সিলেট থেকে: ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সিলেট টাইটানস। সাইম আইয়ুব ও খালেদ আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে অল্প রানেই আটকে দেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তবে ব্যাটে নেমে শুরুটা ভালো করলেও শেষদিকে রূপ নেয় নাটকীয়তায়। নিজের শেষ ওভারে হ্যাটট্রিক করে নোয়াখালীকে ম্যাচে ফেরান মেহেদী হাসান রানা। এই পেসার ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন। তাতেও রক্ষা হয়নি নোয়াখালীর। সিলেট শেষ বলে নাটকীয় ম্যাচ জিতে নেয়।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে নোয়াখালীকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ পুঁজি পায় বিপিএলের নবাগত দল নোয়াখালী। জবাবে পুরো ২০ ওভার খেলে এক উইকেটে জয় পায় সিলেট।
১৪৪ রানের লক্ষ্যে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান সাইম আইয়ুব। চাপ কাটিয়ে ওঠার আগেই ৯ রানে বোল্ড করে করে রনি তালুকদারকে ফেরান হাসান মাহমুদ। এরপর ১২ বলে ১৩ করে জাকির হাসান আউট হলে হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও মিরাজ।
অবশ্য দলকে জিতিয়ে ফিরতে পারেননি ইমন। ব্যক্তিগত ৬০ রানে তিনি জহির খানের বলে বোল্ড হয়ে যান। আর তাতেই মিরাজের সঙ্গে তার জুটি ভাঙে ৮৩ রানে। এরপর ব্যাটিংয়ে নামা আফিফ হোসেন ধ্রুবও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাকে আউট করেন রেজাউর রহমান রাজা। এই পেসারের বলে শর্ট ফাইন লেগে দারুণ ক্যাচ নিয়েছেন হাসান।
একপ্রান্ত আগলে রাখা মিরাজও ফিরে যান শেষদিকে। তিনি ৩৭ বলে ৩৩ রান করে আউট সাইড এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন রানার বলে। মিরাজকে আউট করার পরের বলে রানা এলবিডব্লিউ করে আউট করেন নাসুম আহমেদকে। এরপর হ্যাটট্রিক বলে খালেদ আহমেদকে আউট করেছেন।
ফলে বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিকের দেখা পান এই পেসার। খালেদ লংঅনে ইহসানউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে রানার হ্যাটট্রিক শিকার হয়েছেন। শেষদিকে ১৩ বলে ১৬ রান করে সিলেটের জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন ইথান ব্রুক। তবে রান নিতে গিয়ে উইকেটের মাঝে পড়ে গিয়ে রানআউট হন তিনি।
এক বলে দুই রানের সমীকরণের সামনে দাঁড়ায় সিলেট। সেই সময় ওয়াইড করে বসেন সাব্বির হোসেন। ফলে ম্যাচ টাই হয়ে যায়। শেষ বলে এক রান নিয়ে সিলেটকে ম্যাচ জেতান সালমান ইরশাদ। রানার ৪ উইকেট ছাড়াও দুটি উইকেট নেন হাসান। পাশাপাশি একটি করে উইকেট নেন রাজা ও জহির।
এরআগে সিলেট স্টেডিয়ামে ধীর গতিতে ব্যাট করা নোয়াখালী দেড়শ রানের পথে ছিল। খালেদ শেষ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। সিলেটের এ পেসার হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন। শেষ ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে তার শিকার হন জাকের আলী অনিক ও রেজাউর রহমান রাজা। শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক হয়নি, খালেদ শেষ দুই বলে দেন ৭ রান।
মোহাম্মদ আমির মাজ সাদাকাতকে প্যাভিলিয়নে ফেরানোর পর খালেদ নিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান সোহান ও হায়দার আলির উইকেট। এই তিন ব্যাটারই রানের খাতা খুলতে পারেননি, সাদাকাত ডাক মারেন ১ বলে, হাবিবুর ২ ও হায়দার ৩ বলে।
খালেদ ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আইয়ুব নেন ২ উইকেট। আমির ২৫ রান খরচ করে নেন এক উইকেট।







