কোনো সুন্দর দৃশ্য দেখে, আকাশভরা তারা কিংবা পাহাড়-সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে অনেকের মুখ থেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে আসে “সুবহানাল্লাহ!” কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, এই ছোট্ট শব্দটির ইতিহাস কত পুরোনো?
“সুবহানাল্লাহ” আরবি শব্দ। এর অর্থ “আল্লাহ সব ধরনের ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।” অর্থাৎ, এই শব্দের মাধ্যমে একজন মুসলিম মহান আল্লাহর পরিপূর্ণতা ও মহিমার স্বীকৃতি দেন।
মজার বিষয় হলো, “সুবহানাল্লাহ” শুধু মুসলিমদের মুখে মুখে প্রচলিত কোনো শব্দ নয়; এটি পবিত্র কুরআনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। কুরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহ নিজেই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। এমনকি সুরা আল-ইসরা শুরু হয়েছে “সুবহানাল্লাজি…” শব্দ দিয়ে।
এই যিকিরের ইতিহাস ইসলামের একেবারে শুরুর দিক থেকেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নিয়মিত “সুবহানাল্লাহ” পড়তেন এবং সাহাবিদেরও বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করতে উৎসাহ দিতেন। নামাজের পর তাসবিহ পড়ার যে প্রচলন আজও দেখা যায়, সেটিও তাঁর শেখানো সুন্নাহর অংশ।
শুধু তাই নয়, আগের নবীদের জীবনেও আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণার নজির রয়েছে। হজরত ইউনুস (আ.) যখন মাছের পেটের অন্ধকারে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, তখনও তিনি বলেছিলেন, “সুবহানাকা”—অর্থাৎ, আপনি পবিত্র।
শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও “সুবহানাল্লাহ” শব্দটির গুরুত্ব একটুও কমেনি। আজ বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান আনন্দ, বিস্ময়, কৃতজ্ঞতা কিংবা আল্লাহর সৃষ্টির সৌন্দর্য দেখে একই শব্দ উচ্চারণ করেন।
অনেকে মনে করেন, “সুবহানাল্লাহ” শুধু একটি যিকির নয়, এটি একজন মানুষের মনে আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিনয় প্রকাশের একটি সহজ মাধ্যম। কয়েকটি অক্ষরের এই শব্দটি তাই যুগের পর যুগ ধরে মুসলিমদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
হয়তো এ কারণেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে একজন মুসলিমের মুখে “সুবহানাল্লাহ” শুনলে অন্য একজন মুসলিমও সহজেই এর গভীর অর্থ অনুভব করতে পারেন।







