সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদারীপুরের ৬টি কলেজ চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার ফলে এ ফলাফল অর্জন হয়েছে। একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে শিক্ষার উন্নয়নে ঈর্ষণীয় অবদান রাখতে পারে- পরীক্ষায় এ ভালো ফলাফল তারই প্রমাণ বহন করে।
সৈয়দ আবুল হোসেন প্রতিষ্ঠিত ৬টি কলেজ হলো- সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ, ডি. কে. আইডিয়াল সৈয়দ আতাহার আলী একাডেমী এন্ড কলেজ, কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, খোয়াজপুর, এবিসিকে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ এবং খাসেরহাট সৈয়দ আবুল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এ কলেজগুলো নিয়মিত পাঠদান, এক্সট্রা কারিকুলামসহ একজন ছাত্রকে পরিশীলিত করে গড়ে তুলতে যথাযথ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্লোগান হলো- ‘আদব, মহব্বত, বুদ্ধি ও সাহস’।
পাঠদানের সাথে এ বিষয়গুলোর সমন্বয় করে শিক্ষাদান করা হয়। কলেজগুলোর সামগ্রিক ফলাফলে তা দৃশ্যমান। এ কলেজগুলোর ২০২৩ সালের পাসের হার গড়ে শতকরা ৯০ ভাগ। ‘জিপিএ-৫’ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯০ জন। এলাকার জনগণ এ ভালো ফলাফলে অত্যন্ত আনন্দিত।
আগামী দিনে কলেজগুলোর সামগ্রিক পরীক্ষার ফলাফলে আরো ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে এলাকার জনগণ মনে করে। খাসেরহাট সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের ফলাফল অপেক্ষাকৃত খারাপ হওয়ায় এলাকার জনগণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্ঞানার্জন বিশ্বের সব দেশে স্বীকৃত। তাই বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষা-উদ্যোক্তা সৈয়দ আবুল হোসেন বলেছেন- ‘শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কারখানা হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মানুষকে দক্ষ, কর্মঠ, যোগ্য, বিনয়ী, বিদ্বান, বুদ্ধিমান করে গড়ে তোলা অন্যতম মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’।
মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো শিক্ষাপ্রদানে নির্মিত অবকাঠামো, যেখানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকের দিক-নির্দেশনায় পড়ানো হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন চাইল্ডকেয়ার, প্রি-স্কুল, প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাপ্রসার ও শিক্ষাপরিবেশ প্রদানের মাধ্যমে জ্ঞানদান করে।

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল-কলেজগুলোর অবকাঠামো ও পরিবেশের সমন্বয় করে সুষ্ঠু শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এটা প্রমাণিত যে, বর্তমান সভ্যজগতে শিক্ষায় জ্ঞানার্জেনের একমাত্র মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ শিক্ষা স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েই অর্জন করতে হয়। এ স্কুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষা দেয়া হয়। বিদ্যাশিক্ষা তথা জ্ঞানার্জনের কেন্দ্র হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
শিক্ষার মাধ্যমেই আমরা জ্ঞান অর্জন করি এবং জীবনে উন্নতি লাভ করি। যেকোন কাজে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আপনি যদি শিক্ষাগ্রহণ না করেন, তাহলে আপনি বর্তমানযুগে প্রতিযোগিতা টিকে থাকতে পারবেন না। বর্তমান যুগে টিকে থাকতে হলে শিক্ষালাভ অপরিহার্য।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ছিলেন স্বভাবগতভাবে একজন বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি। একজন শিক্ষা-উদ্যোক্তা। এলাকায় অসংখ্য প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত। তিনি বাংলাদেশসহ তার নিজ এলাকা মাদারীপুরে ১৫০টির অধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বেশ সংখ্যক মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
এলাকায় ৬টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর মধ্যে ৪টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় ব্যাপক শিক্ষাপ্রসার। শিক্ষাপ্রসারের মধ্যে দিয়ে মানুষকে শিক্ষিত করা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া। এলাকার প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করা। দেশের উন্নয়নে সবাইকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করা। সমাজে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছিল সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমী অ্যান্ড উইমেন্স কলেজ।
জানা যায়, সৈয়দ আবুল হোসেন-এর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। তার সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। আজ এলাকায় ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে। মাদারীপুরে সৈয়দ আবুল প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্ঞানবিতরণে একেকটি আলোকবর্তিকা। শিক্ষার মাধ্যমে সব পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে উচ্চপদে কর্মরত। সরকারি সার্ভিসের উচ্চপদে সমাসীন। তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা আজ কেউ কেউ সরকারের প্রশাসন সার্ভিসের জেলা প্রশাসক, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পর্যায়ে রয়েছেন। কেউ পুলিশ সার্ভিসে এসপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত আইজি পদে কর্মরত। কেউ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে কাজ করছেন। অনেকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের শীর্ষ পর্যায়ে খ্যাতিমান। অনেকে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পড়ুয়া ৮ জন শিক্ষার্থী এখন অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অনেকেই উচ্চতর গবেষণায় নিয়োজিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যে মানুষের জীবন গড়ার কারিগর তা প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ প্রতিফলিত হয়েছে।

বিশ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অব্যাহত বিজয় অভিযাত্রা ছিল। সৈয়দ আবুল হোসেন প্রতিষ্ঠিত কলেজগুলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ধারার সাথে সমন্বয় করে পরিচালিত হচ্ছে। একুশ শতকে পৃথিবীর সব মানুষের সামনে শান্তিময় নতুন বিশ্ব তৈরির স্বপ্ন। কিন্তু একুশ শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কি কি বিস্ময় অপেক্ষা করছে আমরা তা না জানলেও বিশ শতকের অভিজ্ঞতা বলে, পৃথিবীতে একুশ শতকের পরিবর্তন ও সম্ভাবনা অবধারিত। তাই একুশ শতকের চিন্তার আলোকে আমাদের শিক্ষা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে পরিবর্তন আনা অস্বীকার্য। এজন্য একুশ শতকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা পরিবেশে স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থা যোগ করতে হবে। জাতির অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন হবে যুযোপযোগী শিক্ষাপ্রসারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো ও শিক্ষাপরিবেশে পরিবর্তন আনা। তা না হলে একুশ শতকের অগ্রযাত্রায় আমরা পিছিয়ে যাব।
স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের আমাদের স্বপ্নপূরণ হবে না। এক্ষেত্রে একমাত্র স্মার্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই পারবে কাঙ্খিত অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে। সৈয়দ আবুল হোসেন প্রতিষ্ঠিত কলেজগুলো সেই লক্ষ্য অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা সবার।
আজ সৈয়দ আবুল হোসেন এ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু তার গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশে শিক্ষাপ্রসারে অবদান রেখে চলেছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।







