রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনে সিনেমাঙ্গনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর কারণ, অভিনয়ের পাশাপাশি যে শিল্পীরা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তারা গা ঢাকা দিয়েছেন! অনেকে বিদেশে চলে গেছেন। কেউ আবার দেশে থাকলেও মামলার ভয়ে আত্মগোপনে আছেন।
শুধু শিল্পী নয়, অনেক প্রযোজক ও পরিচালক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তারাও প্রকাশ্যে আসছেন না। সিনেমাও বানাচ্ছেন না! অনেকে আবার দেশের এই সময়ে সিনেয়ায় লগ্নী করতে ভয় পাচ্ছেন! এতে করে সিনেমাঙ্গনের বেশীরভাগ শিল্পী টেকনিশিয়ানদের কাজ কমে গেছে। তারই সূত্র ধরে অনেককেই পড়তে হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকটে!
কোনো রাখঢাক ছাড়াই বিষয়টি স্বীকার করলেন ‘পোড়ামন’ খ্যাত নায়ক সাইমন সাদিক। নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে সাইমন বলেন, পরিচালকের মাধ্যমে আমরা শিল্পীরা কাজ করি। সেই পরিচালকরাই ক্রাইসিসে আছেন। তারা সিনেমা পরিচালনা ছাড়া অন্য কিছুতে সম্পৃক্ত না। প্রযোজক হয়তো সিনেমার বাইরে অন্যান্য ব্যবসায় জড়িত থাকেন, কিন্তু আমাদের কয়েক’শো পরিচালক আছেন, যারা কাজ করতে পারছেন না। আর কাজ না করলে সংসারই চলবে কীভাবে?
নিজের উদাহরণ টেনে সাইমন বলেন, আমি শিল্পী হলেও সিনেমার বাইরে অন্য পেশায় জড়িত নই। তবে কিছুদিন আগে থেকে চেষ্টা করছিলাম অন্যকিছুতে জড়িত হওয়ার, তবে এখনও পেরে উঠিনি। এখনো আমার মূল পেশা চলচ্চিত্র। আমিসহ অসংখ্য শিল্পীর রুটি রুজি পরিবার চলে সিনেমার আয়ের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের শাকিব ভাই ২৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। সিনেমার জগতে উনি সবচেয়ে বড় তারকা। তার অর্থনৈতিক অবস্থা সবার চেয়ে ভালো। তার মতো সিনিয়র যারা তারা সমৃদ্ধ। কিন্তু আমরা এসে দেখেছি ইন্ডাস্ট্রি ক্রাইসিসে ভরা। তার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা অন্যদের না। সেই জায়গা থেকে বলতে পারি, আমিসহ অনেক শিল্পীর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না।
প্রযোজক, পরিচালক এবং শিল্পীদের বাইরে টেকনিশিয়ানদের কথা উল্লেখ করে সাইমন সাদিক বলেন, ৯৯ পারসেন্ট টেকনিশিয়ানদের ঢাকায় নিজের ফ্ল্যাট নেই, তাদের বাসা ভাড়া দিতে হয়। সিনেমা হচ্ছে না, তাহলে তাদের অবস্থা কী ভাবুন! আসলে এই অবস্থায় প্রযোজক ছাড়া কারো অবস্থা ভালো না। অবস্থার পরিবর্তন করতে গেলে কাজের বিকল্প নেই। আমরা সবাই কাজে ফেরার দিকে তাকিয়ে আছি। যেমন আমি অভিনয়টা আবার শুরু করতে চাই। আমার আটটি সিনেমা সেন্সর হয়ে আছে। আমি চাই, একে একে সিনেমাগুলো মুক্তি পাক, দর্শক দেখুক।







