পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার কাবাল পুলিশ স্টেশনে আত্মঘাতী হামলায় পুলিশসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) কাবাল পুলিশ স্টেশনের প্রবেশপথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন বলে জানান স্থানীয় পুলিশ।
সোয়াত পুলিশের মুখপাত্র নাসির ইকবাল কারিমি নিহতের সংখ্যা ১৪ জন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সোয়াত অঞ্চলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ফিদা হুসাইন জানিয়েছিলেন, হামলায় চার পুলিশ সদস্যসহ সাতজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।
সোয়াতের জেলা পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) উমর খান জানান, পুলিশ সদস্যরা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশির জন্য থামানোর চেষ্টা করলে তিনি পুলিশ স্টেশনের গেটের সামনে বিস্ফোরণ ঘটান।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। আহতদের সাইদু শরিফ টিচিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় কাবাল চকে সোয়াতে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বড় জনসমাবেশ চলছিল। সেখানে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সমাবেশের শেষ বক্তা বক্তব্য দেওয়ার সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় উপস্থিত জনতার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাদ্যম ‘ডন’।
সমাবেশে বক্তারা সোয়াতে সন্ত্রাসবাদের পুনরুত্থানের নিন্দা জানিয়ে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ দমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে একই দিন পেশোয়ার-ইসলামাবাদ মোটরওয়ের টোল প্লাজার কাছে পৃথক এক আইইডি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া গত ৩০ জুলাই হাঙ্গু জেলার একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলায় নয় পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত উপজাতীয় অঞ্চল বাদ দিয়ে কেপি প্রদেশে জুলাই মাসে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত ঘটনায় ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যা জুন মাসের ৭৫ জনের তুলনায় ১০৫ শতাংশ বেশি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রদেশটির গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেন, ‘কাপুরুষোচিত হামলার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা জাতির মনোবল ভেঙে দিতে পারবে না।’
প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিও হামলার নিন্দা জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, শান্তিবিরোধী শক্তিকে তাদের অপতৎপরতায় কখনোই সফল হতে দেওয়া হবে না।







