ক্রিকেট

সিডনিতে দুঃস্বপ্ন সাকিবদের

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা মাঠে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করছে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ক্রিকেট ম্যাচে বাংলাদেশের ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা খেলছে, দর্শকরা স্টেডিয়ামে উপভোগ করছে. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

টসে হার দিয়ে দিনটা শুরু হয়েছিল। ম্যাচের শুরুটা অবশ্য রাঙিয়েছিলেন তাসকিন। দুই রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল সাউথ আফ্রিকা। পরে ভুল রিভিউ, নো বলের বন্যা, ফ্রি-হিটের সময় সোহানের অযথা নড়াচড়ায় ৫ রান জরিমানা, বোলারদের দলবেঁধে মার খাওয়া এবং ব্যাটারদের আত্মসমর্পণ, শেষে ১০৪ রানের শোচনীয় হারে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ।

টি-টুয়েন্টিতে রানের ব্যবধানে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরাজয়। ২০০৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০২ রানের হার ছিল আগের সর্বোচ্চটি।

বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আগে ব্যাট করা প্রোটিয়ারা ৫ উইকেটে ২০৫ রান তোলে। জবাবে সাকিব আল হাসানের দল ১৬.৩ ওভারে মাত্র ১০১ রানে অলআউট হয়েছে।

বড় ব্যবধানে জেতায় গ্রুপ ২তে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে সাউথ আফ্রিকা। ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তাদের রানরেট এখন +৫.২০০। ২ পয়েন্টে থেকে তিনে নেমে যাওয়া বাংলাদেশের রানরেট –২.৩৭৫। দুইয়ে থাকা ভারতের (০.০৫০) এক ম্যাচ খেলে ২ পয়েন্ট।

প্রোটিয়াদের হয়ে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টানা দুই ইনিংসে শতকের দেখা পাওয়া রুশো ৫৬ বলে ৭ চার ও ৮ ছক্কায় ১৯৪.৬৪ স্ট্রাইক রেটে ১০৯ রান করে ফেরেন। ডি কক ৩৮ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ১৬৫.৭৮ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৬৩ রান।

দুজনের ১৬৩ রান যোগ করে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েছেন তারা। জ্যাক ক্যালিস ও গ্রায়েম স্মিথের গড়া ৯৭ রানের জুটি ছিল আগের সেরা, ২০১০ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে।

একইসঙ্গে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি দ্বিতীয় উইকেটে চতুর্থ সর্বাধিক রানের জুটি। ২০১০ আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাহেলা জয়াবর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা করেছিলেন আগের রেকর্ড ১৬৬ রানের জুটি।

দুই রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সাউথ আফ্রিকা। পরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন ডি কক ও রুশো। বাংলাদেশের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়তে থাকে। পেসার-স্পিনাররা কেউই তাদের সামনে দাঁড়াতে পারেনি।

৩ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। তাসকিন ১ উইকেট পেলেও ৩ ওভারে রান দেন ৪৬। আফিফ এক ওভারে ১১ রান দিয়ে এক উইকেট তোলেন। বাকিদের খরুচে দিনে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি।

২০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ২ ওভারে ২৬ রান জমা করেছিলেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় ওভারে এনরিচ নর্টজের জোড়া শিকারে দুই ওপেনারের বিদায়ে শুরু বিপর্যয়ের। দ্রুতই সাকিব, আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ ধরেন ড্রেসিংরুমের পথ। ৬৬ রানে চলে যায় ৫ উইকেট।

তৃতীয় ওভারে নর্টজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৬ বলে ২ ছক্কায় ১৫ রান করা সৌম্য। একই ওভারে বোল্ড হন ৯ রান করা শান্ত। নর্টজের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন এক রান করা সাকিব। যদিও টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করেছিল। রিভিউ না নেয়ার খেসারত দিতে হয়।

পরে আফিফ ১ ও মিরাজ ১১ রান করে মাঠ ছাড়েন। মহারাজের বলে স্টাম্পিং হন কোনো রান না করা মোসাদ্দেক হোসেন। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারা নুরুল হাসান সোহান ২ রানে শামসিকে উইকেট দেন।

ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মাঝে টিকে ছিলেন তিনে নামা লিটন। ব্যক্তিগত ১৭ রানে কাগিসো রাবাদার বলে ক্যাচ দিয়ে পেয়েছিলেন জীবন। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে ৩১ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ৩৪ রান করে ত্রিস্তান স্টাবসের তালুবন্দি হন। রানের খাতা না খুলে রাবাদার থ্রোয়ে রান আউট হন হাসান মাহমুদ।

সাউথ আফ্রিকার পক্ষে ৩.৩ ওভারে ১০ রানে ৪ উইকেট নেন এনরিচ নর্টজে। ৪ ওভারে ২০ রানে ৩ উইকেট তাবরাইজ শামসির। একটি করে উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা ও কেশব মহারাজ।

বিষয়:আইসিসি টি-টুয়েন্টি বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২২ টি-টুয়েন্টি সাউথ আফ্রিকা সিডনি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…