ভারতের উড়িষ্যায় যৌন হয়রানি শিকার হওয়া ও সে বিষয়ে অভিযোগে ব্যবস্থা না নেওয়ার হতাশায় নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেন এক নারী শিক্ষার্থী। একজন কলেজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিল নিহত শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
২২ বছর বয়সী ওই কলেজ শিক্ষার্থী তিন দিন ধরে মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর গতকাল রাতে মারা যান বলে জানা যায়।
ঘটনার শিকার শিক্ষার্থী বালাসোরের ফকির মোহন স্বায়ত্তশাসিত কলেজের বি.এড. এর ছাত্রী ছিলেন। গত ১ জুলাই তার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে লেখা একটি চিঠিতে অধ্যাপকের দ্বারা কয়েক মাস ধরে যৌন নির্যাতন এবং হুমকির কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছিল। এরপর সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।
এরপর ১২ জুলাই কলেজ প্রাঙ্গণে ওই শিক্ষার্থী এবং আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রী কলেজ গেটের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেছিল।
সহপাঠীদের মতে, বিক্ষোভের মধ্য থেকে মেয়েটি হঠাৎ উঠে অধ্যক্ষের অফিসের কাছে দৌড়ে যায় এবং নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীর ৯০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষনিকভাবে ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি ছাত্রীর মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
পুলিশ কলেজের বিভাগীয় প্রধান এবং কলেজের অধ্যক্ষ দিলীপ ঘোষ উভয়কেই গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) ওই ছাত্রীর বাবা এনডিটিভিকে জানান, কলেজের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটির সদস্যরা ও সেই অধ্যক্ষ তার মেয়ে এবং পরিবারকে অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন।
উড়িষ্যার এই ঘটনাটি জনমনে প্রতিবাদ, রাজনৈতিক ক্ষোভ এবং জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবি তুলেছে।







