বরিশালে শ্লীলতাহানির পর কটূক্তি ও পারিবারিক বঞ্চনায় লোকলজ্জার ভয়ে জান্নাতি (১৪) নামে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। নগরীর গোরস্থান রোডের ধোপাবাড়ির মোড় এলাকার ভাড়া বাসায় বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে ওই কিশোরী আত্মহনন করেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে জান্নাতি বাসায় একা থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়া শারমিনের ভাই বাপ্পি তার শ্লীলতাহানী করে। পরে শারমিন ও তার ভাইয়ের স্ত্রী জান্নাতিকে ঘটনার বিষয়ে উল্টো দোষারোপ ও কটুক্তি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশীর এমন আচরণে লোকলজ্জার ভয়ে জান্নাতি ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
জান্নাতি ধোপাবাড়ির মোড় এলাকার ভাড়াটিয়া সুলতান হোসেনের সৎ মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমানুল্লাহ আল বারী জানান, দিনমজুর সুলতান ও পারভীন বেগম দম্পত্তির প্রথম ঘরের সন্তান জান্নাতি। তারা একই সঙ্গে ধোপাবাড়ির মোড় এলাকায় ভাড়া থাকে। সুলতানের ছোট সন্তান অসুস্থ থাকায় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে অসুস্থ সন্তানের সঙ্গে সুলতান ও তার স্ত্রী হাসপাতালে ছিল। বুধবার দুপুরে বাসায় একা ছিল জান্নাতি। এ সুযোগে পাশের ভাড়াটিয়া শারমিনের ভাই বাপ্পি তার শ্লীলতাহানি করে। বিষয়টি নিয়ে ভাইয়ের পক্ষ হয়ে শারমিন ও তার ভাইয়ের স্ত্রী কিশোরী জান্নাতিকে দোষারোপ করে। দিনভর এই নিয়ে জান্নাতিকে নানা কটূক্তিও করে তারা। প্রতিবেশীর কটূক্তি ও পারিবারিক বঞ্চনার শিকার হয়ে জান্নাতি লোকলজ্জার ভয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়।
আমানুল্লাহ আল বারী আরও জানান, জান্নাতি মধ্যে ঢুকে দরজা-জানালা আটকে দেওয়ার ঘটনা তার ছোট ভাই দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। তখন প্রতিবেশী শারমিন পাশের ঘরের ছিদ্র দিয়ে জান্নাতিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তারা দরজা ভেঙে জান্নাতির ফাঁস কেটে নিচে নামায়। কিন্তু তার আগেই জান্নাতির মৃত্যু হয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







