সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি-এর অটাম-২০২৫ ফ্রেশারস রিসেপশন ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এএসএম রিদওয়ানুর রহমান।

তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো আলোকিত মানুষ হওয়া। নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে শিক্ষাজীবনের এই ধাপে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন কেবল পুঁথিগত বিদ্যার সীমায় আবদ্ধ নয়, এটি মুক্তচিন্তা, উদ্ভাবনী ধারণা ও নতুন দিগন্তের সূচনা। এখানে স্বাধীনতার সুযোগ আছে, তবে স্বাধীনতা মানে যা খুশি তা করা নয়। স্বাধীনতার সাথে থাকতে হবে শৃঙ্খলাবোধ, শ্রদ্ধাশীলতা ও সহনশীলতা। মতের ভিন্নতা থাকলেও তা হতে হবে মার্জিত, গঠনমূলক ও শালীন।
মেজর জেনারেল রিদওয়ানুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা দিন দিন আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শফিকুল হোসেন (কমান্ডার, ১১ পদাতিক ব্রিগেড), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান (কমান্ডার, ৫২ পদাতিক ব্রিগেড), ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য মুহিতুল বারী রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. তাহের বিল্লাল খলিফা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ইশরাত ইবনে ইসমাইল এবং নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাহিকুল হক সিদ্দিকী।
ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা ইতোমধ্যে গুগল, অ্যামাজনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে কর্মরত। শুধু শিক্ষা নয়, মানবিক, হৃদয়বান ও সহনশীল মানুষ তৈরি করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
তানভীর রহমান চৌধুরী বলেন, “যে স্বপ্ন নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই আমরা হাঁটছি। একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় শিক্ষামান বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক ও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও নবীন শিক্ষার্থীরা।
ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিন মাসুদ কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র লেকচারার সাইয়েদা নাজমুর সিনহা মুনা।

প্রধান অতিথিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বিএনসিসির একটি সুসজ্জিত দল। অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা করে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট গ্রুপ।








