কোল্টজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ রান করা বিক্রমজিৎ।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ও’ডাউড ও বাস ডে লেড ৩৩ রানের জুটি গড়েন। দলকে সহজ জয়ের পথে নিতে থাকেন। ও’ডাউড ৩৫ বলে ৩৫ রান করার পর এরাসমাসের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন।
জয়ের পথে থাকা ডাচদের ব্যাটিংয়ে এরপরই নামে ধস। ২ উইকেটে ১০১ থেকে স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১০২ রান! এক রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে।
কমলা জার্সিধারীদের স্কোর একশো পেরোনোর পর স্মিটের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন টম কুপার। দুই বল পর কলিন অ্যাকারম্যানের উইকেট তুলে লো স্কোরিং ম্যাচ জমানোর ইঙ্গিত দেন স্মিট।
১৭তম ওভারে ফ্রেইলিঙ্ক বল হাতে পান মেডেন উইকেট। চতুর্থ বলে তিনি প্রতিপক্ষ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে ড্রেসিংরুমে পাঠান।
শেষ ৩ ওভারে নেদারল্যান্ডসের জয়ের দরকার পড়ে ২০ রান। হাতে ৫ উইকেট।
ডেভিড ভিসে ১৮তম ওভারে ৬ রানের বেশি দেননি। ১৯তম ওভারে বল হাতে নেন স্মিট। তৃতীয় বলে প্রিঙ্গলের নেয়া শট মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার লাফিয়ে ধরার চেষ্টা করলেও অল্পের জন্য বলের নাগাল পাননি। ব্যাটাররা দুবারের জন্য প্রান্ত বদল করেন।
শেষ ওভারে ডাচদের দরকার ছিল ৬ রান। ভিসের করা প্রথম বলেই মিডঅফ দিয়ে চার মারেন ডে লেডে। তৃতীয় বলে লেডে ২ রান নিলে নামিবিয়া হেরে যায়।
৩০ বলে ২ চারে ৩০ রানে অপরাজিত থেকে নেদারল্যান্ডসের জয়ে ভূমিকা রাখেন ম্যাচসেরা বাস ডে লেডে। ৮ রানে অপরাজিত থাকেন প্রিঙ্গল।
নামিবিয়ার পক্ষে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট পান স্মিট। একটি করে উইকেট নেন ফ্রেইলিঙ্ক ও স্কোল্টজ।







